X
মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮

সেকশনস

বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সড়কে ওবায়দুল কাদেরের দুই বোন

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ১০:১২

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটবোন রোকেয়া বেগমের (৫৫) বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলার প্রতিবাদে তার দুই বোন রাস্তায় নেমে আরেক ভাই বসুরহাট পৌর মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

রোকেয়া বেগম কাদের মির্জার ছোটবোন এবং কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ ভাগনে ফখরুল ইসলাম রাহাতের মা। আর তাহেরা বেগম (৬৯) কাদের মির্জার বড়বোন এবং তার প্রতিপক্ষ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশীদ মঞ্জুর মা।

বুধবার (২৩ জুন) রাতে বসুরহাট থানার সামনের সড়কে কাদের মির্জার বড়বোন তাহেরা বেগম (৬৯) ও ছোটবোন রোকেয়া বেগম (৫৫) উপজেলা আওয়ামী লীগের অনুসারী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এসময় তারা কাদের মির্জার অনুসারীদের নেতৃত্বে ছোটবোন রোকেয়া বেগমের বাসায় হামলার প্রতিবাদে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।

এর আগে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের থানার পোল সংলগ্ন সেতুমন্ত্রীর বোনের বাসভবন এইচ আর ভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

সেতুমন্ত্রীর ছোটবোন রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, কাদের মির্জার অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে। সে এখন কোম্পানীগঞ্জের গডফাদার। পুলিশ তাকে প্রোটেকশন দিচ্ছে। সে বিশাল ক্ষমতাধর। মির্জাবাহিনী বাসায় হামলা করে আমার ছেলে রাহাতকে খুঁজতে থাকে। আমি তাদেরকে বলি আমি মন্ত্রীকে ফোন দিচ্ছি। তারা বলে, মন্ত্রী কী করবে? এ সময় হামলাকারীরা বাসায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে একটি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

সেতুমন্ত্রীর ভাগনে ফখরুল ইসলাম রাহাত বলেন, কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দ্বের জেরে কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্ছা রাসেলের নেতৃত্বে আমার বাসায় হামলা করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বসুরহাট পৌর মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা বলেন, এ ধরনের কোনও ঘটনার সঙ্গে আমার কোনও অনুসারী জড়িত নয়। আমি শান্ত আছি। আমাকে উত্তেজিত করার জন্য এসব করা হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, শুনেছি কয়েকজন লোক এসে বাসার গেটে লাথি মেরে গালমন্দ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

করোনায় চট্টগ্রামে রেকর্ড মৃত্যু, শনাক্ত ১৩১০ জন

করোনায় চট্টগ্রামে রেকর্ড মৃত্যু, শনাক্ত ১৩১০ জন

লকডাউনে কাদের মির্জার চা-চক্রের আয়োজন

লকডাউনে কাদের মির্জার চা-চক্রের আয়োজন

টেকনাফের প্রধান সড়কে বন্যহাতি

টেকনাফের প্রধান সড়কে বন্যহাতি

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬২৪৫ কোটি

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১২:৪০

বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছয় হাজার ২৪৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকালে বেনাপোল কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নেয়ামুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত অর্থবছরে (২০২০-২১) বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ছয় হাজার ২০০ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে আদায় হয়েছে চার হাজার ১৪৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। রাজস্ব ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৫১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি ছিল তিন হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঘাটতি  এক হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঘাটতি ১৭৯.৬৪ কোটি টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বেশি আদায় হয়েছিল ৪৫.৪০ কোটি টাকা। গত ১০ বছরে ২০১৬-১৭ অর্থবছর ছাড়া সবগুলোতেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ছিল। 

চলতি অর্থবছরে এত বড় অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা আদায় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে যদি সফল হতে হয় তাহলে বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাস্টমস ও বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। তা না হলে কখনও এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে না।

জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের এই পথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় ব্যবসায়ীরা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করতে পারেন না। এতেই বার বার রাজস্ব আয়ে ধস নামছে। এছাড়া রাজস্ব আদায়ে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো জায়গা সঙ্কট ও দুর্নীতি। 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, চলতি অর্থবছরে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, একদিকে করোনা পরিস্থিতি অন্যদিকে সুষ্ঠুভাবে বাণিজ্য সম্পাদনে অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ রয়েছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেকবার বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করেছেন। তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হলে এই বন্দর থেকে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব।  

