X
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

শৈলকুপায় সাপের কামড়ে দুই জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:২৫

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিষধর সাপের কামড়ে নারীসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার রাতে শৈলকুপা উপজেলার রঘুনন্দনপুর ও দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুজন হলেন– রঘুনন্দনপুর গ্রামের আবুল হোসেন জোয়ারদারের ছেলে মোকাদ্দেস হোসেন (৬৫) এবং দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের আজগার আলির স্ত্রী রোক্সনা বেগম (৪৫)।

মৃত মোকাদ্দেস হোসেনের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তার ভাই টয়লেটে যান। সেখানে গোখরা সাপ তাকে দংশন করে। প্রথমে তাকে স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ওঝা ঝাঁড়ফুক করার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সেখান থেকে তাকে সকাল ৮টার দিকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

শৈলকুপা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. কনক জানান, তার পায়ে দুটি দংশনের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয় কবিরাজ দেখিয়ে রোগীকে অনেক দেরিতে হাসপাতালে আনা হয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে, নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বলাই কুমার বিশ্বাস জানান, দক্ষিণ মনোহরপুর গ্রামের গৃহবধূ রোক্সনা বেগম ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে তাকে সাপে কামড় দেয়। যন্ত্রণা শুরু হলে স্বজনরা তাকে প্রথমে গ্রাম্য ওঝার কাছে নিয়ে যান। পরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

/এমএএ/

সম্পর্কিত

স্বামী অসুস্থ, ছেলে বন্দি, হাল ধরেছেন ফিরোজা

স্বামী অসুস্থ, ছেলে বন্দি, হাল ধরেছেন ফিরোজা

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

স্বামী অসুস্থ, ছেলে বন্দি, হাল ধরেছেন ফিরোজা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৪৫

সচরাচর নারীদের মাঝি হিসবে দেখা যায় না। কিন্তু সাতক্ষীরার শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নের ধজিখালী নদীতে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। সুন্দরবনের দ্বীপ গ্রাম গোলাখালি। গ্রামের একপাশ সুন্দরবনের সঙ্গে লাগোয়া, বাকি তিন পাশে নদী। গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজা বিবি। চার বছর ধরে খেয়া পারাপার করেন। স্বামী অসুস্থ, ছেলে ভারতের জেলে বন্দি। স্বামী মতিয়ার গাজী, পুত্রবধূ ও দুই নাতনি নিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার। খেয়া পারাপার করে চলে ৪৭ বছর বয়সী এই নারীর সংসার।

ফিরোজা বিবি বলেন, ‘কি করমু। আমাগির এলাকায় দিনদিন কাজ কুমি যাতিছে। অধিকাংশ মানুষ নদীতে মাছ-কাঁকড়া ধরে। কিন্তু নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। সুন্দরবনে আগের মতো যাতি দেয় না। সরকারি পাঁচ বাহিনী কাজ করে। চার বছর ধরি খেয়া পারাপার করতিস। স্বামী অসুস্থ। কাজ করতে পারে না। প্রতিবছর তার পেছনে অনেক টাকা খরচ করতি হয়। তার হার্টের সমস্যা। বাধ্য হুয়ি হাতে বইঠা নিতে হুয়িছে।’

তিনি বলেন, ‘দিনে মানুষ একশোর বেশি বার সুন্দরবন সংলগ্ন ধজিখালি নদীর এপার-ওপার যাবা-আসা করতি হয়। এতে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। ছেলে ভারতের জেলখানায় আটকায় আছে। ছেলের বউ নদীতে জাল টানে মাছ ধরে। জোয়ার আসে, ভাটা আসে। আসে তুফান। পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে খুব কষ্ট হয়। নদীতে নৌকা এবং ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযান চলে। তবে সবাই আমাকে সাহায্য করে।’

