X
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

শেখ হাসিনা না জন্মালে ভোট ও ভাতের অধিকার পেতাম না: শেখ পরশ

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:২৬

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম না নিলে আমরা আজ একটা মানচিত্র পেতাম না, পতাকা ও জাতীয় সংগীত পেতাম না; আর শেখ হাসিনা জন্ম না নিলে আমরা গণতন্ত্র পেতাম না, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোট ও ভাতের অধিকার এবং একটা মর্যাদাশীল দেশ পেতাম না।

রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা'র ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের উদ্যোগে মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ ফজলে শামস পরশ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলকে সুসংগঠিত করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা এবং ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার করার সংগ্রামে নেমেছিলেন। তিনি বলেন, সকল দুঃখ-কষ্ট বুকে নিয়ে রাত-দিন সংগঠনের পেছনে সময় দিতেন। দলকে সুসংগঠিত করার জন্য তিনি সমগ্র দেশ সফর করে বেরিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এবং জাতির পিতার হত্যার বিচারের জন্য শেখ হাসিনাকে কঠোর পরিশ্রম আর সংগ্রাম করতে হয়েছে উল্লেখ করে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, পুড়ে পুড়ে খাঁটি হয়েছেন তিনি। তার জীবনের সংগ্রাম এবং স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে শুধু একজন ত্যাগী জননেত্রী হিসেবেই সৃষ্টি করেনি, বিশ্বের একজন অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বিএনপি-জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত দেশে কী করেছে? জঙ্গিবাদের উত্থান, বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, কৃষকের ওপর অত্যাচার, সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার, সংখ্যালঘু সম্প্রাদায়ের ওপর অত্যাচার, রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি, মৌলবাদের উত্থান থেকে শুরু করে নৌকার ভোটারদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের ইতিহাস কারও অজানা নয়।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রসঙ্গে শেখ পরশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাম্যের কথা, অর্থনৈতিক বৈষম্যের কথা এবং সামাজিক অবিচারের কথা। বৈশ্বিক অঙ্গীকারের উদাহরণস্বরূপ তিনি টিকার ন্যায্য হিসসা এবং ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবিচারের কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ আজ দ্রুত বর্ধমান পাঁচটি অর্থনৈতিক দেশের মধ্যে একটি। বিশ্বনেতৃবৃন্দের প্রতি কয়েকটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- টিকা বৈষম্য দূরীকরণ, সবার জন্য ন্যায়সংগত ও সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা পাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা, প্রবাসী ও অধিবাসীদের অধিকারের কথা, রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা এবং রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন।

সভায় অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনুদ্দিন রানা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজা, আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, মোয়াজ্জেম হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি জোদ্দার, মো. আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ প্রমুখ। 

/পিএইচসি/ইউএস/

সম্পর্কিত

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

মন্দিরে যারা হামলা করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের শত্রু: ওবায়দুল কাদের

মন্দিরে যারা হামলা করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের শত্রু: ওবায়দুল কাদের

কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না: ওবায়দুল কাদের

কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না: ওবায়দুল কাদের

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:১১

গঠনের পর এখন পর্যন্ত ২০ দলীয় জোট  ৬ বার ভেঙেছে। বেরিয়ে গেছে ৫টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। তবুও ২০ দলীয় জোটে ‘২০ দল’ই থেকে যায়। সেটা কীভাবে? ধরুন, জোটের কোনও শরিক দলের বড় অংশ চলে গেলো, তখন ওই দলেরই একজন নেতাকে নিয়ে দলের নাম একই রেখে জোটের অংশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণে ২০ দলীয় জোট এখন ‘অনিবন্ধিত দলের জোট’ রূপ নিয়েছে। আর ‘একদল-একনেতা’ নির্ভর এসব দল অনেকটা ‘মৌসুমি রাজনীতি’ নির্ভর। তাদের কর্মসূচি-কার্যক্রম কিছুই নেই। অনেকের কার্যালয়ও নেই। আর যেসব সংগঠনের কার্যালয় আছে, জোটের মতো সেগুলোও নিষ্ক্রিয়।

বিএনপি-জোটের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির, মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে চারদলীয় জোট গঠনের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে জোট ত্যাগ করেন এরশাদ। তখন জাপা মহাসচিব নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে একটি অংশ থেকে যায় জোটে। তাদের মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল চারদলীয় জোটের বর্ধিত ‘১৮ দলীয় জোটে’র ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। পর্যায়ক্রমে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দল যোগ দিলে তা ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়।

