X
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

সিনোফার্মের টিকা যারা পাবেন, যারা পাবেন না  

আপডেট : ১৮ জুন ২০২১, ১৮:০৩

১৯ জুন (শনিবার) থেকে আবারও করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। চীন সরকারের উপহার দেওয়া সিনোফার্মের টিকা দিয়েই প্রথম ডোজ শুরুর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। টিকা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ১০ ক্যাটাগরির মানুষ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া ছয় ক্যাটাগরির মানুষকে এ টিকা দিতে বিরত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।  

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলায় ৪টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাধ্যমে দেওয়া হবে সিনোফার্মের ভ্যাকসিন। এই চারটি হাসপাতাল হচ্ছে—ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এসব হাসপাতালে একটি করে টিকা কেন্দ্র হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি করে বুথ থাকবে। তাছাড়া ঢাকা জেলা বাদে প্রতি জেলায় একটি করে ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্র হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি করে বুথ থাকবে। তবে বুথ চালু করতে হবে টিকা গ্রহীতার সংখ্যার ওপর নির্ভর করে। ১৫০-২০০ জনের জন্য একটি বুথ চালু করা যাবে, ২০০-এর বেশি গ্রহীতা হলে দুটি বুথ চালু করতে হবে।

এছাড়া যেসব জেলায় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নেই, সেসব জেলায় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের যেকোনও একটিকে ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা দেবেন সিভিল সার্জন। ওই কেন্দ্রে দুটি বুথ থাকবে। টিকা কেন্দ্র শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ডোজ চার সপ্তাহ পর

সিনোফার্মের টিকার প্রথম ডোজের সঙ্গে দ্বিতীয় ডোজের ব্যবধান নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ সপ্তাহ বা ২৮ দিন। এছাড়া ভ্যাকসিন কেন্দ্রের অন্যান্য ব্যবস্থাপনা আগের মতোই প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহে যারা আগে নিবন্ধন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন পাননি, তাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে এসএমএস’র মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কেন্দ্র পরিবর্তন করে ভ্যাকসিন নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।

যাদের জন্য সিনোফার্মের ভ্যাকসিন

১০ ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের এই ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ভ্যাকসিনের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রে ইতোমধ্যে যারা ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও ভ্যাকসিন পাননি, তাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা যারা আগে ভ্যাকসিন নেননি, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিদেশগামী বাংলাদেশি কর্মী, যাদের বিএমইটি নিবন্ধন কিংবা কার্ড আছে, সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা, সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি, সরকারি ম্যাটস ও সরকারি আইএইচটি’র শিক্ষার্থীরা, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা, বিডা’র আওতাধীন ও অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক সরকারি প্রকল্পে (পদ্মা সেতু প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, এক্সপ্রেস হাইওয়ে প্রকল্প, রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র) সম্পৃক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সারাদেশে কোভিড-১৯ মৃতদেহ সৎকারে নিয়োজিত ওয়ার্ড/পৌরসভার কর্মী এবং বাংলাদেশে বসবাসরত চীনা নাগরিকরা পাবেন সিনোফার্মের এই টিকা।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, আগে অন্য কোনও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। নিবন্ধন ছাড়া কেউ ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে পারবে না। তাছাড়া অন্য কোনও দেশ থেকে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করে বাংলাদেশে এলে দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে এ ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থী, সরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি, সরকারি ম্যাটস এবং সরকারি আইএইচটি শিক্ষার্থীরা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে স্টুডেন্ট আইডি’র তথ্য লিপিবদ্ধ করে ভ্যাকসিন নিতে পারবেন, কিন্তু দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন গ্রহণের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র সুরক্ষায় ওয়েব পোর্টালে/অ্যাপে নিবন্ধন করে নিতে হবে।

যাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না

সিনোফার্মের এই ভ্যাকসিন ১৮ বছরের নিচে কাউকে দেওয়া হবে না। ভ্যাকসিন গ্রহণের সময় জ্বর থাকলে বা অসুস্থ থাকলে, ভ্যাকসিনজনিত অ্যালার্জির পূর্ব ইতিহাস থাকলে, প্রথম ডোজ গ্রহণের পর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে তিনি এ ভ্যাকসিন নিতে পারবেন না। অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ঘা, অ্যাজমা, কিডনি রোগ, ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন এমন ব্যক্তি, ক্যানসারে আক্রান্ত এবং স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জনগোষ্ঠীর ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, ১৯ জুন থেকে আবারও টিকার কার্যক্রম শুরু হবে। ঢাকায় যেসব মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট-কলেজ আছে সেখানে আমরা আবার প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া শুরু করবো। সিনোফার্ম ও ফাইজারের টিকা দিয়ে এ কার্যক্রম চলবে। ভ্যাকসিন সরবরাহ অব্যাহত থাকলে কার্যক্রম চলতে থাকবে। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জেলাতেই সিনোফার্মের টিকা পৌঁছে গেছে বলেও জানান তিনি।

১৯ জুন থেকেই টিকা দেওয়া হবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বাংলাদেশকে মোট ১১ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা উপহার দিয়েছে চীন। এরমধ্যে ৩০ হাজার ডোজ এ দেশে কর্মরত নিজেদের কর্মীদের জন্য নেয় চীন। বাকি ১০ লাখ ৭০ হাজার ডোজ টিকা দেশের ৫ লাখ ৩৫ হাজার মানুষকে দেওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে চীন থেকে পাঁচ লাখ ডোজ সিনোফার্ম টিকা দেশে এসেছিল। এরপর ১৩ জুন চীনের দ্বিতীয় দফা উপহারের ছয় লাখ ডোজ সিনোফার্ম ভ্যাকসিন দেশে এসে পৌঁছায়। বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে করোনা প্রতিরোধে চীনের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

 

/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

করোনায় মোট মৃত্যুর ২৫ ভাগই জুলাইতে!

করোনায় মোট মৃত্যুর ২৫ ভাগই জুলাইতে!

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১৩:১১

উদ্বাস্তুদের আশ্রিত দেশের সমাজে অন্তর্ভুক্ত বা রেখে দেওয়ার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের প্রস্তাব মেনে না নিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্ব ব্যাংকের ওই প্রস্তাব মেনে নিয়ে ওই সংস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ করলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বদলে তাদেরকে বাংলাদেশেই চিরতরে রেখে দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে মন্ত্রণালয়। এজন্য ওই প্রস্তাবের পরিবর্তন না হলে উদ্বাস্তু সংক্রান্ত কোনও অর্থ বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে না নেওয়ার লিখিত মতামত পাঠানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাছে বিশ্ব ব্যাংক তাদের প্রস্তাবিত 'রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক'টি মতামতের জন্য পাঠায় এবং চিঠিতে উল্লেখ করে- ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কোনও মতামত না পেলে ওই প্রস্তাব সরকার মেনে নিয়েছে বলে তারা ধরে নেবে। বিশ্ব ব্যাংকের এই রিফিউজি পলিসি রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য দেশে অবস্থিত সব উদ্বাস্তুর জন্য প্রযোজ্য।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে মন্ত্রণালয়।

ওই বৈশ্বিক ফ্রেমওয়ার্কের তিনটি উদ্দেশ্য হচ্ছে‑ ১. উদ্বাস্তু  ও হোস্ট কমিউনিটির জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা ২. উদ্বাস্তুরা যেদেশে অবস্থান করছে সেই সমাজে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া অথবা তাদের ফেরত পাঠানো এবং ৩. দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যাতে করে নতুন উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে জাতিসংঘ, বিশ্ব ব্যাংক ও পশ্চিমা বিশ্বের কিছু দেশ এই তিনটি উদ্দেশ্য আকারে-ইঙ্গিতে বা মুখে বলতো কিন্তু এই প্রথমবারের মতো তারা বিষয়টি লিখিত আকারে উপস্থাপন করলো।’

বিশ্ব ব্যাংকের প্রস্তাব মেনে নিলে রোহিঙ্গারা যেকোনো স্থানে চলাচল করতে পারবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অর্থাৎ শ্রমিক হিসাবে কাজ করতে পারবে বা ব্যবসা করতে পারবে। শুধু তাইনা তাদেরকে নিবন্ধনের আওতায় এনে সামাজিক পরিচয়পত্রও দিতে হবে বলে তিনি জানান।

সামাজিক পরিচয়পত্র

রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বেশি সম্পদ ব্যয় করছে বাংলাদেশ এবং অন্যান্য অনেক দেশ তাদের দেখ-ভালের জন্য জাতিসংঘকে অর্থ প্রদান করে। এই অর্থ প্রদানের পরিমাণ দিন-দিন কমে আসছে এবং এর ফলে বাড়তি বোঝা বাংলাদেশের ওপর চাপানোর একটি চেষ্টা আছে বিদেশিদের।

