X
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

বাড়ছে নদীভাঙন

ভিটেহারা মানুষগুলো আর ফিরে যেতে পারে না

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২১, ১৪:০৩

মিতুল রানী (৪৫), থাকেন রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তির একটি ঝুপড়ি ঘরে। মেঘনার ভাঙনে ঘর হারিয়ে আশির দশকে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভোলার মনপুরা থেকে আসেন ঢাকার এ বস্তিতে। এখানে বড় হয়েছেন। বিয়ে ও সন্তানের জন্মও এখানে। আর কখনও মনপুরা ফেরা হয়নি তার।

সাততলা বস্তির নিজের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে বাপ-দাদার ভিটে হারানোর দুঃসহ স্মৃতির কথা মনে করে মিতুল রানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছোটবেলায় এই এলাকায় আসি। আমাদের সঙ্গে আরও কয়েকটি পরিবার ছিল। ঘরবাড়ি সব নদীতে ভেঙেছে। আমার বাবা এবং শ্বশুর একই এলাকার ছিলেন। তারা একসঙ্গেই এখানে আসেন।’

মিতুল রানী বলেন, ‘সংসার চালানোই দায়। লেখাপড়ার উপায় ছিল না। বড় ছেলে গাড়ি চালানোর শেখার পর সংসার চালাচ্ছে।’

মনপুরায় এখন মিতুল রানীর কেউ নেই। তাই কারও সঙ্গে দেখা করতেও যাওয়া হয় না। মিতুল রানী বলেন, ‘মনপুরায় যাবো কই। যা ছিল সব তো নদীর মাঝখানে। এখন দিন আনি দিন খাই। জায়গা জমিও আর জুটবে না। বস্তিতেই বাকি জীবন কাটবে।’

মিতুল রানী

মিতুল রানীদের সঙ্গে মনপুরা থেকে আসা অপর হিন্দু পরিবারগুলোর অবস্থাও একই। তারাও নিজের গ্রাম বা এলাকায় ফেরার স্বপ্ন দেখছেন না আর।

মহাখালীর সাততলা ও বনানীর কড়াইল বস্তিসহ বেশ কয়েকটি বস্তি ঘুরে দেখা গেছে অসংখ্য নদীভাঙা মানুষ এখানে বাস করছেন কয়েক দশক ধরে। এমনও আছেন, যাদের দুই-তিন প্রজন্মও বাস করছে বস্তিতে।

দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা বরগুনার নাহিদা আক্তার (২১)। বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর হলো। বরগুনার তালতলীর ছোট বগী গ্রামে তাদের বাড়ি ছিল। নদীভাঙন ও দারিদ্র্যতা ঘিরে ধরলে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। তার স্বামী জুয়েল একজন দিনমজুর। সাততলা বস্তিতেই থাকেন স্বামী-স্ত্রী। বাড়িঘর নেই। তাই গ্রামে ফেরারও আর সুযোগ নেই তাদের।

নদীভাঙনের শিকার হয়ে ঢাকা আসতে বাধ্য হয়েছিলেন ভোলার দক্ষিণ আইচা থানার মাঝেরচরের রাজমিস্ত্রি লাল মিয়া। একই থানার নুর ইসলাম হাওলাদার, ইব্রাহীম, সালমা আক্তার ও নিপা আক্তারসহ অনেকেই আসেন তার সঙ্গে। প্রত্যেকেই এখন সাততলা বস্তিতে আছেন পরিবার নিয়ে।    

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন কয়েক বছর ধরে সাততলা বস্তিতে থাকেন। বছর পাঁচেক আগে পদ্মার ভাঙনে জমি ও ভিটে হারায় তার পরিবার। এরপরই ঢাকায় আসেন বাধ্য হয়ে। পেশায় রিকশাচালক জসিমের জানা নেই, আদৌ আর নিজের জন্মস্থানে ফিরতে পারবেন কিনা। বস্তির ছোট্টঘরে স্ত্রী রুমী আক্তার আর সন্তানকে নিয়ে তার স্বপ্নহীন জীবন কেটে যাচ্ছে কোনোরকম।

ঢাকার ছোটবড় বস্তিতে এমন হাজার হাজার নদীভাঙা পরিবারের দুঃখগাথা পাওয়া যাবে। তারা দেখেছেন, নদীভাঙন কী করে মুহূর্তেই নিঃস্ব করে দিতে পারে শত শত পরিবারকে।