অফিসই নেই, অথচ প্রস্তুতি নিবন্ধনের

২০১৪ সালে এই জোটে প্রথম ভাঙন আসে। প্রয়াত শেখ শওকত হোসেন নিলুর ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নিবন্ধিত অংশ জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায়। এরপর একই নামে ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে আরেকটি অংশ (অনিবন্ধিত) জোটে থেকে যায়। বিএনপি-জোটের এই শরিক এখন অনেকটাই ‘ওয়ান ম্যান শো’ পার্টি। দলের কার্যালয় নেই। কার্যক্রমও প্রায় নেই বলা চলে।

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে কোনও কর্মকাণ্ডে পাওয়া যায়নি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল পিপলস পার্টিকে (এনপিপি)। মতিঝিলে নিজের চেম্বারে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তিনি। তার দলের যুগ্ম মহাসচিব পরিচয়ে ফরিদ উদ্দিন গত ১৪ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আগামী নভেম্বরেই অফিস নেবো। পুরানা পল্টন এলাকাতেই নেবো। আগামীতে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করবো।’

মাওলানা রকিবের ইসলামী ঐক্যজোটের ‘বৈঠক হয় ভাইস চেয়ারম্যানের বাসায়’

২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি বিভিন্ন অভিযোগে জোট ত্যাগ করে প্রয়াত মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী (আমির) ও মুফতি ফয়জুল্লাহর (মহাসচিব) নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট। এর পেছনে বড় কাটারা মাদ্রাসার পরিচালনা ধরে রাখার বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছিল বলে জানান তাদের আরেক নেতা।

২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি ঢাকার গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অফিসে সৃষ্ট ‘ইসলামী ঐক্যজোটের’ আত্মপ্রকাশকালীন মুহূর্ত

রাজধানীর একটি মিলনায়তনে যখন জোট ত্যাগের ঘোষণা দেন ঐক্যজোটের নেতারা, সেদিনই সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘ইসলামী ঐক্যজোটে’র আরেকটি অংশের সূত্রপাত ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যজোটের অনিবন্ধিত অংশের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মাওলানা আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মাওলানা আবদুল করিমের নাম ঘোষণা করা হয়। তারা বিএনপি-জোটে প্রতিনিধিত্ব করার ঘোষণা দেন।

পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন অবধি দল পরিচালনার জন্য কোনও কার্যালয় নিতে পারেনি ইসলামী ঐক্যজোটে’র এই অংশ। এর নেতৃত্বে থাকা মাওলানা আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট একইসঙ্গে নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাধারণত সিলেটে থাকেন। ঢাকায় সুপ্রিম কোর্টে তার চেম্বার রয়েছে। তবে তার নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টির কোনও কার্যালয় নেই। কেন নেই? এর জবাবে আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি ভবনে (৫১/৫১) তাদের কার্যালয় ছিল। তার কথায়, ‘আমিই নিয়েছিলাম অফিসটি। কিন্তু ২০১৬ সালে একটি অংশ বিএনপি-জোট ছেড়ে দেওয়ার পর আমরা এটি ব্যবহার করতে পারিনি।’

আবদুর রকিব যোগ করেন, ‘জোট ছেড়ে চলে যাওয়া নেতারা তো সরকারপন্থী। আমরা পরে সেগুনবাগিচায় একটি অফিস নিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার-ঘনিষ্ঠরা অফিস সহকারীদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করেছে। এ কারণে আর কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। তাই আমরা ঢাকার মালিবাগে আমাদের ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত আমীনের বাসায় দলীয় বৈঠক করি।’

ঠিকানা আছে, অফিস নেই

২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর বিএনপি, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশের তিন দিনের ব্যবধানে জেবেল রহমান গানির নেতৃত্বাধীন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) বেরিয়ে যায়। একইদিন গানির সঙ্গে বেরিয়ে যায় খন্দকার গোলাম মোর্তুজার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি-অনিবন্ধিত)। 

ন্যাপ ও এনডিপি জোট ত্যাগ করার দিনেই একই নামে দুইজনকে দিয়ে দুটি দলের প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখে বিএনপি-জোট। শাওন সাদেকীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অ্যাডভোকেট মশিউর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করে ‘বাংলাদেশ ন্যাপ’ পরিচয়ে জোটের শরিক পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। 

