X
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮

সেকশনস

রোহিঙ্গাদের জন্য প্রথম দিনেই এক-তৃতীয়াংশ তহবিল সংগ্রহ

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ১৮:০৪

চার বছর পার হয়ে গেলেও বাংলাদেশে অবস্থানকারী ১১ লাখ রোহিঙ্গার একজনও ফেরত যায়নি। মিয়ানমার সরকারের অসহযোগিতার কারণে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (১৮ মে) চতুর্থবারের মতো ৯৪ কোটি ডলারের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান- জেআরপি ভার্চুয়ালি ঘোষণা হয়েছে। ঘোষণার প্রথম দিনেই ৩৬ কোটি ডলার তহবিল জোগাড় করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট অর্থের এক-তৃতীয়াংশ।  

জেআরপি ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও দক্ষিণ কোরিয়া তহবিলে প্রায় ২১ কোটি ডলার যোগান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া কানাডাসহ কয়েকটি দেশ আগেই তহবিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ঘোষণার প্রথম দিনের শেষে ৩৬ কোটি ডলার জোগাড় করা সম্ভব হয়েছে, যা মোট অর্থের এক-তৃতীয়াংশ। যে অর্থ যোগাড় করা হবে তার পুরোটাই জাতিসংঘ ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে খরচ করা হবে। এই সংস্থাগুলো যেন সুষ্ঠুভাবে তহবিল খরচ করতে পারে, সেজন্য বাংলাদেশ নিজেদের অর্থে সব ব্যবস্থা করবে।

উল্লেখ্য, গত বছর জেআরপির পরিমাণ ছিল ১০০ কোটি ডলার, কিন্তু এরমধ্যে ৬১ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহ করা গিয়েছিল।

জেআরপি ঘোষণা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন,‘প্রতি জেআরপি ঘোষণার সময়ে আমরা আশা করি, এটাই শেষ ঘোষণা হবে। কিন্তু সমস্যা দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে আবারও আরেকটি জেআরপি ঘোষণা করা হলো। এ মুহূর্তে আমার এবং অন্যদের মনেও এই প্রশ্ন এসেছে— কতদিন এই বোঝা আমাদের বহন করতে হবে।  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কতদিন এই বোঝা টেনে নিয়ে যেতে পারবে।’

বাংলাদেশের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হচ্ছে— রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ফেরতে যাওয়াই হচ্ছে এর সমাধান। যেকোনও তহবিল সংগ্রহের সময়ে এই সমাধানের বিষয়টি সবার মনে রাখা উচিত। মানবিক সহায়তা দরকার কিন্তু, এটি চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়। জাতিসংঘসহ অন্যদের চিরস্থায়ী সমাধানের প্রতি নজর দিতে হবে।’

রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে ৬,৮০০ একর বন নষ্ট হয়ে গেছে। এই রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় জনগণের ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

শাহরিয়ার আলম  বলেন, ‘ক্যাম্পে ঘনসবতি কমানোর জন্য সরকার নিজে ৩৫ কোটি ডলার ব্যয়ে ভাসানচরে বসতি তৈরি করেছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে— এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়ার। এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার গেছে।’

ভাসানচর নিয়ে সমালোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘অনেক সময়ে আমাদের ইতিবাচক উদ্যোগকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় এবং ভিন্নভাবে চিত্রিত করা হয়। কিন্তু এ ধরনের প্রয়াস এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে না। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জাতিসংঘ ও কয়েকজন রাষ্ট্রদূত ভাসানচর পরিদর্শন করেছেন। আমরা আশা করি, জাতিসংঘ ভাসানচরে যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব গ্রহণ করবে।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০১৭ সালে যখন রোহিঙ্গারা দলে দলে পালিয়ে আসছিল তখন বাংলাদেশ তার দরজা খুলে দিয়েছিল। অন্য কোনও দেশ কোনও শরণার্থীর জন্য তাদের দরজা এভাবে খুলে দেয়নি। আমরা প্রথম থেকেই তাদের মঙ্গলের জন্য কাজ করছি। এমনকি করোনার সময়েও এটি বাদ যায়নি।’ প্রথম থেকেই এদের দেখাশোনা করার জন্য বিপুল পরিমাণ সরকারি কর্মকর্তাকে ক্যাম্পে নিয়োগ করা হয় বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘চার বছর হয়ে গেছে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে এবং এখন সময় হয়েছে সমাধানের দিকে নজর দেওয়ার, যাতে করে এই মাত্রায় সম্পদ সংগ্রহহের জন্য আমাদের চেষ্টা করা না লাগে।’ 

রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাসহ অন্যান্য উদ্যোগ এমনভাবে নিতে হবে, যাতে করে রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার পরে মিয়ানমার সমাজে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আমরা শিক্ষার ক্ষেত্রে রাজি হয়েছি, কিন্তু এই শিক্ষা অবশ্যই মিয়ানমারের কারিকুলাম অনুসরণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সব উদ্যোগই সাময়িক হতে হবে এবং পরিবেশের বিষয়টি আমাদের চিন্তা করতে হবে, যাতে করে জেআরপি যেন কোনও ধরনের ক্ষতি না করে।’

 

/এসএসজেড/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

ঢাকায় ৬০ নমুনার ৬৮ শতাংশ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট!

