X
বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

যেভাবে ‘পুণ্যের প্রচার ও পাপ ঠেকাবে’ তালেবানের নৈতিকতা পুলিশ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৫৯

কান্দাহার প্রদেশে তালেবানের পুণ্যের প্রচার ও পাপ দমন কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মৌলভী মোহাম্মদ শেবানি জানিয়েছেন, কীভাবে তাদের নৈতিকতা পুলিশ কাজ করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।

নৈতিকতা পুলিশ বাহিনী গঠনের পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন তালেবানের প্রথম শাসনামলের অন্ধকার যুগ ফিরে আসার। তবে শেবানি বলছেন তারা, মানুষকে উৎসাহিত করবেন নীতি মানতে, সহিংসতা নয়। তার ভাষায়, আগে আমাদের কোনও লিখিত হ্যান্ডবুক ছিল না, এখন আছে।

সাক্ষাৎকারে শেবানি এই পুলিশবাহিনীর কাঠামো ও কীভাবে কাজ করবে তা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, গত বছর এই বিষয়ে তাদের একটি পকেট হ্যান্ডবুক প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পুলিশ সদস্যদের জন্য গাইডলাইন রয়েছে।

হ্যান্ডবুকে যে কোনও আইনভঙ্গের ঘটনায় একাধিক পদক্ষেপ ও প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমত তাদের বিষয়টি বোঝানো, পরে আচরণ বদলাতে উৎসাহিত করা। এরপরও তারা যদিনা পাল্টায় তাহলে শক্তি প্রদর্শন একটি উপায় হতে পারে।

গাইডলাইনে চতুর্থ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এরপরও কোনও ব্যক্তি নিজের আচরণ না পাল্টায় এবং এতে যদি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে তাহলে তাকে হাত দিয়ে থামানো যেতে পারে।

তবে ১৯৯০ দশকে তালেবান শাসনের কয়েকটি কঠোর আইন পুনর্বহাল রাখা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, নারীদের বাড়ির বাইরে যেতে অবশ্যই একজন পুরুষ অভিভাবক সঙ্গে রাখা, নামাজ আদায় বাধ্যতামূলক এবং পুরুষদের দাড়ির দৈর্ঘ্যের শর্ত।

শিবানি জানান, মার্কিন ও আফগান বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের সময় তারা একটি পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। এতে করে নৈতিকতা পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত পুলিশ স্টেশনে একীভূত হবে। গ্রামীণ কান্দাহারে ১৮টি জেলা রয়েছে। প্রতিটিতে তার কমিশনের পাঁচ সদস্য রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি এলাকায় প্রধান চারটি চেক পয়েন্ট রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটিতে একজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা মুজাহিদিন ও মোল্লাদের সঙ্গে কাজ করছেন।

শেবানি বলেন, মানুষ কী করছে তা তারা পর্যবেক্ষণ করছে। মানুষ বেআইনি কিছু করছে কিনা তা আমরা এভাবে জানতে পারব। স্থানীয়দেরও অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। রেডিওতে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে অপরাধমূলক যে কোনও বিষয়ে আমাদের দ্রুত অবহিত করার জন্য।

তিনি জানান, আপাতত তালেবানের ভয়ঙ্কর টহল দল রাস্তায় নামছে না। তার কথায়, কোনও টহল থাকবে না। আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই যে, আমরা কারও বাড়িতে বা সমাবেশে প্রবেশ করব না। তাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ব্যবহার করব না।

মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইনে কারও বাড়িতে পুলিশ সদস্যদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। কোথাও আইনের লঙ্ঘন হলেও এটি না করতে বলা হয়েছে। গাইডলাইন অনুসারে, কোনও বাড়ি থেকে যদি সংগীত, টেলিভিশন ও বাজনার শব্দ আসে তাহলে তা থামানো উচিত। কিন্তু এটি করার জন্য বাড়িতে প্রবেশ করা যাবে না।

হ্যান্ডবুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি দান-খয়রাতে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে। এমনকি নারীদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, জোর করে বিয়ে ও বিবাহ বিচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ আছে। তবে এতে যুক্ত করা হয়েছে, কোনও নারী পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ছাড়া কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে না এবং তাদের একা বাড়ির বাইরে যাওয়া উচিত না।