তিন বছরে দেশের প্রধান প্রধান নদীসহ ছোটবড় প্রায় সব নদীর কোথাও না কোথাও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। গতবছরও নদীগুলোর ১৬৫৮ পয়েন্টে প্রায় ৭ শ’ কিলোমিটার বিলীন হয়েছে। এই তিনবছরে বেড়েছে নদীভাঙা উদ্বাস্তুও।

ঢাকায় প্রতিদিন ১২ হাজার

দেখা যায়, জলবায়ু পরিবর্তন ও নদী ভাঙনের কারণে ভিটেমাটি হারা পরিবারগুলোর বেশিরভাগই ঢাকামুখী হয়। এতে রাজধানীতে চাপ বাড়ছে ক্রমাগত।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও নদীভাঙনের কারণে ‍ঢাকায় প্রতিদিন ১২ হাজার মানুষ প্রবেশ করছে। এতে বস্তি ও ফুটপাতে চাপ বাড়ছে। দরিদ্ররা এসে সবার আগে বস্তি খোঁজে। তারপর ফুটপাতে কোথাও টুকটাক ব্যবসা শুরু করার চেষ্টা করে। এদের নিয়ে সরকারের বড় পরিকল্পনা আছে। তাদের আবাসনসহ উন্নত জীবন দেওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।’

মেয়র আতিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘নদীভাঙনের শিকার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঢাকায় যারা আসছেন তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার পরিকল্পনা করছে। ফুটপাত ও বস্তির চাপ কমাতে আবাসন ও কাজের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।’

তাদের ভাগ্য উন্নয়নে আশার কথা শুনিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকও। তিনি বলেন, ‘সরকার গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে। নদীভাঙন রোধে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলছে। আমরা মানুষের ভিটেমাটি রক্ষা করতেও কাজ করছি।’

৫৫ হাজার পরিবার নিঃস্ব, ক্লান্ত

গতবছরের বন্যায় দেশের ২৯টি জেলায় দেখা দেয় তীব্র ভাঙন। আর তাতেই ১০৯টি উপজেলার ৫৫ হাজার ২২১টি পরিবারের জমিজমা ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ২০২০ সালের শেষের দিকে একটি তালিকা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। তাতেই উঠে এসেছে এ তথ্য।

সংস্কারের জায়গা থেকেও বালু উত্তোলন

পানি উন্নয়ন বোর্ড যেসব নদীর তীরের সংস্কার করে, সেসব নদী থেকেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি, যাতে কোনও নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা না হয়। তারপরও রাতের আঁধারে কিছু অসাধু লোক বালু তুলছে। এমনকি যেসব তীর আমরা সংস্কার করেছি, সেখান থেকেও উত্তোলন করা হচ্ছে। এটা কেবল পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদস্যরা ঠেকাতে পারবে না। স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে। বাধা দিতে হবে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে দেশের এক হাজার ৬৫৮ পয়েন্টে ৬৪২ দশমিক ৯৪৮ কিলোমিটার ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ সময় মেরামত বা ভাঙন ঠেকাতে ২৮৫ পয়েন্টের ৪৬ দশমিক ৯৫৩ কিলোমিটার সংস্কার হয়েছে। যা ভাঙনের তুলনায় খুবই কম।

২০১৮ সালে ৫২৭টি পয়েন্টে ২৯১ দশমিক ২৮১ কিলোমিটার ভেঙেছিল। এর মধ্যে মেরামত হয় ১৫৭টি পয়েন্টের ২৪.৩২৫ কিলোমিটার।

২০১৯ সালের ৪০৫টি পয়েন্টে ভাঙনে ক্ষতি হয় ১৫৮ দশমিক ০৫৩ কিলোমিটার ভূমি। যার বিপরীতে ৬৮টি পয়েন্টে ১২ দশমিক ৬২৮ কিলোমিটার সংস্কার করা হয়।

২০২০ সালে ৭২৬টি পয়েন্টের ১৯৩ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার ভাঙনের কবলে পড়ে। এরপর ওই বছর ১৬০টি পয়েন্টের মাত্র ১০ কিলোমিটার সংস্কার করা হয়।

প্রতিবেশীদের উন্নয়নে বাংলাদেশে ভাঙন

ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে উজানের পানিতে পলি ও বালু আসছে বেশি। এতে আমাদের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর গভীরতা কমছে।

এক জরিপে দেখা গেছে, বছরে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীন থেকে এক লাখ ২২ হাজার ৪০০ কোটি টন পলি বাংলাদেশের নদীগুলোতে জমছে।