নিবন্ধিত বাংলাদেশ ন্যাপের একজন দায়িত্বশীল নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু ও বরকত উল্লাহ বুলুর তত্ত্বাবধানে এই অংশটি জোটে শরিক হয়।

জোটের তালিকায় নয়াপল্টন মসজিদ গলির ডানের ভবনটিতে বাংলাদেশ ন্যাপের কার্যালয় উল্লেখ থাকলেও তা পাওয়া যায়নি

জানা যায়, শাওন সাদেকী ন্যাপের মহানগর কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। জোটের তালিকায় এই অংশের ঠিকানা ‘৮৬, নয়াপল্টন মসজিদ গলি’ উল্লেখ থাকলেও এমন কোনও কার্যালয়ের অস্তিত্ব মেলেনি সরেজমিনে। জোটের কাছে ভবনটি ষষ্ঠ তলা জানালেও বাস্তবে এটি চারতলা। ভবনের একজন অধিবাসী জানান, এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নেই। ফ্ল্যাট বাসায় সাধারণ মানুষ বসবাস করেন।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) শাওন সাদেকীকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এদিন মধ্যরাতে তিনি ফিরতি ফোন করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, পল্টন এলাকাতেই তার কার্যালয়। এরপর নিজের অনেক কাজের বিবরণ দেন।

খন্দকার গোলাম মোর্তুজার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির পর যারা এই নামেই বিএনপি-জোটে প্রতিনিধিত্ব করছে, সেই অংশটিরও সন্ধান মেলেনি। এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কারী আবু তাহের ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে শাহ নেওয়াজের নাম আছে জোটের তালিকায়। তাদের কোনও কার্যালয় নেই। আর তাদের কার্যক্রমের ব্যাপারে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কেউই কিছু জানেন না।

এ প্রসঙ্গে এনডিপি-মোর্তুজা অংশের সাবেক মহাসচিব আবদুল মোকাদ্দিম (বর্তমানে একটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন) বলেন, ‘কারী আবু তাহের আমাদের মূল কমিটিতে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ছিলেন। আর শাহনেওয়াজ নামে আমি কাউকে চিনি না।’

বিএনপি-জোট থেকে বেরিয়ে আসা প্রসঙ্গে আবদুল মোকাদ্দিমের বক্তব্য, ‘কিছু দ্বিধাবিভক্ত সিদ্ধান্তের কারণে জোট থেকে বেরিয়ে আসি। এখন তো জোট নিষ্ক্রিয়। আমরা আলাদাভাবে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছি।’

অফিস আছে, কাজ নেই

২০১৯ সালে ২০ দলীয় জোট ত্যাগ করেন নিবন্ধিত বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। এরপর দলটির জায়গায় অন্য কোনও অংশ সৃষ্টি করেনি বিএনপি। ২০২১ সালের ১৪ জুলাই জোট ত্যাগ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মূল অংশ। এর স্থলাভিষিক্ত করার দরকার পড়েনি বিএনপির। একই নামে মুফতি ওয়াক্কাছের নেতৃত্বে আরেকটি অংশ আগে থেকেই জোটে সক্রিয় হয়। তবে তারা জোট-একক উভয় দিকেই নিষ্ক্রিয়।

ঢাকার পুরানা পল্টনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-অনিবন্ধিত অংশের অফিস

চলতি বছরের শুরুর দিকে হেফাজতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে কওমি মাদ্রাসার রাজনৈতিক আলেমরা গ্রেফতার-আটকের পর আরও নীরবতা পালন করে মুফতি ওয়াক্কাছের অংশটি। মুফতি ওয়াক্কাছের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী ও মহাসচিব পদে আছেন ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম। তবে মহিউদ্দিন ইকরামই জোটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন নিয়মিত।

জমিয়তের পুরনো অফিস ১১৬/২, বক্স কালভার্ট রোড, নয়াপল্টনে এই অংশটির কার্যালয়। করোনা সংক্রমণের পর দু’একটি দোয়া মাহফিল ছাড়া কার্যালয়ে তেমন দলীয় কোনও অনুষ্ঠান করেনি জমিয়তের এই অংশ। দলটির একজন নেতা জানান, মুফতি ওয়াক্কাস জীবিত থাকা অবস্থায় গত বছরের ডিসেম্বরে কাউন্সিল হ‌ওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগামীতে কবে হবে তা এখনও নির্ধারিত হয়নি।