এ বিষয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদেশি অর্থদাতারা চাইছে রোহিঙ্গাদের উপার্জনের ব্যবস্থা‑ যাতে করে নিজেদের ব্যয় তারা নিজেরাই মেটাতে পারে। এছাড়া তাদের জন্য শিক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি, অবাধ চলাচলের বিষয়েও তারা জোর দিচ্ছে।’

এজন্য রোহিঙ্গাদের সিভিল নিবন্ধন অর্থাৎ পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধনসহ অন্যান্য বিষয়গুলো চালু করার প্রস্তাব করছে তারা বলে তিনি জানান।

প্রত্যাবাসনই একমাত্র পথ

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।’

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের জন্য যদি আমরা এইসব মেনে নেই তবে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি যে লক্ষ্যগুলো আছে সেগুলো সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এজন্য আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে।’

উদ্বাস্তু সমস্যা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি তিনভাবে সমাধান করা যায়। একটি আছে অন্তর্ভুক্তিকরণ, আরেকটি হচ্ছে তৃতীয় দেশে সেটেলমেন্ট এবং অপরটি হচ্ছে প্রত্যাবাসন ।

তিনি বলেন, আমাদের জন্য তৃতীয় দেশে সেটেলমেন্ট ফিজিবল না কারণ সংখ্যাটি অনেক বড়। যদি সংখ্যা ৩০ বা ৪০ হাজার হতো তাহলে বিভিন্ন দেশে ভাগ করে দেওয়া যেত কিন্তু সংখ্যাটি ১০ লাখের উপরে। এখন পৃথিবীর কোন দেশ এই পরিমাণ মানুষ নেবে না এটাই বাস্তবতা।

আরেকটি সমাধান হচ্ছে অন্তর্ভুক্তিকরণ, কিন্তু বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতির দেশ এবং এখানে প্রচুর পরিমাণ শ্রমিক আছে। ফলে বাড়তি শ্রমিকের কোন প্রয়োজন নেই এবং সে সম্ভাবনাও নেই বলে তিনি জানান।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘সুতরাং আমাদের জন্য একমাত্র অপশন হচ্ছে তাদের নিজ ভূমিতে টেকসই ও সম্মানের সঙ্গে প্রত্যাবাসন।’

অন্তর্ভুক্তিকরণের বিষয়ে জাতিসংঘ বা বিশ্ব ব্যাংক চিন্তা করতে পারে কিন্তু আমরা এটি করতে পারবো না এবং এটি তাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ‘গতবারই তারা আমাদেরকে যখন এ ধরনের ভাষা বা পয়েন্ট বলেছিল তখন তাদেরকে আমরা বলেছি যে এটি আমাদের পক্ষে করা সম্ভব নয়।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমাদের নজরে যেটি আসছে সেটি আমরা পয়েন্ট আউট করছি এবং সংশ্লিষ্ট যারা রয়েছে তাদেরকে বলছি যে, এ ধরনের শর্ত মানা আমাদের পক্ষে সম্ভব না ।’

রোহিঙ্গাদের শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি দিতে হয় তাহলে মিয়ানমারের কারিকুলাম অনুযায়ী দিতে হবে। কারণ আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই লোকগুলোর মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া। কিন্তু এমন কোন ধরনের শিক্ষা যেখানে আমাদের এখানে অন্তর্ভুক্তি হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে, এ ধরনের শিক্ষা আমরা দিতে চাই না।’

/এমএস/

সম্পর্কিত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি প্রসিকিউটরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ তথ্যমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি প্রসিকিউটরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ তথ্যমন্ত্রীর

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

মিয়ানমারে সেনা সরকার: থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

মিয়ানমারে সেনা সরকার: থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

করোনায় মোট মৃত্যুর ২৫ ভাগই জুলাইতে!