আমদানিকারক ইদ্রিস আলী বলেন, বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক না। আমদানিকারকদের নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে বন্দরে পণ্য পাহারা দিতে হয়। বন্দর থেকে পণ্য চুরি, বারবার রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবসা বন্ধ করেছেন। এছাড়া এ বন্দর দিয়ে বৈধ পথে মাদক দ্রব্য প্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় ঝামেলা এড়াতে ব্যবসায়ীরা অনেকে অন্য বন্দরে চলে গেছেন। এসব কারণে পর পর ১০ অর্থবছরের মধ্যে নয় বছর ধরে এ বন্দর থেকে আমদানি পণ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চাহিদা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ করতে পারিনি। 

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সভাপতি মহসিন মিলন জানান, এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় অনিশ্চিত। কারণ  কাস্টমস ও বন্দরের নানান অব্যবস্থাপনায় আমদানি কমেছে। বেনাপোল কাস্টমসে আমদানি পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেই। এতে খুলনা ও ঢাকা থেকে পরীক্ষা করাতে মাসের অধিক সময় লেগে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় পণ্য চালান আটকা পড়ে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

তিনি আরও জানান, বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বিএসটিআই ও বিএসআইআরের শাখা স্থাপনের দাবি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ছেড়েছেন। বন্দরে চাহিদা অনুযায়ী জায়গা না থাকায় পণ্য খালাসের জন্য দিনের পর দিন ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকে। এতে আমদানি খরচ বেড়ে যায়। কয়েক বছর ধরে রাজস্ব আদায় ধসের এটিও একটি বড় কারণ বলে মন্তব্য করেন এ ব্যবসায়ী।

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, ব্যবসায়ীরা যেখানে সুবিধা পাবেন সে পথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে আগ্রহী হবেন এটাই স্বাভাবিক। চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক সুবিধা বিদ্যমান। তাই ব্যবসায়ীরা দিন দিন সে পথে আমদানিতে ঝুঁকছেন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কাস্টমস ও বন্দরে বৈধ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে ব্যবসায়ীরা এ পথে আবার ফিরবেন।

বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পণ্যাগারের জন্য জমি অধিগ্রহণ, নতুন পণ্যাগার নির্মাণ ও বন্দর এলাকায়  রাস্তাঘাটের অনেকটা উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরে আরও জমি অধিগ্রহণ ও পণ্যের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলছে। যেসব পণ্যে বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেসব পণ্য আলাদা নিরাপদ জায়গায় রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের চাহিদার কথা ভেবে আরও কিছু উন্নয়নমূলক কাজের চিন্তা-ভাবনা চলছে। এসব উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হলে বন্দরে বাণিজ্যে আরও গতি বাড়বে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

বেড খালি নেই, তবু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসার আহ্বান

বেড খালি নেই, তবু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসার আহ্বান

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

বেড খালি নেই, তবু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসার আহ্বান

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১২:২৮

কুষ্টিয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু বাড়ছে। জেলা শহরে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকার পর এবার উপজেলা ও গ্রাম এলাকাতেও বাড়ছে রোগী। তবে আক্রান্তের তুলনায় হাসপাতালে শয্যা কম, হাসপাতালের ২০০ বেডেই রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় জেলায় তিন হাজার রোগী এখনও বাসা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে হাসপাতালে বেড না থাকলেও চিকিৎসা নিতে রোগীদের হাসপাতালে আসার জন্য বলছে কর্তৃপক্ষ।

তবে রোগী ও স্বজনরা বলছেন, হাসপাতালে বেড না থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বেড পেতে তদবির করাসহ চিকিৎসা নিতে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। এ কারণে একেবারে অপরাগ না হলে তারা হাসপাতালে যাচ্ছেন না। 

সদরের মজমপুর এলাকার রাজু আহমেদ জানান, তিনি গত ২০ দিন ধরে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১০ জুলাই তার করোনা শনাক্ত হয়। কিন্তু তিনি হাসপাতালে ভর্তি হননি। সাহস করে বাসাতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের পরিবেশ ভালো না। আর স্বাভাবিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কঠিন। তাই বাসায় থেকেই পরিবারের সদস্যদের সার্বিক সহায়তায় সুস্থ আছেন। তিনি ২৫ জুলাই দ্বিতীয়বার নমুনা জমা দিয়েছেন। এখনও তার করোনার সব উপসর্গই রয়েছে। শরীর খুবই দুর্বল। সুস্থ থাকলেও ভয়ে আছেন তিনি। 