এতে বলা হয়েছে, ধৈর্য্যের সঙ্গে হিজাব ও পুরুষ অভিভাবক ছাড়া নারীদের বাইরে বের হওয়া ঠেকাতে হবে।

/এএ/

সম্পর্কিত

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৩০

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামতে চায় না তাইওয়ান। তবে তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে হবে এবং চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে এক প্রতিবেদনে এই অবস্থান তুলে ধরেছে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এখবর জানিয়েছে।

গত বছর বেইজিং তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে সামরিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার পর থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়। তাইওয়ান চীনকে তাদের ভূখণ্ড এবং চীনও তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। চীনের শাসন মেনে নিতে তাইপেইকে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ দিয়ে আসছে বেইজিং।

চীন নিজেদের সামরিক কর্মসূচির আধুনিকায়ন করছে, নতুন এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার ও স্টিলথ যুদ্ধবিমান তৈরি করছে। তাইওয়ানও নিজেদের সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও সাবমেরিন উন্নয়নে।

পার্লামেন্টে এক প্রতিবেদনে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাইওয়ান প্রণালীর পরিস্থিতিকে গুরুতর ও অস্থিতিশীল বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে চীনের কার্যকলাপকে উসকানি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কমিউনিস্ট সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামবে না তাইওয়ান। কিন্তু চীনের কমিউনিস্টরা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। কখনোই চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না।

এতে আরও বলা হয়েছে, চীন ও তাইওয়ানের মুখোমুখি অবস্থান স্বল্প মেয়াদে অবসান অসম্ভব।

/এএ/

সম্পর্কিত

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:০৬

যুক্তরাষ্ট্রসহ ১০ পশ্চিমা দেশের রাষ্ট্রদূতদের তুরস্ক থেকে বহিষ্কারের ইস্যুতে দৃশ্যত পিছু হটেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। সোমবার তিনি জানিয়েছেন, আপাতত ওই রাষ্ট্রদূতদের ফিরে যেতে হবে না। তাদের ওপর জারি করা নোটিস ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কারাবন্দি মানবাধিকার কর্মী ওসমান কাভালার মুক্তির দাবি তোলায় ১০ পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকদের বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এরদোয়ান। এই ১০টি দেশ হলো, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। গত ১৮ অক্টোবর এক যৌথ বিবৃতিতে কাভালার মুক্তি নিশ্চিত করতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন আঙ্কারায় নিযুক্ত এই দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় আঙ্কারা।

সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ওই ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত নিজেদের অবস্থান বদল করেছেন। সে কারণেই তিনি কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। ঘণ্টাব্যাপী মন্ত্রিসভা বৈঠকের শেষে এরদোয়ান বলেন, রাষ্ট্রদূতরা শিক্ষা নিয়েছেন এবং এখন থেকে তারা আরও সতর্ক হবেন।

আঙ্কারা বলছে, ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত একটি নতুন বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তারা বলেছেন, তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে চান না।

আন্তর্জাতিক কূটনীতির নীতি অনুযায়ী কোনও দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারেন না। ১০ দেশের রাষ্ট্রদূত বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এরপরই বরফ কিছুটা গলেছে বলে দাবি এরদোয়ান সরকারের।

তুর্কি সরকার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ওই কূটনীতিকদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতো। এতে আঙ্কারার সঙ্গে পশ্চিমা দুনিয়ার সম্পর্ক কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকতো।

এমনিতেই তুরস্কের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক ক্রমশ জটিল হচ্ছে। তার মধ্যে রাষ্ট্রদূতদের বহিষ্কার করলে কার্যত সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হতো। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই আগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেন এরদোয়ান। অন্যদিকে, ১০ পশ্চিমা দেশও প্রকাশ্যে বিবাদে জড়াতে চায়নি। এমন বাস্তবতায় উভয় পক্ষই কিছুটা নমনীয় হয়েছে। সূত্র: ডিডব্লিউ।

/এমপি/

সম্পর্কিত

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৩৬

বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া জাপানের এক নাগরিক মারা গেছেন। ৯৬ বছর বয়সী সুনাও সুবোই পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী প্রচার চালিয়ে গেছেন। গত শনিবার রক্ত স্বল্পতায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমা শহরে যখন পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হয় তখন কলেজের পথে ছিলেন সুনাও সুবোই। হামলায় তার পুরো শরীর পুড়ে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ওই হামলায় এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূলে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন সুনাও সুবোই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা যখন হিরোশিমায় ঐতিহাসিক সফরে যান তখন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সুবোই। ২০১৬ সালে ওই সফরের সময় তারা হাত মেলান আর বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন।

পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের দিনে ২০ বছরের প্রকৌশল শিক্ষার্থী ছিলেন সুনাও সুবোই। সেদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে পরে তিনি বলেছেন, ‘উলঙ্গ অবস্থায় আমি ৬ আগস্ট তিন ঘণ্টা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিনি।’ পরে জ্ঞান হারানোর আগে একটি পাথর নিয়ে তিনি মাটিতে লেখেন, ‘এখানে সুবোইয়ের মৃত্যু হয়েছে’। কয়েক সপ্তাহ পর তার জ্ঞান ফেরে।

পরে জাপানের স্কুলে গণিত পড়াতেন সুনাও সুবোই। তরুণদের যুদ্ধের সময় নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতেন তিনি। পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধীদের তার পরামর্শ ছিলো, ‘হাল ছাড়বেন না’।

হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া প্রায় এক লাখ ২৭ হাজার মানুষ এখনও জীবিত আছেন। সুনাও সুবোই দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রেখে গেছেন।

/জেজে/

সম্পর্কিত

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৭:২২

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকে মৃত দেখানোর ফন্দি এঁটেছিলেন একজন ভারতীয় নাগরিক। নিজের পরিকল্পনাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কোবরার বিষ দিয়ে একজনকে হত্যাও করেন। সহযোগীদের দিয়ে প্রচার করেন, সাপের বিষে আসলে তার নিজের মৃত্যু হয়েছে। তাই তার পরিবার বিমার অর্থের যৌক্তিক দাবিদার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিমা প্রতিষ্ঠানটির অনুরোধে তদন্তে নেমে পুরো ঘটনা ফাঁস করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন প্রভাকর ভিমাজি ওয়াঘচৌরে এবং তার সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার ভারতের আহমেদনগরের এসপি মনোজ পাতিল তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিনব কৌশলের খুনের ছক কষেছিলেন প্রভাকর ভিমাজি ওয়াঘচৌরে। ৫৪ বছরের প্রভাকর দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বাস করতেন। গত জানুয়ারি মাসে দেশে ফিরে মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে বসবাস শুরু করেন। এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জীবন বীমা কোম্পানি থেকে তার নামের সাড়ে ৩৭ কোটি রুপি আদায়ের ছক কষতে থাকেন।

পরিকল্পনার ফলস্বরূপ কোবরার বিষের আইডিয়া মাথায় আসে তার। এই বিষ দিয়ে এক ব্যক্তিকে খুন করে, নিজের নামে চালানোর চেষ্টা করেন। গত এপ্রিল মাসে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে থানায় খবর আসে কোবরার ছোবলে প্রভাকরের মৃত্যু হয়েছে।

তখন তদন্তে নেমে জানা যায়, প্রভাকরের ভাগ্নের পরিচয়ে প্রবীণ নামে এক ব্যক্তি মৃতদেহকে প্রভাকর ভিমাজি ওয়াঘচৌরে হিসেবে শনাক্ত করেন। স্থানীয় একজন ব্যক্তি একইভাবে শনাক্ত করে। ফলে প্রভাকর ভিমাজি ওয়াঘচৌরকে মৃত বলেই ঘোষণা করে হাসপাতাল ও পুলিশ।

এরপরই প্রভাকরের পরিবারের তরফে জীবন বীমার অর্থ চাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওই কোম্পানির কাছে। কিন্তু কোম্পানি অর্থ দেওয়ার আগে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি জানায়। এ দফায় তদন্তে নামার পরই সামনে আসে আসল ঘটনা।

পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোনও রকম সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রভাকরের বাড়িতে একটি অ্যামবুলেন্সকে আসতে দেখা গেছে। সন্দেহ হয় পুলিশের। স্থানীয় যে ব্যক্তি প্রভাকরকে মৃত বলে শনাক্ত করেছিলেন তার খোঁজ চালায় পুলিশ। জানা যায়, করোনায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

পরে প্রভাকরের স্বজনদের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। সেখান থেকে ফোন নম্বর জোগাড় করে ট্র্যাক করতেই বেরিয়ে আসে প্রভাকর ভিমাজি ওয়াঘচৌরে জীবিত।

পুলিশ জানিয়েছে, সেই সময় প্রভাকরের মৃতদেহ হিসেবে যার কথা বলা হয়েছিল তার নাম নাবন্থ যশবন্ত আনাপ, বয়স ৫০ বছর। একই এলাকায় প্রভাকরের সঙ্গে বাস করতেন তিনি। ঘটনার দিন প্রভাকর জোর করে ডেকে পাঠায় আনাপকে। সেখানে তাকে অজ্ঞান করে পায়ে কোবরার বিষ দেওয়া হয়।

এই ষড়যন্ত্রের পেছনে থাকা প্রভাকর ভিমাজি ওয়াঘচৌরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সঙ্গে আরও চারজন যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদেরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গেছে, তাদেরকে ৩৫ লাখ রুপি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রভাকর। সূত্র: ভিওএ।

/এমপি/

সম্পর্কিত

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১৭:২১

আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর সিনিয়র কর্মকর্তারা ইরানের রাজধানীতে জড়ো হয়েছেন। তালেবান শাসিত দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে এক দিনের সম্মেলনে অংশ নেবেন তারা।

ইরান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বুধবার তেহরানে মিলিত হয়েছেন। এই সম্মেলনে চীন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিডিও লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির ‘অন্য জরুরি কাজ থাকায়’ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোখবির। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে আমেরিকান নীতির পরাজয়ের অর্থ এই নয় যে  এই অঞ্চলে তাদের ধ্বংসাত্মক নীতি বাদ দেবে।

জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া শক্তি হিসেবে আখ্যা দেন মোহাম্মদ মোখবির। তিনি বলেন, আইএস এখন আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে সেখানে গৃহযুদ্ধ শুরু করতে চায়।

এক দিনের সম্মেলনে অংশ নেওয়া সাত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্য বক্তব্য রাখার পর রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তারা একটি যৌথ বিবৃতির বিষয়ে সম্মত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আফগানিস্তান ইস্যুতে আরেকটি বৈঠক আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমিরাব্দুল্লাহিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানের ওপর আরোপিত একক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। তারা বলেন পতনের মুখে থাকা আফগান অর্থনীতির ব্যাপক সহায়তা প্রয়োজন।

এছাড়া ওই সম্মেলন থেকে আফগানিস্তানে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়। আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার ওপর জোর দেন সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা।

/জেজে/

সম্পর্কিত

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

চীনের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না তাইওয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

যে কারণে পিছু হটলেন এরদোয়ান

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

চলে গেলেন হিরোশিমার পারমাণবিক হামলায় বেঁচে যাওয়া সুবোই

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

বিমার অর্থ হাতিয়ে নিতে নিজেকেই মৃত দেখালেন তিনি

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

তেহরানে মিলিত হয়েছেন আফগান প্রতিবেশীরা

ডব্লিউএইচও’র অনুমোদনের অপেক্ষায় কোভ্যাক্সিন নেওয়া ভারতীয়রা

ডব্লিউএইচও’র অনুমোদনের অপেক্ষায় কোভ্যাক্সিন নেওয়া ভারতীয়রা

উদ্বেগজনক ইস্যুতে চীন-মার্কিন আলোচনায় অগ্রগতি

উদ্বেগজনক ইস্যুতে চীন-মার্কিন আলোচনায় অগ্রগতি

প্রথমবারের মতো জান্তার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সু চি: এএফপি

প্রথমবারের মতো জান্তার আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন সু চি: এএফপি

‘ফেক নিউজ’ ভারতে বেশি

‘ফেক নিউজ’ ভারতে বেশি

সর্বশেষ

বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ডের নিবন্ধন শুরু

বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ডের নিবন্ধন শুরু

কুড়িয়ে পাওয়া ২ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলেন ভ্যানচালক

কুড়িয়ে পাওয়া ২ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলেন ভ্যানচালক

তিন বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা সমতাকরণের প্রস্তাব

তিন বাহিনীর কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা সমতাকরণের প্রস্তাব

স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা, সাবেক প্রেমিককে সন্দেহ পুলিশের

স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা, সাবেক প্রেমিককে সন্দেহ পুলিশের

‘রিবানা’ এখন অ্যামাজনে

‘রিবানা’ এখন অ্যামাজনে

© 2021 Bangla Tribune