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১১:০০

দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ২০ হাজার ১৬ জন। এদিকে জুলাই শেষ হয়নি এখনও। তার আগেই এ মাসে মৃত্যু ছাড়িয়েছে সাড়ে ৫ হাজার। যা কিনা এ যাবৎকালের মোট মৃত্যুর শতকরা ২৫ ভাগ।

এর আগে এক মাসে এতো মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসে করোনায় মারা গেছে ৭ হাজার ৫৫৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় (২৭-২৮ জুলাই) মারা গেছেন ২৩৭ জন। এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মারা গেছেন ২৫৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বছরের ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সেই সময় মার্চে পাঁচ জন মারা গিয়েছিলেন। এরপর এপ্রিলে ১৬৩ জন, মে’তে ৪৮২ জন, জুনে এক হাজার ১৯৭ জন, জুলাইতে এক হাজার ২৬৪ জন, আগস্টে এক হাজার ১৭০ জন, সেপ্টেম্বরে ৯৭০ জন, অক্টোবরে ৬৭২ জন, নভেম্বরে ৭২১ জন এবং ডিসেম্বরে ৯১৫ জন মারা যান।

এই বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৫৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৮১ জন, মার্চে ৬৩৮ জন, এপ্রিলে দুই হাজার ২০৪ জন, মে’তে এক হাজার ১৬৯ জন, জুনে এক হাজার ৮৮৪ জন মারা যান। শুধু জুলাইতেই মারা গেছেন ৫ হাজার ৫১৩ জন।

গতবছরের মে থেকে মৃত্যুর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। জুনের একদিনে ৬৪ জন মারা যান। এটি ছিল গতবছরের একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৩০ থেকে ৪০-এর মধ্যেই থাকতো। অক্টোবরে মৃত্যুর হার কিছুটা কমে আসলেও নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৩০-৪০ এর মধ্যেই ছিল।

এরপর এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সর্বনিম্ন একদিনে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। মার্চের মাঝামাঝিতে মৃত্যু আবার বাড়তে থাকে। ১৭ এপ্রিল প্রথম একদিনে মৃত্যু শতকের ঘরে প্রবেশ করে। পুরো এপ্রিলজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও মে’তে আবার কমে আসে।

এরপর ফের বাড়তে থাকে জুনের মাঝামাঝিতে। ৭ জুলাই ২০০’র ঘরে প্রবেশ করে একদিনের মৃত্যু। এরপর থেকে একের পর এক মৃত্যুর রেকর্ড ভাঙে এ মাসেই।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানে শীর্ষে আছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা। ঢাকায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৯ হাজার ২৭৩ জন। চট্টগ্রামে তিন হাজার ৬৯৬ জন, রাজশাহীতে এক হাজার ৫৪৮ জন, খুলনায় দুই হাজার ৬৪৫ জন, বরিশালে ৬২১ জন, সিলেটে ৭২২ জন, রংপুরে ৯৮৯ জন, এবং ময়মনসিংহে ৫২২ জন।

এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোতে মারা গেছেন ১৭ হাজার ৫৮৩ জন। বেসরকারি হাসপাতালে এক হাজার ৮৮৮ জন। বাসায় ৫২২ জন এবং ২৩ জনকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছিল।

করোনায় এই মৃত্যুর মিছিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রোগীর সংখ্যা যেন না বাড়ে। রোগীর সংখ্যা কমাতে হলে সংক্রমণ কমাতে হবে। লকডাউনে বিধিনিষেধ মেনে চলতে প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছেন তা মানতে হবে।’

বহু জায়গায় সংক্রমণ বেড়ে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালে চাপ বাড়ছে। সংক্রমণ এভাবে চলতে থাকলে হাসপাতালে জায়গা থাকবে না।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরার্মশক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম মনে করেন ‘সংক্রমণ বেশি হলে মৃত্যুও বেশি হবে।ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলো করোনার মৃত্যু ঠেকাতে প্রস্তুত নয়। আমরা গত দেড় বছরেও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা বাড়াতে পারিনি। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে এখনও আইসিইউ নেই। জটিল রোগীদের আইসিইউ দরকার হলে তাদের ঢাকায় পাঠাতে হয়। ঢাকার হাসপাতালগুলোতেও আইসিইউ পাওয়া যাচ্ছে না। যারা পাচ্ছেন, সেটা একেবারে শেষ মুহূর্তে। তখন রোগীকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যায়।’

/এফএ/

সম্পর্কিত

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

শনাক্তের রেকর্ডের দিনে মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়ালো

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:০০

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ১৯৭৩ সালের ২৯ জুলাইয়ের  ঘটনা।)