গত ১ অক্টোবর ষষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়েছে নিবন্ধিত খেলাফত মজলিস। এই দলটিরও কোনও অংশ সৃষ্টি করেনি বিএনপি।

/জেএইচ/

সম্পর্কিত

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

সরকারের সঙ্গে আলেমদের কোনও বিরোধ নেই: মাওলানা হাসান

সরকারের সঙ্গে আলেমদের কোনও বিরোধ নেই: মাওলানা হাসান

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৩৭

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি আয়োজিত ‘স্বপ্ন ও সম্ভাবনার স্ফুলিঙ্গ শেখ রাসেল’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধা বৃত্তি, দরিদ্র তহবিলে বিশেষ অনুদান ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের সব অপকর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার  জনক ও ঠিকুজি হচ্ছে বিএনপি। অপকর্মকারীদের কোনও দল নেই, এরা হচ্ছে দুর্বৃত্ত।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াত ছাড়া বিএনপি অচল এবং জামায়াতের নির্ভরযোগ্য ছাতা হচ্ছে বিএনপি। ভেতরে ভেতরে জামায়াত- বিএনপি মধুর বন্ধনে আবদ্ধ, যা কোনোদিন বন্ধ হবে না।’

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্ধকারের এই অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, সুযোগ পেলেই ছোবল মারবে, তাই এখন থেকেই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

৭১ সালের পরাজিত শক্তিই ৭৫-এর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর এই চক্রের বিষবৃক্ষ অনেক গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে, এদের নিষ্ক্রিয় মনে হলেও এরা তলে তলে এখনও সক্রিয়। এখন থেকেই আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য  মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মো. আবদুল হালিম। সভাটি সঞ্চালনা করেন দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দী।

পরে নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে মেধাবৃত্তি ও দরিদ্র তহবিলে অনুদান এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন ওবায়দুল কাদের।

/পিএইচসি/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

যেকোনও শৈথিল্যে জামায়াত-শিবির সুযোগ নেবে: মেনন

যেকোনও শৈথিল্যে জামায়াত-শিবির সুযোগ নেবে: মেনন

মন্দিরে যারা হামলা করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের শত্রু: ওবায়দুল কাদের

মন্দিরে যারা হামলা করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের শত্রু: ওবায়দুল কাদের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৩১

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমি উপদেশ দেই- যদিও দোষটা আপনার (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) না, তারপরও পদত্যাগ করা উচিৎ। কারণ আপনার কথা বাহিনী শোনেনি, আপনাকে মিস গাইড করেছে’।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ পৌরসভায় গত ১৩ অক্টোবর রাতে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত চার জনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণভাবে বললেন- আমি সব মন্দিরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। আসলে তো কেউ তার কথা শোনেনি। তার কথা শুনে যদি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতো, তাহলে তো আজকে এই ছেলেগুলো মারা যেতো না।’

‘‘...পদত্যাগ করতে না পারলে যে চারজন মারা গেছে তাদের বাড়িতে যান। ইমাম সাহেবদের প্রত্যেক আজানের পূর্বে 'হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই' বলতে হুকুম করেন’’ বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

নিহতদের একজনের কথা তুলে ধরে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আজকে যদি হৃদয়ের মায়ের কাছে গিয়ে আমাদের ব্যর্থতার জন্য সরাসরি মাফ চাইতে পারতাম তাহলে ভালো লাগতো। এই ব্যর্থতার জন্য আমার মুক্তিযোদ্ধা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও ক্ষমা চাইছি। এই দেশে যে কয়জন ভালো মন্ত্রী আছে আমি মনে করি তাদের মধ্যে আসাদুজ্জামান খান কামাল একজন। এত বড় একজন ভালো মানুষকে তার গোয়েন্দা বাহিনী বোকা বানিয়ে দিয়েছে।

হাজীগঞ্জের পুলিশ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা একত্রিত হয়ে পরিস্থিতিটাকে মোকাবিলা করেছেন। কিছু ধর্মান্ধ ব্যক্তি কিছু যুবককে বিপথে নিয়েছেন। সেটা আপনারা ঠেকাবার চেষ্টা করেছেন। আমি দুটো মন্দির দেখেছি, এদের বাড়িঘর দেখেছি এবং আপনাদের কথা শুনেছি। আপনারা দেশপ্রেমিক সাংবাদিকের কাজ করেছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে আপনারা নিরপেক্ষভাবে কথা বলেছেন। আপনারা কোনও কল্পকাহিনী সৃষ্টি করেন নাই।’

ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শনে ডা. জাফরুল্লাহ

এ সময় ডা. চৌধুরী বলেন, ‘আজকে আমাদের সাহস নিয়ে কথা বলতে হবে। যেসকল মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কোনও দেরি না, কালকে থেকেই দেওয়া শুরু করতে হবে। দ্বিতীয়ত আমরা মসজিদ-মন্দির পুলিশ পাহারা দিয়ে রাখবো না, অন্তর দিয়ে পাহারা দিয়ে রাখবো। আজকে বিষয়গুলো সবার দেখা উচিৎ এবং সবাই মিলে আমার অপর ভাই-বোনদের রক্ষা করবো।’

হাজীগঞ্জে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতরা হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুন্দরপুর বাগডাঙা এলাকার সামছুর ছেলে বাবলু (৩৫), হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়ার শুকু কমিশনার বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (১৮) ও একই ওয়ার্ডের সেকান্দর বেপারী বাড়ির মো. ফজলুর ছেলে হৃদয় (১৪)। এ ছাড়াও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে হাজীগঞ্জ পৌরসভার রান্ধুনীমুড়ার বাচ্চুর ছেলে শামীম (১৯) মারা গেছেন।

রবিবার দুপুরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নিহতদের পরিবারের সাথে দেখা করতে যান। যাওয়ার পথে গাউছিয়া হাইওয়ে এলাকার হাজীগঞ্জ বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে ওইদিন কী ঘটেছিল- তার বর্ণনা শোনেন। পরে তিনি কয়েকটি মন্দির পরিদর্শন করেন। 

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ৬৯’ শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. নুরুজ্জামান, হাবিবুর রহমান বিজু, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান, সাবেক কাউন্সিলর মাহফুজা খানম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রচার ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসিবুদ্দিন হোসেন, রাজনৈতিক সমন্বয়ক ফরিদুল হক, সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, ভাসানী অনুসারী পরিষদের ছাত্রফ্রন্টের নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটসহ প্রমুখ।

/এসটিএস/ইউএস/

সম্পর্কিত

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

সরকারের সঙ্গে আলেমদের কোনও বিরোধ নেই: মাওলানা হাসান

সরকারের সঙ্গে আলেমদের কোনও বিরোধ নেই: মাওলানা হাসান

গুজব রটিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে জাসদ

গুজব রটিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে জাসদ

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৪:৪৭

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)। রবিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাবেশে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এম এ সামাদ বলেন, অবৈধ সরকার আর লুটেরা সিন্ডিকেট মিলে লুটপাটের কারণে দ্রব্যমূল্যে জনগণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। লুটেরা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট একদিকে বাজার অন্যদিকে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। গণবিরোধী সরকার লুটেরা মুনাফাখোর মজুতদারদের পাহারাদার হিসেবে সিন্ডিকেটকে রক্ষা করছে।

অবিলম্বে চাল, ডাল, তেলসহ সকল নিত্যপণ্যের মূল্য কমানোর দাবি জানান এম এ সামাদ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মার্কসবাদী কৃষক মঞ্চের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড তালিবুল ইসলাম প্রমুখ।

/জেডএ/ইউএস/

সম্পর্কিত

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

‘একদল-একনেতা’ ও ‘অনিবন্ধিত’দের ২০ দলীয় জোট, অনেকের অফিসও নেই 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

সরকারের সঙ্গে আলেমদের কোনও বিরোধ নেই: মাওলানা হাসান

সরকারের সঙ্গে আলেমদের কোনও বিরোধ নেই: মাওলানা হাসান

গুজব রটিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে জাসদ

গুজব রটিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে জাসদ

দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান বিএনপির

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৫৪

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কুমিল্লায় পূজামণ্ডপের ঘটনার রেশ ধরে সারাদেশে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে, তা যে সরকারের ন্যক্কারজনক পরিকল্পিত নীল নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে; সেটি আজ জনগণের কাছে স্পষ্ট। সরকারের পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক উসকানি ও এর ফলশ্রুতিতে দেশব্যাপী রক্তাক্ত হিংসাশ্রয়ী ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। 

রবিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই অরাজকতা সৃষ্টিকারীরা বাংলাদেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্যকে ম্লান করলো। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে, তাদের উপাসনালয় ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে কক্সবাজারের রামু-উখিয়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুর, নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে আক্রমণ ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। তাদের ঘরবাড়ি, সহায়-সম্পত্তি আত্মসাৎ করা হয়েছে; এই দুষ্কৃতকারীরা প্রায় সবাই ক্ষমতাসীন দলের লোক বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্গাপূজার প্রাক্কালে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আশ্বাস দেওয়ার পরও কেন পবিত্র কোরআন অবমাননা, মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটলো। কুমিল্লার সাধারণ মানুষের মতো আমরাও একমত যে পুলিশ বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিলে নানুয়া দিঘিরপাড়ের মণ্ডপের ঘটনাটি নির্মম অমানবিকতার দিকে গড়াতো না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসের পর কেবল ক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট দুষ্টচক্র ছাড়া দেশের জনগোষ্ঠীর কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ই এই কদর্য কাজ করবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

ঘটনার পরপরেই নিজের দেওয়া একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি বলেছিলাম সরকারের মদতেই কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে চক্রান্তমূলক কুৎসিত কাজটি করা হয়েছে। এর বড় প্রমাণ, ঘটনার পরপরই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা জরুরি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন তাতে সাড়া না দিয়ে পুলিশ পাঠিয়েছে অনেক পরে।’

‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নীতি আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে’ বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই অন্যতম শীর্ষ নেতা।

/এসটিএস/ইউএস/এমওএফ/

সম্পর্কিত

খালেদা জিয়াকে দেখে এলেন মির্জা ফখরুল, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

খালেদা জিয়াকে দেখে এলেন মির্জা ফখরুল, দুপুরে সংবাদ সম্মেলন

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশি ক্ষমতাধর হয়ে আমলা লীগ হয়েছে: ফখরুল

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশি ক্ষমতাধর হয়ে আমলা লীগ হয়েছে: ফখরুল

আ.লীগ থেকে বাঁচতে বিএনপিকে ভোট দেবে জনগণ: ফখরুল

আ.লীগ থেকে বাঁচতে বিএনপিকে ভোট দেবে জনগণ: ফখরুল

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির ‘নাম্বার ওয়ান’ পৃষ্ঠপোষক বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

মন্দিরে যারা হামলা করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের শত্রু: ওবায়দুল কাদের

মন্দিরে যারা হামলা করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের শত্রু: ওবায়দুল কাদের

কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না: ওবায়দুল কাদের

কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বরদাস্ত করা হবে না: ওবায়দুল কাদের

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা উসকে দিচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শনিবার শুরু

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শনিবার শুরু

নাসিরনগরে নৌকার দুই প্রার্থী বদলে দিয়েছে আ. লীগ

নাসিরনগরে নৌকার দুই প্রার্থী বদলে দিয়েছে আ. লীগ

'নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা করছে'

'নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সম্প্রীতি বিনষ্টের পাঁয়তারা করছে'

নৌকা পেলো ‘বিতর্কিত’ অনেকে, তৃণমূলের ক্ষোভ

নৌকা পেলো ‘বিতর্কিত’ অনেকে, তৃণমূলের ক্ষোভ

নির্বাচন বর্জন বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হবে: ওবায়দুল কাদের

নির্বাচন বর্জন বিএনপির জন্য আত্মঘাতী হবে: ওবায়দুল কাদের

চট্টগ্রাম বিভাগের ইউপির আ. লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

চট্টগ্রাম বিভাগের ইউপির আ. লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

সর্বশেষ

আইয়ুব বাচ্চু স্মরণে পিয়ানো ইন্সট্রুমেন্টাল (ভিডিও)

আইয়ুব বাচ্চু স্মরণে পিয়ানো ইন্সট্রুমেন্টাল (ভিডিও)

‘তুরস্কের কাছ থেকে ড্রোন কিনতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য’

‘তুরস্কের কাছ থেকে ড্রোন কিনতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য’

টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি পিএনজি অধিনায়কের 

টুর্নামেন্টের প্রথম ফিফটি পিএনজি অধিনায়কের 

নিজের দেহকে ঢাল বানিয়ে শিলাবৃষ্টি থেকে গাড়ি রক্ষার চেষ্টা

নিজের দেহকে ঢাল বানিয়ে শিলাবৃষ্টি থেকে গাড়ি রক্ষার চেষ্টা

ইউএনওদের জন্য কেনা হচ্ছে ৫০টি পাজেরো জিপ

ইউএনওদের জন্য কেনা হচ্ছে ৫০টি পাজেরো জিপ

© 2021 Bangla Tribune