সম্প্রতি ভারতের মেঘালয় ও সিকিমে উন্নয়ন কাজ চলায় সেখানে উজাড় হচ্ছে গাছপালা। ওই গাছের শিকড় যে মাটি আঁকড়ে ধরতো সেটাও আসছে উজানের পানিতে। এতে বর্ষায় পাহাড়ি ঢল বেড়েছে। চাপ বাড়ছে দেশের নদীগুলোর তীরে।

নদীবিষয়ক সংগঠন রিভারাইন পিপল-এর মহাসচিব শেখ রোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পাহাড় থেকে ঢল নেমে বদ্বীপে এলে নদীভাঙন হবেই। আমাদের এখানে নদী সবসময়ই ভাঙতো। ইদানিং বেড়েছে। তবে ডেল্টায় যদি ভাঙন থাকেও সেটা একসময় স্থিতিশীল পর্যায়ে আসার কথা। আমাদের এখানে তা হচ্ছে না। ভাঙন ক্রমাগত বাড়ছে।’

 

 
 
/এফএ/

সম্পর্কিত

নদী ভাঙনে জমি খাসের আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন 

নদী ভাঙনে জমি খাসের আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন 

কারখানা থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পোশাক শ্রমিক

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০১:১২

কারখানা থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে এক পোশাক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতের নাম মোঃ মুন্না (১৭)। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর গাবতলীর পর্বত সিনেমা হলের পাশে ব্রিজের ঢালে এই ঘটনা ঘটে।  

তিনি আমিন বাজারের একটি পোশাক কারখানায় আয়রন ম্যান হিসেবে কাজ করেন। কাজ শেষে প্রতিদিনের মতো হেঁটে মিরপুর দারুস সালাম লালকুঠির বসুপাড়া বাসায় ফিরছিলেন মুন্না। হঠাৎ কয়েকজন ছিনতাইকারী পথ রোধ করে তার কাছে থাকা মোবাইল ও টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মুন্না চিৎকার করলে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। তবে তার কাছ থেকে কিছুই নিতে পারেনি।   

খবর পেয়ে আহতের চাচা মামুন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আহতের বরাতে চাচা মামুন ঘটনার বিস্তারিত জানান। আহতের বাবার নাম ইউসুফ আলী। 

ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক এএসআই আব্দুল খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মুন্না বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবিহিত করা হয়েছে।  

/এআইবি/এআরআর/এলকে/

সম্পর্কিত

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় আজ

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় আজ

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

ঢামেকে পরীক্ষার কথা বলে নিয়ে যাওয়া রোগী উধাও

ঢামেকে পরীক্ষার কথা বলে নিয়ে যাওয়া রোগী উধাও

ক্ষতিপূরণ না পেয়ে মেয়র আতিকের বিরুদ্ধে রিট

ক্ষতিপূরণ না পেয়ে মেয়র আতিকের বিরুদ্ধে রিট

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় আজ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০৭

রাজধানীর বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ (২৭ অক্টোবর)। আসামিদের উপস্থিতিতে দণ্ডাদেশ দেবেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের আদালত।

সাফাত ছাড়া অপর আসামিরা হলেন সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম, সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন।

গত ৩ অক্টোবর মামলার উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুনানি শেষ হয়। এরপর রায় ঘোষণার জন্য ১২ অক্টোবর দিনটি ধার্য করেন আদালত। কিন্তু অসুস্থতার কারণে বিচারক ছুটিতে থাকায় তা হয়নি। তাই রায়ের জন্য নতুন দিন হিসেবে ২৭ অক্টোবরকে ধার্য করা হয়। 

এর আগে ২২ আগস্ট একই আদালতে আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। 

সাদমান সাকিফ (ছবি: নাসিরুল ইসলাম)

২০১৭ সালের ৬ মে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর একমাস পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৭ সালের ১৩ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তার বান্ধবী ও বন্ধুকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়-ভীতি প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে বাদী ও তার বান্ধবীকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে বাদীকে সাফাত আহমেদ ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তার মাধ্যমে ওই ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। পরে সাফাত তার জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ওই দুইজনকে আমন্ত্রণ জানালে তারা যেতে সম্মত হন। আমন্ত্রণ জানাতে গিয়ে তাদের বলা হয়েছিল, অনেক লোকজনের উপস্থিতিতে বড় একটি অনুষ্ঠান হবে। 