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুগোস্লাভিয়ায় প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটোর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক সমাপ্ত করেছেন। এদিন (২৯ জুলাই) বঙ্গবন্ধু ব্রিওলি ত্যাগ করেন। সেসময় প্রেসিডেন্ট টিটো বঙ্গবন্ধুকে আন্তরিক বিদায় সংবর্ধনা জানান। দ্বীপে ২৪ ঘণ্টা অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট  টিটোর সঙ্গে রাতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন এবং দুই বিশ্বনেতার মাঝে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে, বিশেষ করে উপমহাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা  হয়। প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৈশভোজে নিমন্ত্রণ করেন। বঙ্গবন্ধুর সম্মানে প্রদত্ত অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি যেসব দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি, সেই সব দেশকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং  অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট টিটো সাম্প্রতিক জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের যোগদান এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের ন্যায়সঙ্গত আসন লাভের বিষয়-সহ সব আন্তর্জাতিক বিষয়ে বাংলাদেশকে তার সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের জাতীয় পুনর্গঠনে যুগোস্লাভিয়া সহযোগিতা প্রদানের কথাও ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে আশা প্রকাশ করেন, যুগোস্লাভিয়ার অব্যাহত সমর্থন এবং অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় পাকিস্তানে জোর করে আটকে রাখা বাঙালিরা ঘরে ফিরতে পারবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন দেওয়ায়  সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলোতে তিনি যখন পাকিস্তানের বন্দিশালায় ছিলেন, তখন তাঁর প্রাণ রক্ষার জন্য যুগোস্লাভিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনে প্রেসিডেন্ট টিটো এবং যুগোস্লাভিয়ার জনগণ সমর্থন দিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনোদিন তা ভুলবে না।’ বাংলাদেশ আর যুগোস্লাভিয়া —এ দুটি দেশের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে, তার উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর বলেন, বাংলাদেশ ও যুগোস্লাভিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।’

দৈনিক ইত্তেফাক, ৩০ জুলাই ১৯৭৩ মার্শাল টিটো প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক বীরত্ব-সংগ্রামের তিনি প্রশংসা করেন।স তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। বাংলাদেশকে তার দেশের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সাহায্য দানের কথাও জানান তিনি।

ভারত-পাকিস্তান আলোচনার মেয়াদ বাড়লো

ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল সরকারি পর্যায়ে এ দিন  দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠক শেষে আভাস পাওয়া যায় যে, আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আড়াই ঘণ্টা বৈঠক শেষে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতা পি এন হাকসার বলেন, ‘আমি এখনও আশাবাদী, যত দিন আমাদের প্রয়োজন হবে, তত দিন আমরা এখানে অবস্থান করবো।’ পাকিস্তানি বেতার জানায়, আরও আলোচনার সম্ভাবনা আছে। তবে তার জন্য কোনও সময়সীমা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এদিন বৈঠকের পর এমন একটা জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে যে, একটা ফর্মুলার ব্যাপারে দুই প্রতিনিধিদলেরই তাদের সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করার প্রয়োজন আছে।

ডেইলি অবজারভার, ৩০ জুলাই ১৯৭৩ এর আগে রাওয়ালপিন্ডি থেকে ইউএনআই-এর খবরে বলা হয়, ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল ১১ দফা আলোচনা বৈঠকে মিলিত হয়। কতিপয় প্রশ্নে পাকিস্তানের অনমনীয় মনোভাবের দরুন আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। কয়েকদফা বৈঠকের পর জানা গেছে যে, আরও এক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেটা কখন অনুষ্ঠিত হবে তা নির্দিষ্ট হয়নি। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতারা বৈঠক থেকে হোটেলে ফিরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান। তবে আভাস দেন যে, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে পিএন হাসকার বলেন, তিনি সব সময় আশা নিয়েই বেঁচে আছেন। আলোচনায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কিনা, জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আশা কি অচল অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ!