চার বছর ধরে খেয়া পারাপার করেন ফিরোজা বেগম

ফিরোজা বিবি আরও বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের যে কী কষ্ট। তা কেউ না দেখলি বুঝতি পারবে না। এই এলাকা দুর্গম হওয়ায় এখানে কেউ আসতি চায় না। সে জন্নি আমাগির খোঁজ নোবার কেউ নেই। প্রতিবছর আমাগির এলাকা ডুবি ঘর বাড়ি নদীতে নিয়া যায়। নদীর চরে ঘরবান্দি কোনও রকম থাকি। গত বছর ৩০ কেজি চালের কার্ড পায়িলাম। সেই কার্ড থাকি দুবার চাল তুলিছি। বিপদ-আপদ হলে খোকন ভাই (স্থানীয় সমাজসেবক) দেখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকের ঘর দেছে। আমার যদি একটি ঘর দিতু তাহলে প্রধানমন্ত্রীর জন্নি সারাজীবন দোয়া করতাম।’

ফিরোজা বিবি জানান, গোলাখালি এবং কুলোপাড়ার লোকজনকে মাসিক চুক্তিতে পারাপার করেন। মাসে ১৫০ টাকা করে দেয়। এতে নয় পরিবার থেকে মাসে ১৩৫০ টাকা আয় হয়। নৌকার পেছনে কিছু টাকা খরচ হয়। যা আয় হয় তা দিয়ে কোনও রকম দিন কেটে যায়। তবে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়।’ 

স্থানীয় সমাজসেবক কামাল হোসেন খোকন বলেন, আমরা কত কষ্ট করে বসবাস করি তা বলে বোঝাতে পারবো না। তিন পাশে নদী ও একপাশে সুন্দরবন। নৌকা ছাড়া গ্রামে আসার উপায় নেই। ভেটখালি থেকে ট্রলারে আসতে সময় লাগে একঘণ্টা। কেউ মারা গেলে ভেটখালি নিয়ে কবর দেওয়া লাগে।

খেয়া পারাপার করে চলে ৪৭ বছর বয়সী এই নারীর সংসার

রমজানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ ওয়ার্ডের সদস্য গাজী সোহরাব হোসেন বলেন, ফিরোজা বিবি নারী হয়েও অনেক কষ্ট করে খেয়া পারাপার করেন। আমার কাছে কোনও সহায়তা এলে তাকে দেওয়ার চেষ্টা করি। 

রমজাননগর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন বলেন, কালিঞ্চি ও ধজিখালি গোলাখালি ঘাট সংস্কারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ. ন. ম আবুজার গিফারী বলেন, ফিরোজা নামে একজন নারী খেয়া পারাপার করেন। এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য ঘাটটি নির্মাণ ও সংস্কারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। খাস জমি পাওয়া সাপেক্ষে ফিরোজা বিবির জন্য মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাকা ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, নারী হয়েও খেয়া পারাপার করছেন তিনি। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্য করবো। দ্রুত খেয়াঘাট সংস্কারের ব্যবস্থা করবো। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘরের বাজেট এলে তাকে ঘর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

/এএম/

সম্পর্কিত

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

হট্টগোলে কালিয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড 

হট্টগোলে কালিয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড 

মনোনয়ন ফরম তোলার আগে জানলেন তারা ‌মারা গেছেন

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৯:১৯

বগুড়ার সোনাতলা পৌরসভার নির্বাচন আগামী ২ নভেম্বর। গত ৪ অক্টোবর মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হতে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চরমগাছা গ্রামের মৃত আবদুল কুদ্দুসের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কাশেম শেখ।

কিন্তু উপজেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে জানতে পারেন, ডাটাবেজে তার নাম নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর জানলেন, ১০ বছর আগেই তিনি মারা গেছেন।

একই ঘটনা ঘটেছে শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বর) প্রার্থী আবদুল মোতালেব ফেরদৌসের সঙ্গে। তিনি ওই ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। মেম্বার পদে এবারও নির্বাচন করতে চান তিনি। এর প্রস্তুতি হিসেবে করোনা টিকা নিতে অনলাইন নিবন্ধন ও ভোটার তালিকায় খোঁজ করে দেখেন, তার নাম নেই। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন।

নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, ভুলে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আবেদন করলে এটা সংশোধন করা হবে। তবে তারা এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

আবুল কাশেম শেখ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখি, ডাটাবেজে নাম নেই। আমি নাকি ১০ বছর, অর্থাৎ ২০১১ সালে মারা গেছি! নির্বাচন অফিস মৃত বানিয়েছে। ফলে এবারের নির্বাচন অংশ নিতে পারছি। কবে জীবিত দেখানো হবে সেটাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।’

সোনাতলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন জানান, সংশোধনের আবেদন করলে এটার সমাধান হবে। তবে এবার ভোটে অংশ নিতে ও ভোট দিতে পারবেন না আবুল কাশেম।

আবদুল মোতালেব ফেরদৌস শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকদিবা বিন্নাচাপড় গ্রামের আবদুল গফুরের ছেলে। গত নির্বাচনে বর্তমান সদস্য আবদুর রহমানের কাছে ১৪৫ ভোটে পরাজিত হন তিনি। এবার আবদুর রহমান, আবদুল বাসেদ রঞ্জু ও ফেরদৌস প্রার্থী হওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। 

ফেরদৌসের ছেলে রাসেল আহমেদ জানান, তার বাবা এবারও প্রার্থী হবেন। তাই অনেকদিন ধরেই মাঠে রয়েছেন। প্রস্তুতি হিসেবে করোনার টিকার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও ভোটার তালিকায় খোঁজ করে দেখেন, ফেরদৌসের নাম নেই। পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন।

আবদুল মোতালেব ফেরদৌস বলেন, ‌‘গত নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে আমি হেরে যাই। এবার অংশ নেওয়ার জন্য অনেকদিন ধরে মাঠে থেকে জনসেবামূলক কাজ করে আসছি। জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে প্রতিপক্ষের কেউ আমাকে মৃত বানিয়েছে। জীবিত দেখাতে নির্বাচন অফিসে আবেদন করেছি।’

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, যদি কোনও ভোটার মারা যান, তাহলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নির্বাচন অফিসকে অবহিত করতে হয়। পরে একজন মাঠকর্মী তদন্ত করে এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। ওই মাঠকর্মীর যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া মৃত্যুর কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে হলেও ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু সনদ লাগে।

এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দুলাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

পাত্র দেখানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, ঘটক গ্রেফতার

পাত্র দেখানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, ঘটক গ্রেফতার

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ইউপির সদস্য প্রার্থীর মৃত্যু

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ইউপির সদস্য প্রার্থীর মৃত্যু

নতুন জাতের আমন উদ্ভাবন, কম সময়ে বেশি ফলন

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৩৮

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নতুন জাতের আমন ধান উৎপাদন করেছেন জিন বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরী। নতুন জাতের আমন ধানের চারা রোপণের পর নির্ধারিত সময়ের দেড়মাস আগেই এ ধান কাটা সম্ভব বলে দাবি উদ্ভাবকের।

গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) এই নতুন জাতের আমন ধান কেটে ঘরে তোলা শুরু করেন বিজ্ঞানীর নিয়োগকৃত কুলাউড়ার হাজীপুর ইউনিয়নের কৃষক রাসেল মিয়া। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরীর নিয়োগকৃত কৃষক রাসেল মিয়া ৩০ শতক জমিতে প্রদর্শনী হিসেবে কানিহাটি-১ থেকে কানিহাটি-১৬ আমন ধান চাষ করেন। জীন বিজ্ঞানীর নিজ গ্রামের নামে নতুন জাতের ধানের নাম রাখেন কানিহাটি। সাধারণত আমন ধানের বীজতলা তৈরি থেকে ফসল কাটা পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার মাস। এরপর আমন কেটে ঘরে তুলতে হয়। অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটা হয়। 

রাসেল মিয়া জানান, এ বছর আমন প্রদর্শনী মাঠে ৩০ শতক জমিতে ১৪ মণ ধান হয়েছে। এ ধানে চিটা'র পরিমাণ নেই। এলাকার কৃষকরা এই জাতের আমন ধানের ফলন দেখে আগামী মৌসুমে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়েছেন। কম সময়ে ভালোমানের ধান উৎপাদন সম্ভব বলেও জানান তিনি।

অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী জিন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী বলেন, আমার উদ্ভাবিত বিভিন্ন জাতের ধানের নাম আমার গ্রামের নামে কানিহাটি ১ থেকে ১৬ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। আউশের সময় একজমি থেকে তিন বার ধান কেটে ঘরে তোলা হয়েছে। সঠিক পরিচর্যায় ও অল্প সার প্রয়োগে তিন বার ফসল কেটে ঘরে তোলা সম্ভব। সে জমিতে এখন চতুর্থবারের মতো ফসল এসেছে। এই পদ্ধতিতে সারা বছর ধান চাষ করলে ভালো ফলন হবে।