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, করোনায় একজন রোগী আক্রান্তের পর একেবারে শেষ স্টেজে গিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এ অবস্থায় রোগীর জন্য বিশেষ কিছু করার থাকে না। তাই রোগীদের কষ্ট ও ভোগান্তি মেনে নিয়েই সুস্থ হতে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের চেষ্টায় কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু লোকজন কথা শুনতে চায় না। রোগী ও স্বজনরা কথা শুনলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণ থাকতো। উপসর্গ দেখা দিলে বা আক্রান্ত হওয়ার পরও ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতেই থাকতে চান রোগীরা। কিন্তু হাসপাতালে এলে তাদের অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া যেতো। যেটা বাড়িতে বসে পাওয়ার সুযোগ নেই। যখন শ্বাসকষ্ট প্রচণ্ড হয়, তখন তারা হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু তড়িঘড়ি পদক্ষেপে তাদের ঝুঁকিমুক্ত করা কঠিন হয়। তাই উপসর্গ দেখা দিলে ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে না থেকে হাসপাতালে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দরকার। এছাড়া কুষ্টিয়ার হাসপাতালে রাজবাড়ী-চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে রোগী আসছে। সবাইকে সেবা দিতে চিকিৎসক ও কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, উপসর্গ বা শনাক্ত হওয়া রোগীর অক্সিজেন লেভেল ঠিক রাখা জরুরি। এ কারণে হাসপাতালে রোগীদের রাতেও অক্সিজেন সাপোর্টে রাখার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে। অনেক রোগী আছে, শনাক্ত হওয়ার পরও সুস্থ থাকেন। তাদেরকেও না ছেড়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখার জন্য বলা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু স্বাস্থ্যকর্মী উদাসীনতা দেখাচ্ছেন। ফলে সমস্যা বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, কুষ্টিয়ায় দৈনিক গড়ে ৪০০ জনের মতো শনাক্ত হচ্ছেন। এতে বোঝা যায় সংক্রমণ ভয়াবহ হয়েছে। শনাক্ত বেশি হওয়ার কারণে মৃত্যুও বাড়ছে। 

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছ। লকডাউন কঠোরভাবে পালনে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।’

এদিকে, কুষ্টিয়ায় গত ২৬ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী ও চুয়াডাঙ্গার একজন করে রয়েছেন। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও পাঁচ জন। গত ২৬ জুলাই ৬৬৬টি নমুনা পরীক্ষায় ২২৩ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। 

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক দফতরের তথ্যে জানা গেছে, করোনায় এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় ১৩ হাজার ৪৪৮ জন আইসোলেশনে ছিলেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ১১৮ জন ছাড়পত্র নিয়েছেন। আর হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন দুই হাজার ৫৯২ জন। সকলেই ছাড়পত্র নিয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন ৩১ জন। ছাড়পত্র নিয়েছেন চার জন। 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে আরও জানা যায়, ২৬ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন ১৯৯ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ২২৩ জন। জেলায় করোনা পজিটিভ চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ২০০টি বেড রয়েছে। এর মধ্যে চারটি আইসিইউ ও ছয়টি এইচডিইউ বেড। এ জেলায় ২৬ জুলাই সকাল পর্যন্ত ১৩ হাজার ৪২১ জন করোনা পজিটিভের মধ্যে ৯ হাজার ৫২৬ জন সুস্থ হয়েছেন। আর মারা গেছেন ৫০৮ জন। এখনও তিন হাজার ৩৩৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মাত্র ১৯৯ জন। বাকি তিন হাজার ১৮৮ জনই বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

খুলনার চার হাসপাতালে ১৩ মৃত্যু

খুলনার চার হাসপাতালে ১৩ মৃত্যু

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০৩

যশোর জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত দুই জনের ‍মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে যশোরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪৮ জনের। শনাক্তের হার ২৩.৯ শতাংশ। 

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

তিনি জানান, যশোর জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মৃত দুই জনের বয়স ৭৫ বছর। তারা হাসপাতালের রেড জোনে ভর্তি ছিলেন। রেড জোনে আজ ভর্তি রয়েছেন ৯৪ জন ও ইয়েলো জোনে ৪২ জন।  

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে ৬১৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

বেড খালি নেই, তবু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসার আহ্বান

বেড খালি নেই, তবু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসার আহ্বান

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে আরও ১৬ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে আরও ১৬ মৃত্যু

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১১:২৩

করোনা ডেডিকেটেড কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আবারও মৃত্যু বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৯ জন। তাদের মধ্যে করোনায় ১৫ জন ও উপসর্গ নিয়ে চার জনের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোমেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ২৫৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৩৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২৫৩ জনের মধ্যে কুষ্টিয়া সদরে ৪২, দৌলতপুরে ৫৫, কুমারখালীতে ৩৯, ভেড়ামারায় ৩২, মিরপুরে ৬৩ ও খোকসায় ২২ জন রয়েছেন।