গত দুদিন থেকে পর্যবেক্ষকদের ধারণা হচ্ছে, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে সমাধান থেকে কতদূর রয়েছে সে সম্পর্কে আভাস পাওয়া যায়নি। রাওয়ালপিন্ডি থেকে এপি’র খবরে বলা হয় যে, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েছে এবং ভারতীয় প্রতিনিধি দল তাদের নয়াদিল্লিতে যাত্রা পিছিয়েছে। ভারতীয় প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লি এবং যুগোস্লাভিয়ায় সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে অসুবিধার কারণে আলোচনার পদ্ধতি এমন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধবন্দিদের প্রস্তাবিত বিচার স্থগিত রাখা এবং ভারত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে না, পাকিস্তান সেই প্রতিশ্রুতি আদায়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে মনে হয়।

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

করোনায় আটকে আছে ত্রিদেশীয় বৈঠক

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০১:৩৫

বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে মাদকপাচার বন্ধে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় বৈঠকটি আটকে আছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বৈঠকটি এ বছরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও অন্য দু’দেশের অনাগ্রহের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতায় আসাও বৈঠক না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদকপাচার বন্ধে ত্রিদেশীয় একটি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গত জানুয়ারিতে, যা হওয়ার কথা ছিল জুনের মধ্যেই। কিন্তু এরইমধ্যে করোনার ভয়াবহতায় ভারত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশেও করোনার মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তে থাকে। তারপরও জুম প্লাটফর্মে হলেও বৈঠকটি করার চেষ্টা চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। এরইমধ্যে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলে নেওয়ায় বৈঠকের বিষয়টি আরও  পিছিয়ে যায়।

বিভিন্ন ইস্যুতে ঈদুল আজহার কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও এ বিভাগের বিভিন্ন অধিদফতরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকেও ত্রিদেশীয় বৈঠকের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে এই  বৈঠকের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পক্ষগুলোর তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে জুম প্লাটফর্মে বৈঠকও করেছেন তারা। এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সভা হয়েছে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর জুম প্লাটফর্মে। তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে ইয়াবার সরবরাহ বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হলে, তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

এছাড়া উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে সুবিধাজনক সময়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠানেরও সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। আর  ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগ নিতে গত জানুয়ারিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের মাদক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইসরাত চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ত্রিদেশীয় বৈঠকটির এখনও পর্যন্ত কোনও অগ্রগতি নেই। কোভিডের কারণে পার্টনার দেশগুলোর কোনও উদ্যোগ নেই। কোভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ বৈঠক কবে হবে বলা যাচ্ছে না।একতরফা তো আমরা কিছু করতে পারি না।

তিনি বলেন,  ‘আমাদের বর্ডারটা আমরা কন্ট্রোল করার চেষ্টা করছি। যাতে পাচারকারীরা কোভিড পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে। টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অনেকগুলো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ত্রিদেশীয় উদ্যোগ থাকলে ভালো হয়। এ বিষয়ে দেশের ভেতরেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোভিডের অগ্রাধিকারের কারণে অন্য কাজগুলো কিছু ব্যাহত হচ্ছে।’

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

ভারত থেকে ২০০ টন অক্সিজেন আসছে

ভারত থেকে ২০০ টন অক্সিজেন আসছে

ভারত-চীন-রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন মোমেন

ভারত-চীন-রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন মোমেন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বকে শক্ত বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ

জাতিসংঘে নিজের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে মিয়ানমার

জাতিসংঘে নিজের বিপক্ষেই ভোট দিয়েছে মিয়ানমার

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের দেখভালে জাতিসংঘ-সরকার একমত

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ০০:২৫

ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের দেখভাল করার দায়িত্ব নিয়ে জাতিসংঘের সঙ্গে বিভিন্ন শর্তের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে সরকার। কয়েকদফা আলোচনার পর বুধবার বিকালে মিয়ানমার ও জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালকদের সঙ্গে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোর আলোচনায় এ মতৈক্য হয় বলে জানিয়েছেন একাধিক সূত্র। সব ঠিক থাকলে আগস্টে সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘের চুক্তি সই হবে এবং সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব নিতে পারে বৈশ্বিক সংস্থাটি।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বুধবার (২৮ ‍জুলাই) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। জাতিসংঘের কিছু চাহিদা ছিল। দুটোকে এক ছাদের তলায় আনতে সমস্যা হচ্ছিল। বেশ কয়েক রাউন্ড বৈঠক হয়েছে। অবশেষে আজ মতের মিলে পৌঁছানো গেছে।’

কী বিষয়ে মিল হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে পলিসির অধীনে জাতিসংঘ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে তাতেই একমত হয়েছে সবাই। জাতিসংঘের বাংলাদেশ অফিস তাদের সদর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত অনুমোদন নেবে।’