ঘটনার রাতে সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাদের দুইজনকে বনানীর ২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত হোটেল রেইনট্রিতে নিয়ে যায়। সেখানে তারা অন্য কোনও লোকজন দেখতে পাননি। কোনও আয়োজন না দেখে তারা চলে যেতে চাইলে আসামিরা তাদের গাড়ির চাবি শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে তাকে মারধর করে। পরে বাদী ও তার বান্ধবীকে হোটেলের একটি রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় সাফাত তার গাড়িচালককে ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে বলেন। বাদীকে নাঈম আশরাফ মারধরও করেন।

/এমএইচজে/জেএইচ/

সম্পর্কিত

কারখানা থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পোশাক শ্রমিক

কারখানা থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পোশাক শ্রমিক

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

শিক্ষাকে জীবন ও সংস্কৃতিমুখী করা হচ্ছে: ডা. দীপু মনি

শিক্ষাকে জীবন ও সংস্কৃতিমুখী করা হচ্ছে: ডা. দীপু মনি

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০

হাইকোর্টের একটি মামলার সংবাদ পরিবেশনাকে কেন্দ্র করে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসউদুর রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) এর কপি পাওয়া যায়। গতকাল (২৫ অক্টোবর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মুশফেক আলম সৈকত নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে এটি দায়ের করেন। তিনি সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর সন্তান।

সাংবাদিক মাসউদুর রহমান ছাড়াও বাদীর সাবেক স্ত্রী তাসনোভা ইকবাল, সাবেক শাশুড়ি নাজমা সুলতানা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোর কর্তৃপক্ষ ও টিভি চ্যানেলটির বার্তা সম্পাদককে মামলায় বিবাদী করা হয়েছে।

জানা যায়, তাসনোভার সঙ্গে মামলার বাদী সৈকতের বিয়ের পর ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাদের কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। এরপর তাসনোভা পড়াশোনার জন্য স্বামী-সন্তানসহ মালয়েশিয়ায় যান।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, তাসনোভা বিদেশে নিজের খেয়াল-খুশিমাফিক চলার ইচ্ছে পোষণ করে স্বামী-সন্তানকে দেশে ফিরে যেতে বলেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী বাবার খরচে সৈকত নিজের সন্তানকে নিয়ে ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর দেশে ফেরেন। এর ১১ মাস পর তাসনোভা দেশে আসেন। তবে দেশে ফিরে সন্তানের সঙ্গে দেখা না করে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে সম্পর্কের বনিবনা না হওয়ায় চলতি বছরের ২৬ আগস্ট তাদের তালাক নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। এরপর এ বিষয়ে আদালতে মামলা গড়ায়।

বাদীর দাবি, আগের মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় গত ২২ অক্টোবর চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে দুপুরের খবরে সৈকত ও তার একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বাবাকে হেয় করে আসামিদের অসত্য বক্তব্য প্রচারিত হয়। সংবাদটি পরিবেশন করে মামলার বাদী ও তার প্রতিমন্ত্রী বাবার মানহানির ঘটনায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মামলায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

/বিআই/জেএইচ/

সম্পর্কিত

কারখানা থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পোশাক শ্রমিক

কারখানা থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পোশাক শ্রমিক

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় আজ

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় আজ

ক্ষতিপূরণ না পেয়ে মেয়র আতিকের বিরুদ্ধে রিট

ক্ষতিপূরণ না পেয়ে মেয়র আতিকের বিরুদ্ধে রিট

আইনজীবীদের ভোকেশনাল কোর্স চালুতে উদ্যোগ নেবে ‘বিলিয়া’

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৩

২০০৭ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া আইনজীবীদের মানোন্নয়নমূলক ভোকেশনাল কোর্স নতুন করে চালুর বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল' অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া)। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীতে বিলিয়া’র কনফারেন্স হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এ কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিলিয়া মূলত একটি গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান। এখানে মুক্ত চিন্তাগুলো কাঁধে কাঁধ হাতে হাত রেখে চলে। সে মুক্ত চিন্তাগুলো আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত থেকে কাজ করে। তাই ভবিষ্যতেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আকাঙ্ক্ষিত এই প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।

মিজানুর রহমান বলেন, বিলিয়ার লাইব্রেরি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। করোনা থেকে উত্তরণের পর আবার সে লাইব্রেরি চালু হবে। সেখানে আইনসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দেশি-বিদেশি বই পড়তে ও তথ্য জানতে পারবে। এছাড়াও আইনের শিক্ষার্থীদের সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। যেন তারা দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবিনারসহ বেশকিছু আনুষ্ঠানিকতায় আমরা আইন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত থেকে গবেষণামূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি মুজিবনগর সরকারের দিনলিপি নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রণয়নে কাজ করছে বলেও জানানো হয়। 