ডা. আব্দুল মোমেন জানান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভর্তি রয়েছেন ১৮২ জন। তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত ১৪১ জন এবং ৪১ জন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। 

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

বেড খালি নেই, তবু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসার আহ্বান

বেড খালি নেই, তবু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসার আহ্বান

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে আরও ১৬ মৃত্যু

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১১:০৩

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে করোনায় মারা গেছেন পাঁচ জন। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) সকালে হাসপাতালের পরিচালক কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সোমবার (২৬ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনায় ও উপসর্গ নিয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৬ জন। তাদের মধ্যে ৩১ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। একই সময়ে ভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ৪৬ জন করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন করোনা আক্রান্ত। ২২টি আইসিইউ শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২ জন।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে মোট চিকিৎসাধীন ২৫৭ রোগীর মধ্যে করোনা করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১৭ জনের। অন্যরা এ ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন।

এদিকে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে প্রকাশিত গত সোমবার রাতের রিপোর্টে ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় মধ্যে ৯৪ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ।

২০২০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত শের-ই বাংলা মেডিক্যালের করোনা ওয়ার্ডে মোট ভর্তি ছিলেন ছয় হাজার ৭৬ জন। তাদের মধ্যে এক হাজার ৮৫৩ জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। ছাড়পত্র নিয়েছেন চার হাজার ৭৮৬ জন। তাদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত ছিলেন এক হাজার ৪৬৯ জন। এক হাজার ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে করোনা পজেটিভ ছিলেন ২৮৮ জন।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

সবাইকে মাস্ক পরতে বাধ্য করতে হবে: তোফায়েল আহমেদ

সবাইকে মাস্ক পরতে বাধ্য করতে হবে: তোফায়েল আহমেদ

সর্বশেষ

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬২৪৫ কোটি

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬২৪৫ কোটি

বেড খালি নেই, তবু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসার আহ্বান

বেড খালি নেই, তবু জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসার আহ্বান

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

যশোরে একদিনে ১৪৮ জনের করোনা শনাক্ত

অলিম্পিক থেকে রোমান সানার বিদায়

টোকিও অলিম্পিকঅলিম্পিক থেকে রোমান সানার বিদায়

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন লিটন

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন লিটন

সিউলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’

সিউলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফের মৃত্যু বেড়েছে

ব্যবধান গড়ে দিলো অস্ট্রেলিয়ার বোলিং

ব্যবধান গড়ে দিলো অস্ট্রেলিয়ার বোলিং

‘হতভম্ব’ জাতীয় কমিটি এবার ‘হতাশ’

‘হতভম্ব’ জাতীয় কমিটি এবার ‘হতাশ’

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে আরও ১৬ মৃত্যু

শের-ই বাংলা মেডিক্যালে আরও ১৬ মৃত্যু

গর্ভবতী নারীদের টিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী?

গর্ভবতী নারীদের টিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী?

অলিম্পিকে প্রথম রাউন্ডে রোমানের জয়

টোকিও অলিম্পিকঅলিম্পিকে প্রথম রাউন্ডে রোমানের জয়

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

করোনায় চট্টগ্রামে রেকর্ড মৃত্যু, শনাক্ত ১৩১০ জন

করোনায় চট্টগ্রামে রেকর্ড মৃত্যু, শনাক্ত ১৩১০ জন

লকডাউনে কাদের মির্জার চা-চক্রের আয়োজন

লকডাউনে কাদের মির্জার চা-চক্রের আয়োজন

টেকনাফের প্রধান সড়কে বন্যহাতি

টেকনাফের প্রধান সড়কে বন্যহাতি

আমেরিকায় যাওয়ার আগে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ ডাক কাদের মির্জার

আমেরিকায় যাওয়ার আগে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার’ ডাক কাদের মির্জার

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ৮ জনকে কুপিয়ে জখম

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে ৮ জনকে কুপিয়ে জখম

সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা করোনায় আক্রান্ত

সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা করোনায় আক্রান্ত

রোগীকে ভর্তি না নেওয়ায় চিকিৎসককে পেটালেন স্বজনরা

রোগীকে ভর্তি না নেওয়ায় চিকিৎসককে পেটালেন স্বজনরা

পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের জমি পরিদর্শনে কক্সবাজারে আইজিপি-র‌্যাব ডিজি

পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের জমি পরিদর্শনে কক্সবাজারে আইজিপি-র‌্যাব ডিজি

© 2021 Bangla Tribune