জাতিসংঘের সঙ্গে মূল আলোচনা করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। তাদেরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সম্মতির বিষয়গুলো জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

আগস্টে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কার্যক্রম শুরুর জন্য জাতিসংঘের কিছু প্রস্তুতির দরকার হতে পারে। সেজন্য আশা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তারা ভাসানচরে কাজ শুরু করবে।’

কক্সবাজারের মতো করে জাতিসংঘ ভাসানচরে কার্যক্রম পরিচালনা করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছুটা আলাদা হবে। কারণ দুই জায়গার বাস্তবতা আলাদা। কিছু ক্ষেত্রে মিল থাকতে পারে।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘কক্সবাজারে একটি বিপর্যস্থ পরিস্থিতির মধ্যে জাতিসংঘকে কাজ শুরু করতে হয়েছিল। কিন্তু এখানে (ভাসানচর) সব ইতিবাচক অবস্থায় আছে। আমি নিশ্চিত এখানে কাজের গুণগতমান অনেক ভালো হবে।’

মিয়ানমার কারিকুলামে শিক্ষা, সীমিত চলাচল, জীবনযাপনের সীমিত সুযোগ, জীবন দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় এই চুক্তিতে থাকবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব।

/এফএ/

সম্পর্কিত

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে দেওয়ার প্রস্তাব বিশ্ব ব্যাংকের

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি প্রসিকিউটরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ তথ্যমন্ত্রীর

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি প্রসিকিউটরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ তথ্যমন্ত্রীর

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

মিয়ানমারে সেনা সরকার: থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

মিয়ানমারে সেনা সরকার: থমকে আছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া

সর্বশেষ

টিকার নিবন্ধনে জনপ্রতি নেওয়া হয় দেড় হাজার টাকা!

টিকার নিবন্ধনে জনপ্রতি নেওয়া হয় দেড় হাজার টাকা!

ফাঁকা শহরে বৃষ্টির আগমন (ফটোস্টোরি)

ফাঁকা শহরে বৃষ্টির আগমন (ফটোস্টোরি)

আমিরাত থেকে আসা জাহাজের ৮ নাবিক করোনায় আক্রান্ত

আমিরাত থেকে আসা জাহাজের ৮ নাবিক করোনায় আক্রান্ত

সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গে ৫ নারীর মৃত্যু

সাতক্ষীরায় করোনা উপসর্গে ৫ নারীর মৃত্যু

গতবারের চেয়ে এবার কৃষিঋণ ২০০০ কোটি টাকা বেশি বিতরণ করতে চায় ব্যাংক

গতবারের চেয়ে এবার কৃষিঋণ ২০০০ কোটি টাকা বেশি বিতরণ করতে চায় ব্যাংক

‘দুই ম্যাচের একটি জিতিয়েছি, তবে আলোচনায় আসার মতো ইনিংস খেলিনি’

‘দুই ম্যাচের একটি জিতিয়েছি, তবে আলোচনায় আসার মতো ইনিংস খেলিনি’

আবারও শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি গার্মেন্টস মালিকদের

আবারও শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি গার্মেন্টস মালিকদের

লকডাউনেও এক চাঁদের গাড়িতে ৭০ যাত্রী! 

লকডাউনেও এক চাঁদের গাড়িতে ৭০ যাত্রী! 

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

চার দিন পর শিশুকে উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার

গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুজন গ্রেফতার

গার্মেন্টস কর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, দুজন গ্রেফতার

প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে টানা ১০ বছর সম্প্রচার!

প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে টানা ১০ বছর সম্প্রচার!

বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা, তিন ছেলেকে কুপিয়ে জখম

বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে হত্যা, তিন ছেলেকে কুপিয়ে জখম

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

করোনায় মোট মৃত্যুর ২৫ ভাগই জুলাইতে!

করোনায় মোট মৃত্যুর ২৫ ভাগই জুলাইতে!

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

টিটোর সর্বাত্মক সমর্থন ঘোষণা

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

মডার্না ও সিনোফার্মের প্রায় ২ লাখ টিকা দেওয়া হয়েছে আজ

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিকে লাশ হয়ে বের হচ্ছে, অপরদিকে রোগী ভর্তি হচ্ছে

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

একদিনে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৮২৭১ জন

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

রাজাকার-পুত্রের দম্ভ দেখে হতভম্ব হয়ে যাই: আইজিপি

© 2021 Bangla Tribune