ঢাকায় ৬০ নমুনার ৬৮ শতাংশ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট!

এবার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, বিশ্বব্যাংক বলছে অর্ধেক

এবার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, বিশ্বব্যাংক বলছে অর্ধেক

আসামির বয়স নির্ধারণ যেন পুলিশের ‘ইচ্ছে মতো’ না হয়: হাইকোর্ট

আসামির বয়স নির্ধারণ যেন পুলিশের ‘ইচ্ছে মতো’ না হয়: হাইকোর্ট

সুনাগরিক তৈরিতে মন্দিরভিত্তিক গণশিক্ষা বিশেষ ভূমিকা রাখছে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

সুনাগরিক তৈরিতে মন্দিরভিত্তিক গণশিক্ষা বিশেষ ভূমিকা রাখছে: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

সাইবার অপরাধ: সতর্কতার মাঝেই উপায় দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

সাইবার অপরাধ: সতর্কতার মাঝেই উপায় দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

বঙ্গবন্ধুর রচিত বই জাতির ঐতিহাসিক দলিল: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর রচিত বই জাতির ঐতিহাসিক দলিল: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: হাতে তৈরি পণ্য রফতানিতে মিলবে নগদ সহায়তা

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: হাতে তৈরি পণ্য রফতানিতে মিলবে নগদ সহায়তা

কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরে পদায়ন নিয়ে অসন্তোষ

কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরে পদায়ন নিয়ে অসন্তোষ

তৈরি পোশাক খাতের বৈশ্বিক সম্মেলন ২২ জুন থেকে শুরু

তৈরি পোশাক খাতের বৈশ্বিক সম্মেলন ২২ জুন থেকে শুরু

বিদেশগামী কর্মীরা পাচ্ছেন সিনোফার্মের টিকা

বিদেশগামী কর্মীরা পাচ্ছেন সিনোফার্মের টিকা

বিমা খাতের গ্রাহকদের জন্য সরকারের টার্গেট নির্ধারণ

বিমা খাতের গ্রাহকদের জন্য সরকারের টার্গেট নির্ধারণ

কোভিশিল্ডের টিকা এক কোটি ৮৪ হাজার শেষ

কোভিশিল্ডের টিকা এক কোটি ৮৪ হাজার শেষ

সর্বশেষ

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: পুতিন

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ: পুতিন

অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নক আউট পর্বে নেদারল্যান্ডস

অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নক আউট পর্বে নেদারল্যান্ডস

নীল জল থেকে উঠে জড়ালেন অন্তর্জালে!

নীল জল থেকে উঠে জড়ালেন অন্তর্জালে!

ব্রাজিলের অলিম্পিক দলে নেই নেইমার!

ব্রাজিলের অলিম্পিক দলে নেই নেইমার!

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে মমতা

নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে মমতা

যানবাহন উৎপাদন ও বিপণনে ট্রেডমার্ক সনদ পেলো ওয়ালটন

যানবাহন উৎপাদন ও বিপণনে ট্রেডমার্ক সনদ পেলো ওয়ালটন

প্রথম ব্যাচের তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিলো ফুডপ্যান্ডা

প্রথম ব্যাচের তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিলো ফুডপ্যান্ডা

সিলেটের নতুন কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

সিলেটের নতুন কারাগারে প্রথম ফাঁসি কার্যকর

ঢাকায় ৬০ নমুনার ৬৮ শতাংশ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট!

ঢাকায় ৬০ নমুনার ৬৮ শতাংশ ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট!

মাঠে নেমেই বেলজিয়ামকে বদলে দিলেন ডি ব্রুইনে

মাঠে নেমেই বেলজিয়ামকে বদলে দিলেন ডি ব্রুইনে

কুড়িগ্রামে দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ

কুড়িগ্রামে দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ

হাজী দানেশে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের আহ্বান

হাজী দানেশে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের আহ্বান

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

এবার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, বিশ্বব্যাংক বলছে অর্ধেক

এবার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১০ শতাংশ, বিশ্বব্যাংক বলছে অর্ধেক

বিদেশগামী কর্মীরা পাচ্ছেন সিনোফার্মের টিকা

বিদেশগামী কর্মীরা পাচ্ছেন সিনোফার্মের টিকা

কোভিশিল্ডের টিকা এক কোটি ৮৪ হাজার শেষ

কোভিশিল্ডের টিকা এক কোটি ৮৪ হাজার শেষ

গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

ভূমির অবক্ষয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী

ভূমির অবক্ষয় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী

বাংলাদেশ এখন স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক চায়

বাংলাদেশ এখন স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক চায়

টিকা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: চীনা রাষ্ট্রদূত

টিকা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে: চীনা রাষ্ট্রদূত

দুষ্কৃতিকারীদের রেহাই নেই: বঙ্গবন্ধু

দুষ্কৃতিকারীদের রেহাই নেই: বঙ্গবন্ধু

১০ নম্বর প্রজ্ঞাপন জারি, এরপরও যা বন্ধ

১০ নম্বর প্রজ্ঞাপন জারি, এরপরও যা বন্ধ

দেশে আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশে আন্তর্জাতিক মানের ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune