X
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ 

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫১

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে হাতিয়া-ঢাকা লঞ্চ চলাচল, হাতিয়া-চট্টগ্রাম স্টিমার চলাচল ও হাতিয়া-বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান হোসেন বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর ও নদী উত্তাল থাকায় রবিবার সকাল থেকে হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদে অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

যেভাবে ধরা পড়লো ইকবাল

যেভাবে ধরা পড়লো ইকবাল

'হামলার দায় এড়াতে পারেন না রাজনৈতিক নেতারা'

'হামলার দায় এড়াতে পারেন না রাজনৈতিক নেতারা'

বেগমগঞ্জে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটের ঘটনায় সুজনের স্বীকারোক্তি 

বেগমগঞ্জে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটের ঘটনায় সুজনের স্বীকারোক্তি 

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি বদলি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি বদলি

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:০০

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত করোনা যোদ্ধাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স প্রণোদনার টাকা পেয়েছেন। এখন ৬৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স করোনাকালে দায়িত্ব পালন করলেও প্রণোদনার বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ নিয়ে করোনার সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে খ্যাত চিকিৎসক ও নার্সদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অফিস সূত্র মতে, ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩৬২ চিকিৎসকের মধ্যে ১৪৯ জন প্রণোদনার বরাদ্দ হিসেবে মূল বেতনের সমপরিমাণ দুই মাসের টাকা পেয়েছেন। ১০২৮ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সদের মধ্যে ৩৪০ জন একই হারে প্রণোদনার টাকা পেয়েছেন। গত অর্থবছরে প্রণোদনার বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ ছিল ২ কোটি ২৯ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৪০ টাকা। এই হিসেবে ৩৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ চিকিৎসক নার্স প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পেয়েছেন। এখনও ২১৩ জন চিকিৎসক ও ৬৮৮ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পাননি। এছাড়া করোনাকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১৪৬ জন চিকিৎসক, ৪৫০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ৯৫ কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে শাখাল বেগম নামে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স  করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

এখনও প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা না পাওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার আনিসুর রহমান জানান, ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের চিকিৎসকদের প্রণোদনার বরাদ্দ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং দ্বৈতনীতির বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও অনেক চিকিৎসক এখনও প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পায়নি। এ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে  ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে তিনি আরও জানান, যারা এখনও পায়নি এবং সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার চিকিৎসকদের দ্রুতই বরাদ্দের আওতায় এনে টাকা পাওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাড়ে চারশ সিনিয়র স্টাফ নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা করলেও এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ নার্স প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পায়নি। যারা এখনও টাকা পায়নি তাদের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চাপা ক্ষোভ নিয়ে এখনও এসব নার্সরা করোনা ইউনিটে রোগীদের সেবা করে যাচ্ছে। বিষয়টা বিবেচনায় এনে দ্রুতই এখনও যারা প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পায়নি তাদের টাকা পাওয়ার ব্যাপারে দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে এমনটাই দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাক্তার ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চলতি অর্থবছরে প্রণোদনার বরাদ্দের জন্য দ্বিতীয় দফায় ১৭৯ জন চিকিৎসক ও ৫৮০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের নামের তালিকা স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলে তারা প্রণোদনার টাকা পেয়ে যাবেন। তিনি আরও জানান, তৃতীয় দফায় যারা বাকি আছেন তাদের নামের তালিকা  স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানোর কাজ প্রক্রিয়াধীন। ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন চিকিৎসক নার্স প্রত্যেকেই প্রণোদনার বরাদ্দের টাকা পাবেন এমনটাই জানিয়েছেন উপ-পরিচালক।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক নার্সরা করোনা রোগীদের সেবার কাজ করে থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের প্রণোদনার বরাদ্দের আওতায় আনেনি। শুধুমাত্র মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তাদেরকে এই প্রণোদনার বরাদ্দের আওতায় আনা হয়েছে।

/এমআর/

সম্পর্কিত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ট্রেনিং সেন্টার করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ট্রেনিং সেন্টার করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ট্রেনিং সেন্টার করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫৬

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় ট্রেনিং সেন্টার করতে চেয়েছিল একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। একইসঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দলে যোগ দেওয়ার চাপ ছিল সন্ত্রাসীদের। এ জন্য প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকিতে আতংকে ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এমনটি অভিযোগ করছেন সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতের স্বজন ও সাধারণ রোহিঙ্গারা।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর ক্যাম্প জুড়ে বিরাজ করছে অস্থিরতা। কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রাত হলেই ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন না থাকায় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন রোহিঙ্গারা। তবে সন্ত্রাসীদের ভয়ে ক্যাম্পের বাসিন্দারা এ বিষয়ে কথা বলতে চান না, দেন না কোনও অভিযোগ।  

শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিতে আস নিহত রোহিঙ্গাদের কয়েকজন স্বজনদের সঙ্গে কথা হয়। তারা নাম প্রকাশে না করার শর্তে জানিয়েছেন- কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত ‌‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসাটি ‘আরসা’র পরিচয়ে কিছু সন্ত্রাসী ট্রেনিং সেন্টার করতে মাদ্রাসার সুপারকে চাপ দেয়। কিন্তু, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এতে রাজি না হওয়ায় রাতে হামলা চালানো হয়। এ সময় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক, ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবীসহ ছয় জন রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। হামলায় আহত হন ১০-১২ জন। 

নির্মম এই ঘটনার পরও হামলাকারীরা ক্যাম্পের আশপাশে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু, সাধারণ রোহিঙ্গারা ভয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তা জানাতে পারছেন না। কারণ, দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাত হলে ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সন্ত্রাসীদের হাতে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহত রোহিঙ্গার আরেক স্বজন অভিযোগ করেন, ‘ক্যাম্পে রাতের অবস্থা খুব ভয়াবহ। দিন শেষে সন্ধ্যা হলেই নিয়ন্ত্রণে নেয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ। এই গ্রুপটি মিয়ানমারের রাখাইনে সাধারণ রোহিঙ্গাদের যে জুলুম-নির্যাতন করে আসছিল, ঠিক একই কায়দায় ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন চালাচ্ছে। ক্যাম্পগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। রাত হলেই এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের বিচরণে ভয়ে রাত কাটে রোহিঙ্গাদের।’

রোহিঙ্গাদের ভাষ্যমতে, ‘আরসা’র নামধারী মৌলভী আবু বক্কর, মৌলভী নুর হোছন, খালেক, ফজলুল কবির, ইকবালসহ অনেকেই উখিয়ার বালুখালী ২ নম্বর ক্যাম্পটি নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এর জের ধরেই মাদ্রাসায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

জানতে চাইলে ক্যাম্পে নিয়োজিত ১৪ নম্বর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ‘এপিবিএন’র অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) মো. নাঈমুল হক জানান- রাতে ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এরপরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে। নিহত ছয় জনের হত্যাকারীদের ধরতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় হামলার ঘটনায় এই পর্যন্ত ছয় জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলোর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) ভোর ৪টার সন্ত্রাসীদের হামলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১২, ব্লক-জে-৫ এর বাসিন্দা হাফেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক মো. ইদ্রীস (৩২), ক্যাম্প-৯ ব্লক-১৯ এর মৃত মুফতি হাবিবুল্লাহর ছেলে  ইব্রাহিম হোসেন (২৪), ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এইচ -৫২ এর নুরুল ইসলামের ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র আজিজুল হক (২২), একই ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবী আবুল হোসেনের ছেলে মো. আমীন (৩২)। ‘এফডিএমএন’ ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এফ-২২ এর মোহাম্মদ নবীর ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক নুর আলম ওরফে হালিম (৪৫), এফডিএমএন ক্যাম্প-২৪-এর রহিম উল্লাহর ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক হামিদুল্লাহ (৫৫) নিহত হন। পুলিশ হামলাকারীদের সদস্য মুজিবুর নামের একজনকে দেশীয় লোডেড ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরিসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহতদের লাশ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহতদের দাফন করা হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের শীর্ষনেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যার পর ক্যাম্পজুড়ে বিরাজ করছে অস্থিরতা। সৃষ্টি হয়েছে ভীতিকর পরিস্থিতি। ক্যাম্পে কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা করছে। এছাড়া অবৈধ দখলের মাধ্যমেও তারা বিভিন্ন দোকান পরিচালনা করছে। মানুষ হত্যা ও জিম্মির ঘটনাও ঘটছে। তাই, সরকার ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক এজেন্সি একত্রে কাজ করছে। 

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৮

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনের স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে আবারও আমরণ অনশনে বসেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ফের অনশনে ক্যাম্পাস আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। 

শিক্ষার্থীরা ​বলছেন, বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বিকালে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সিন্ডিকেট সভা বসে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এমনটাই জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।  

অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা ফের অনশন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া আবু জাফর হোসাইন। 

শিক্ষার্থী আবু জাফর বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে আমাদেরকে ফোন দিয়ে জানানো হয় কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা মুলতবি করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা ভারপ্রাপ্ত ভিসি স্যারকে ফোন দেই। তখন তিনি বলেন, আজ এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসা যায়নি। তোমরা ক্লাস-পরীক্ষাতে ফেরো। আমরা আবার সিন্ডিকেট সভায় বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। তখন আমরা আগামীকালকেই সিন্ডিকেট সভা বসবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত একমাসের মধ্যে এই সভা বসার সম্ভাবনা নেই। 

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, আমরা শিক্ষকদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সব ধরনের আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু যেহেতু আমরা সমাধান পাচ্ছি না, তাই গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা থেকে আবারও আমরণ অনশন শুরু করেছি। 

তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফকে একাধিকবার মোবাইলফোনে কল দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় এ ঘটনায় গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার ধানমন্ডিস্থ আবাসিক ভবন অফিসে সিন্ডিকেট বৈঠক শুরু হয়। টানা ৩ ঘণ্টা বৈঠক চলার পর কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ বৈঠক শেষ হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। 

 

/টিটি/

সম্পর্কিত

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

সিরাজগঞ্জে মনসুর আলীর নাতির ওপর হামলা

সিরাজগঞ্জে মনসুর আলীর নাতির ওপর হামলা

সালিশে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক নিহত

সালিশে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সিএনজিচালক নিহত

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২২

ময়মনসিংহে নিজের কাছে থাকা অস্ত্রের গুলিতে এক বিজিবি সিপাহী আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের নাম সোহরাব হোসাইন চৌধুরী (২৩)। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর রাত ৯টায় ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকায় অবস্থিত ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে তিনি আত্মহত্যা করেন। 
 
ওই বিজিবি সদস্য ফেনীর পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তবে এ বিষয়ে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়নের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌফিকুর রহমান।

জানা যায়, নিজ বেতনের টাকায় সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হওয়ায় ক্ষোভে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেন, ‘সাতটা বছর মানসিক যন্ত্রণা আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে সত্যি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এইবার একটু রেস্ট দরকার। আমার পরিবার, সহকর্মী সিনিয়র-জুনিয়র, আমার বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য পারলে ক্ষমা করবেন, এছাড়া বিকল্প কোনও পথ আমার ছিল না।’  

/টিটি/

সম্পর্কিত

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

চুল কেটে দেওয়া শিক্ষিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় ফের অনশন 

ময়মনসিংহে আরও ৩ রাজাকার গ্রেফতার 

ময়মনসিংহে আরও ৩ রাজাকার গ্রেফতার 

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে গুলি ছুড়তে হবে’

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক-অস্ত্র ব্যবসা বন্ধে গুলি ছুড়তে হবে’

মাদারীপুর অঞ্চলে ৯ মাসে সড়কে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

মাদারীপুর অঞ্চলে ৯ মাসে সড়কে ঝরেছে ২১৩ প্রাণ

রোহিঙ্গাদের অভিযোগে আরসা, পুলিশ বললো অস্তিত্ব নেই

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ০০:১৭

রাত তখন ৩টা। কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকে সুনসান নীরবতা। কেউ ঘুমের ঘোরে, কেউ তাহাজ্জুদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক একই অবস্থা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল উলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায়ও। রাত পোহালে শুক্রবার। ছুটির দিন হওয়ায় অনেক ছাত্র বাড়িতে চলে গেছেন। হেফজ বিভাগের ২০/২৫ ছাত্র এবং সাত শিক্ষক রাতে মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন। শিক্ষকদের কয়েকজন তখন মসজিদে তাহাজ্জুদের নামাজে দাঁড়িয়েছিলেন। এমন সময় ঘটে আকস্মিক সশস্ত্র হামলা। প্রায় সাড়ে ৩০০ সন্ত্রাসী দা, কিরিচসহ নানান দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক ও ছাত্রদের ওপর হামলা চালায়। এতে নিহত হয়েছেন ছয় জন। এর মধ্যে তিন শিক্ষক, এক ছাত্র ও দুই সাধারণ রোহিঙ্গা রয়েছেন। এই ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও সাধারণ রোহিঙ্গারা সরাসরি আরাকানের সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা’কে দায়ী করেছেন।

নিহতরা হলেন- শিক্ষক হাফেজ মো. ইদ্রিস, মসজিদের ইমাম নুর হালিম, হামিদ উল্লাহ, ছাত্র নুর কায়সার, স্থানীয় রোহিঙ্গা আজিজুল হক (১৬) ও মোহাম্মদ আমিন (৬৩)। এ ঘটনায় মাদ্রাসা পরিচালক দিল মোহাম্মদসহ আরও ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের শীর্ষস্থানীয় নেতা মো. মুহিবুল্লাহকে (৫০) হত্যার ঘটনায় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসীরা জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছিল তার পরিবার।

এদিকে, বাংলাদেশে আরসা নামের কোনও সংগঠনের অস্তিত্ব নেই দাবি করে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্বৃত্তের গুলিতে ছয় রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন। তাদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে নিশ্চিত না হয়ে বলা যাচ্ছে না এ ঘটনায় কারা জড়িত।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে কাজ করা একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা বলেন, ‘এ ধরনের হামলা হতে পারে, সে বিষয়ে আমরা আগে থেকেই আঁচ করেছিলাম। এ নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করেছি। কিন্তু আমরা পদক্ষেপ নিতে পারেনি। মূলত মুহিবুল্লাহ হত্যার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু অপরাধী ধরা পড়েছে। সেখানে এ হামলাকারীদের অনেক সদস্য ছিল। ফলে তারা আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এ ধরনের হামলা আরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসাটির দাওরা বিভাগের (উচ্চতর শ্রেণি) ছাত্র রহিমুল্লাহ বলেন, ‘শুক্রবার ছুটি থাকায় রাতে তেমন পড়াশোনা ছিল না। তাই এশার নামাজের পর সামান্য পড়ে শুয়ে পড়েছিলাম। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ পশ্চিম দিক থেকে ৩০০/৪০০ সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাদ্রাসা ঘিরে ফেলে। এর মধ্যে দেড় শতাধিক ক্যাম্পাসে ঢুকে টিনশেডে দা কিরিচ দিয়ে কোপাতে থাকে। পরে তারা নামাজরত অবস্থায় শিক্ষকদের ওপর হামলা করে, গুলি চালিয়ে তাদের হত্যা করে। পরে ছাত্রদের কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর করে তাদের ওপরও হামলা চালায়। সেখানে বেশিরভাগ ছিল হেফজ বিভাগের ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী ছাত্র। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের অনেকে তাদের সন্তানদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করে আরসার সন্ত্রাসীরা। তবে এত বেশি সংখ্যক সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে সাহস করেনি কেউ।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান প্রশাসনের কর্মকর্তারা

শুক্রবার সকালে উখিয়ার বালুখালীর ওই ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসাটি ঘিরে রেখেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। মাদ্রাসার বাইরে সড়কে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলার সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। এলাকার মানুষের মুখে কোনও সাড়া শব্দ নেই। তবে নিহত পরিবারগুলোতে স্বজনদের আহাজারি শোনা গেছে।

রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, আরসা পুরো ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার করছে। তাদের আলেমদের নিয়ে গঠিত সংগঠন ‘উলামা কাউন্সিল’ ক্যাম্পের প্রত্যেক মসজিদ-মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল। ইতোমধ্যে ক্যাম্পের শতাধিক মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে। যেসব মাদ্রাসা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সেখানে তারা সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে। একাধিকবার তারা এ মাদ্রাসাটি নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আরসার একাধিক প্রস্তাবেও কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা প্রতিষ্ঠানটি তাদের হাতে তুলে দিতে রাজি হননি। এতে ওই ব্লকের রোহিঙ্গা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ওপর ভীষণ খেপেছিল আরসার নেতার।

এইচ ব্লকের নুর আমিন জানান, যে মাদরাসাটিতে হামলা হয়েছিল, সেটি পরিচালনা করতেন ইসলামিক মাহাজ নামের একটি রোহিঙ্গা সংগঠন। তবে সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়সহ, মিয়ানমার ফেরাতে উৎসাহিত করার কাজ করছে। এছাড়া সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু সন্ত্রাসী সংগঠনটি (আরসা) এটি মেনে নিতে পারেনি। তাই মাহাজকে পিছু হটাতে সংগঠনটির মূল কেন্দ্র মাদ্রাসাটিতে হামলা চালানো হয়।

নিহত আজিজুল হকের মা সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আজিজ মাদ্রাসায় হামলার ঘটনার খবর শুনে হেফজ বিভাগে পড়ুয়া ভাই নুর কদরকে উদ্ধার করতে ছুটে গিয়েছিলেন। সেখানে আরসার সদস্যরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।’

হামলার শিকার মাদ্রাসাটি

নিহত নুর হালিমের স্ত্রী উম্মে হাবিবা বলেন, ‘আমার স্বামী মাদ্রাসাটির শিক্ষক ছিলেন এবং মসজিদের ইমামতি করতেন। ঘটনার রাতে তিনি মাদরাসায় ছিলেন। সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীকে মাদরাসায় ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় হামলার পর হত্যা করে। সন্ত্রাসীরা সবাই আরসার লোক ছিলেন। এর আগেও একাধিকবার তারা আমার স্বামীকে হুমকি দিয়েছিল।’

এইচ ব্লকের রোহিঙ্গা নেতা মো. ইউসুফ বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারে রাখাইনদের হাতে মার খেয়ে আশ্রয়ের জন্য এ দেশে পালিয়ে এসেছিলাম। এখন এখানে এসে রোহিঙ্গাদের মার খেতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আজ সন্ধ্যার পর কী ঘটবে তাও আমাদের অজানা। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখানে বিশেষ করে রাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা দরকার।’

এদিকে, শুক্রবার সকাল ১১টায় ক্যাম্পের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু দৌজা চৌধুরী নয়ন, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক নাঈমুল হক, ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শিহাব কায়সার খান।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য ক্যাম্প প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থানে থাকবে। ঘটনা তদন্তের পর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে। অনুমান করে কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু দৌজা নয়ন বলেন, ‘একদল দুর্বৃত্তের হামলায় ছয় জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। ক্যাম্পে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কাজ করছি।’

/এফআর/

সম্পর্কিত

পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা: যুব পরিষদের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে 

পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা: যুব পরিষদের ৭ নেতাকর্মী রিমান্ডে 

‘সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

‘সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিতে’ কুমিল্লার ঘটনা লাইভে প্রচারের স্বীকারোক্তি

কুমিল্লার সহিংসতার ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

কুমিল্লার সহিংসতার ঘটনায় আহত বৃদ্ধের মৃত্যু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার কথা ‘স্বীকার করেছেন’ ইকবাল

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

যেভাবে ধরা পড়লো ইকবাল

যেভাবে ধরা পড়লো ইকবাল

'হামলার দায় এড়াতে পারেন না রাজনৈতিক নেতারা'

'হামলার দায় এড়াতে পারেন না রাজনৈতিক নেতারা'

বেগমগঞ্জে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটের ঘটনায় সুজনের স্বীকারোক্তি 

বেগমগঞ্জে হামলা চালিয়ে মালামাল লুটের ঘটনায় সুজনের স্বীকারোক্তি 

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি বদলি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি বদলি

নোয়াখালীতে বিশৃঙ্খলায় গ্রেফতার ১৩০ 

নোয়াখালীতে বিশৃঙ্খলায় গ্রেফতার ১৩০ 

সেনবাগ বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি

সেনবাগ বিএনপির কমিটি বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি

নোয়াখালীর ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৯

নোয়াখালীর ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৯

‘চৌমুহনীর ঘটনায় জেলা প্রশাসককে জবাবদিহি করতে হবে’  

‘চৌমুহনীর ঘটনায় জেলা প্রশাসককে জবাবদিহি করতে হবে’  

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের মামলায় যুবদলের ২ নেতা গ্রেফতার

নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের মামলায় যুবদলের ২ নেতা গ্রেফতার

হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ

হাতিয়ার সঙ্গে সারাদেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ

সর্বশেষ

এখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজএখনও প্রণোদনার টাকা পাননি ৭৬ শতাংশ চিকিৎসক-নার্স

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ট্রেনিং সেন্টার করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় ট্রেনিং সেন্টার করতে চেয়েছিল সন্ত্রাসীরা 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে সুইডেন : রাষ্ট্রদূত

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে সুইডেন : রাষ্ট্রদূত

তুষারপাত ও বৈরী আবহাওয়ায় ভারতে ১১ পর্বতারোহীর মৃত্যু

তুষারপাত ও বৈরী আবহাওয়ায় ভারতে ১১ পর্বতারোহীর মৃত্যু

সাস্ট ক্লাবের নতুন কমিটির শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণ 

সাস্ট ক্লাবের নতুন কমিটির শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণ 

© 2021 Bangla Tribune