/এএম/

সম্পর্কিত

গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত মারমা নারীরা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৪৫

খাগড়াছড়ি জেলায় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও জীবনধারা। এসব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অধিকারী মারমা জনগোষ্ঠী। তাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকরা। তবে দীর্ঘকাল থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত মারমা নারীরা।

জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বাঙালি, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও গারোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। পাহাড়ি জনসংখ্যার হিসাবে খাগড়াছড়িতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মারমা সম্প্রদায়। নিজেদের ঐতিহ্যময় সংস্কৃতি থাকায় গর্ববোধ করলেও উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি না পাওয়ার অভিযোগ মারমা নারীদের। তারা কৃষ্টি, সংস্কৃতি রক্ষার পাশাপাশি উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকার নারীনেত্রী সুইচিংথুই মারমা জানান, মারমা পরিবার মাতৃপ্রধান পরিবার। পরিবারের সব কাজেই মারমা নারীদের অংশগ্রহণ থাকে। মারমাদের নিজস্ব ভাষা আছে, নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতি আছে, নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক আছে। শত বছরের বর্ণাঢ্য জীবনাচার থাকলেও নেই উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাবার সুযোগ। বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি দিয়ে দখল হস্তান্তর না করলে মারমা নারীরা সম্পত্তি পায় না। তিনি আইন করে মারমা নারীদের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার দাবি জানান।

পানছড়ি এলাকার ২৪২নং পুজগাং মৌজার প্রয়াত মৌজা প্রধান সুইহলাপ্রু চৌধুরীর মেয়ে ইখিন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমার বাবা স্থানীয় মৌজা প্রধান ছিলেন। তিনি মারা যাবার পর বাবার স্থলাভিষিক্ত হতে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছিলাম। তবে এখানকার স্থানীয় প্রতিনিধিরা ‘নারীরা পিতার উত্তরাধিকারী নয়’ মর্মে আপত্তি করায় জেলা প্রশাসক এখনও তার আবেদন গ্রহণ করেননি। তাকে মৌজাপ্রধান হিসেবেও নিয়োগ দেননি। মাতৃপ্রধান পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি বাবার উত্তরাধিকার মনোনীত না হওয়ার বিষয়টি মানতে নারাজ। প্রয়োজনে আইন করে মারমা নারীদের উত্তরাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পার্বত্য খাগড়াছড়িতে প্রচলিত প্রথা-সংস্কৃতিসহ অনেক কিছু অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। এখানে হেডম্যান নিয়োগ করতে হলে সার্কেল চিফের পরামর্শ নিতে হয়। সার্কেল চিফ সুইলাপ্রু চৌধুরীর মেয়েকে না দিয়ে তার বড় ভাইকে হেডম্যান নিয়োগ দিতে চান। তাছাড়া দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে প্রথাগত আইনের জটিলতা রয়েছে বিধায় উত্তরাধিকার নির্ণয়ে জটিলতা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে কাজ চলছে এবং সমস্যার সমাধান হবে বলেও মনে করেন জেলা প্রশাসক।

খাগড়াছড়ি সার্কেলের চিফ সাচিং প্রু চৌধুরী বলেন, হাজার বছরের প্রচলিত প্রথা, রীতি-পদ্ধতি একদিনে পরিবর্তন সম্ভব নয়। বর্তমানে মারমা বাবা-মা জীবদ্দশায় সম্পত্তি দিয়ে গেলে নারীরা তা পাচ্ছেন। না দিয়ে গেলেও অনেক সময় পারিবারিকভাবে বসে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই সংক্রান্তে কোনও আইন নেই। এসব বিষয়ে কাজ চলছে। অচিরেই হয়তো মারমা নারীদের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পাবার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

/এমআর/এমওএফ/

সম্পর্কিত

বাংলাদেশ ছাড়ছে মুহিবুল্লাহর পরিবার?

বাংলাদেশ ছাড়ছে মুহিবুল্লাহর পরিবার?

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শাস্তি দাবি রানা দাশগুপ্তের

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শাস্তি দাবি রানা দাশগুপ্তের

পচা মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি, দোকান সিলগালা

পচা মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি, দোকান সিলগালা

চট্টগ্রামে বাসায় বিস্ফোরণে নিহত এক, আহত ২

চট্টগ্রামে বাসায় বিস্ফোরণে নিহত এক, আহত ২

গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১৮:৩৪

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে গরুকে ধাক্কা দেওয়ার জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লালু মিয়া (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। রবিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জয়কলস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। লালু মিয়া ওই গ্রামের মৃত খুরশিদ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুরে জয়কলস গ্রামের আমির আলীর ছেলে হেলাল মিয়া প্রতিবেশী শহীদ মিয়ার গরুকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ধাক্কা দেন। এতে শহীদ মিয়া ও আবুল লেইছের লোকজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। আজ সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য গ্রামবাসীর উদ্যোগে জয়কলস পয়েন্টে উভয়পক্ষের লোকজন নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে লিলু মিয়া গুরুতর আহত হন। আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত নয় জন।

আহতদের সুনামগঞ্জ আড়াইশ শয্যা হাসাপাতালের চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত লিলুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

আহতরা হলেন- জয়কলস গ্রামের আবুল লেইছ পক্ষের মৃত নোয়াজ আলীর ছেলে আমির আলী (৫৫), আমির আলীর ছেলে হেলাল মিয়া (৩৫), রইছ উদ্দিনের ছেলে ছালে আহমদ ও সাইদ আহমদ (২২), একই গ্রামের শহীদ মিয়ার পক্ষের হোসেন আহমদের ছেলে সৈয়দুর রহমান (২৮)। 

শান্তিগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আলাউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মোক্তাদির হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

নতুন জাতের আমন উদ্ভাবন, কম সময়ে বেশি ফলন

নতুন জাতের আমন উদ্ভাবন, কম সময়ে বেশি ফলন

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

কাঠের গুঁড়া ও বিষাক্ত কেমিক্যালে হচ্ছে ‘শ্রীমঙ্গলের চা পাতা’

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২

দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বদলালেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

স্বামী অসুস্থ, ছেলে বন্দি, হাল ধরেছেন ফিরোজা

স্বামী অসুস্থ, ছেলে বন্দি, হাল ধরেছেন ফিরোজা

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

ভেজাল সার জব্দ, দোকানিকে লাখ টাকা জরিমানা

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় একজনের ১৪ বছর কারাদণ্ড

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

লালনের তিরোধান দিবস আজ, বসেনি সাধুর হাট

হট্টগোলে কালিয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড 

হট্টগোলে কালিয়ায় আ.লীগের বর্ধিত সভা পণ্ড 

নিজ ঘরে মিললো ভ্যানচালকের অর্ধগলিত লাশ 

নিজ ঘরে মিললো ভ্যানচালকের অর্ধগলিত লাশ 

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ইউপির সদস্য প্রার্থীর মৃত্যু

নির্বাচনি প্রচারণার সময় ইউপির সদস্য প্রার্থীর মৃত্যু

সন্তানদের সাঁতার শেখাতে গিয়ে পাইলটের মৃত্যু

সন্তানদের সাঁতার শেখাতে গিয়ে পাইলটের মৃত্যু

দিনাজপুরে বজ্রাঘাতে ২ জনের মৃত্যু

দিনাজপুরে বজ্রাঘাতে ২ জনের মৃত্যু

পুনরায় হামলা-লুটপাটের আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছেন তারা

মাগুরায় চার খুনপুনরায় হামলা-লুটপাটের আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ছেন তারা

সর্বশেষ

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা, হার্টের কিছু হয়নি তো?

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্যামসাং ক্লাউডের কিছু ফিচার

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্যামসাং ক্লাউডের কিছু ফিচার

স্বামী অসুস্থ, ছেলে বন্দি, হাল ধরেছেন ফিরোজা

স্বামী অসুস্থ, ছেলে বন্দি, হাল ধরেছেন ফিরোজা

উপজেলা শিক্ষা অফিসার সমিতির সভাপতি মঈনুল, মহাসচিব নাছিমা

উপজেলা শিক্ষা অফিসার সমিতির সভাপতি মঈনুল, মহাসচিব নাছিমা

যে কারণে টস জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপযে কারণে টস জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ

© 2021 Bangla Tribune