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, বিলিয়ার রিসার্চ ফেলো ড. নুর মোহাম্মাদ সরকার, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহতাব হোসেন, সুমাইয়া সারওয়াত প্রমুখ।

/বিআই/এমআর/

সম্পর্কিত

কারখানা থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পোশাক শ্রমিক

কারখানা থেকে ফেরার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পোশাক শ্রমিক

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় আজ

রেইনট্রিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার রায় আজ

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সাংবাদিকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

টিকা নিতে ঢামেকে উপচেপড়া ভিড়

টিকা নিতে ঢামেকে উপচেপড়া ভিড়

টিকা নিতে ঢামেকে উপচেপড়া ভিড়

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:০৯

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ ‍নিতে আসা মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিকালে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। টিকাপ্রত্যাশী এসব মানুষের ৮০ শতাংশই প্রবাসী। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দুটিই চলছে একসঙ্গে, যে কারণে ভিড় এত বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢামেক হাসপাতালে ৩ ধরনের টিকা দেওয়া হচ্ছে, সিনোফার্ম, অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও ফাইজার। এর মধ্যে ফাইজারের টিকা দেওয়া হচ্ছে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ। বাকি দু ধরনের টিকা দেওয়া হচ্ছে শুধু দ্বিতীয় ডোজ। একটি কেন্দ্রের ৮টি বুথের মধ্যে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

ঢামেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আশরাফুল আলম বলেন , এ চাপ আগামী দু-তিন দিন থাকবে। চাপের অন্যতম কারণ প্রবাসীদের দ্বিতীয় ডোজ। এখন প্রতিদিনই তিন হাজারেরও বেশি টিকা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ২শ জনকে। আজও এমনই হবে। বেলা দুইটা পর্যন্ত দেওয়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে টিকা। কাউকে ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষকে ৩ ধরনের টিকা দেওয়া হচ্ছে। যাদের মধ্যে প্রবাসীই ৮০ শতাংশেরও বেশি। 

নোয়াখালীর রায়পুরের বাসিন্দা এক সৌদি প্রবাসী বলেন, আমি ফাইজারের ২য় ডোজ নেবো। সকাল ৭টা থেকে লাইনে আছি। বিকাল ৪টা পর্যন্তও টিকা নিতে পারেন নি।

মাদারীপুরের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী রাশিদুল জানান, তিনি ভোর পাঁচটায় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বিকাল পৌনে চারটায় ২য় ডোজ নিয়েছেন।

/এআইইবি/এমআর/

সম্পর্কিত

‘ঢাকা মেয়র কাপ আন্তওয়ার্ড ক্রীড়া প্রতিযোগিতা’র দ্বিতীয় আসর ২২ ডিসেম্বর

‘ঢাকা মেয়র কাপ আন্তওয়ার্ড ক্রীড়া প্রতিযোগিতা’র দ্বিতীয় আসর ২২ ডিসেম্বর

রাজধানীর বংশালে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

রাজধানীর বংশালে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

ধানমন্ডির আড্ডা রেস্তোরাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা

ধানমন্ডির আড্ডা রেস্তোরাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা

যাত্রাবাড়ীর দুই প্রতিষ্ঠানকে আট লাখ টাকা জরিমানা

যাত্রাবাড়ীর দুই প্রতিষ্ঠানকে আট লাখ টাকা জরিমানা

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

নদী ভাঙনে জমি খাসের আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন 

নদী ভাঙনে জমি খাসের আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন 

সর্বশেষ

ভারতে আতশবাজির দোকানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫

ভারতে আতশবাজির দোকানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫

পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি, কঠোর প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রের

পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি, কঠোর প্রতিবাদ যুক্তরাষ্ট্রের

সিরিয়া ও ইরাকে দু’বছর সামরিক মিশন বাড়ালো তুরস্ক

সিরিয়া ও ইরাকে দু’বছর সামরিক মিশন বাড়ালো তুরস্ক

রাঙামাটিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ইউপি সদস্যের

রাঙামাটিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেলো ইউপি সদস্যের

সাতক্ষীরায় ১০ সাংবাদিক পেলেন মিডিয়া ফেলোশিপ

সাতক্ষীরায় ১০ সাংবাদিক পেলেন মিডিয়া ফেলোশিপ

© 2021 Bangla Tribune