X
সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রস্তাব গ্রহণ করলো সংসদ

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২১, ২১:২০

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সংসদের সাধারণ প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা শেখ হাসিনার ১৪৭ বিধিতে উত্থাপিত প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়। এর আগে প্রস্তাবটির ওপরে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারি, বিরোধী দল ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা দুদিনব্যাপী বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন। এতে ৫৯ জন সংসদ সদস্য ১০ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি সংসদে ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) সংসদে প্রস্তাব আনেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। পরে তিনি প্রস্তাবের ওপর নিজেই বক্তব্য দিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটান। এর আগে ওই দিন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সংসদে স্মারক বক্তৃতা দেন।

সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে সংসদ সদস্যরা বাংলাদেশের ৫০ বছরের অর্জন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অর্জন তুলে ধরেন। এসময় বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের সদস্যরা বর্তমান সরকারের বেশ কিছু কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। আলোচনায় তারা জাতীয় ঐকমত্যের কথাও বলেন।

সংসদে পাস হওয়া প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবটি ছিল—‘‘অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ আজ এক ‘উন্নয়ন বিস্ময়’। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৪৮ থেকে ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চ গণহত্যা, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণা, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন এবং এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ মহান শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ পাক সেনাদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, মুক্তির মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ৩০ লাখ মহান শহীদ, আত্মত্যাগী ২ লাখ মা-বোন, সব বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় চার নেতা-সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।’’

প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১০ জানুয়ারি ১৯৭২ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর জাতির পিতা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করেন। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমবার জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ প্রদান করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নকালে, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ জাতীয় জীবনে নেমে আসে অমানিশার ঘোর অন্ধকার। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল, সংবিধানকে সামরিক ফরমান দ্বারা ক্ষতবিক্ষত করা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার চেতনাকে ভূ-লুণ্ঠিত করা হয়। ১৭ মে ১৯৮১ সালে নির্বাসন শেষে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতিরূপে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা হয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা হয়। ২০২১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশরূপে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ২০০৮ সালের ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবতা। দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, গৃহহীন ৯ লাখ মানুষকে ঘর তৈরি করে দেওয়া, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধসহ মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা অর্জিত হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স, রিজার্ভ প্রতিটি সূচকে অগ্রগতি  হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১তম। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০' প্রণয়ন করা হয়েছে। করোনা অতিমারির সংকট উত্তরণে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতির চালিকাশক্তি সচল রেখেছে। মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্ণফুলী টানেলসহ স্ব-অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ বিশ্বে বাংলাদেশের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ ও মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাংলাদেশের সফলতার জয়যাত্রায় যুক্ত করেছে অনন্য মাইলফলক। সংসদীয় গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণের মধ্য দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সফল বাস্তবায়ন ও প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে তারুণ্যদীপ্ত বাংলাদেশ সব চ্যালেঞ্জে উত্তরণ ঘটিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, শোষণ ও বৈষম্যহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলারূপে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হোক–এই হোক আমাদের প্রত্যয়।’

/ইএইচএস/এপিএইচ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

ক্যানবেরায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

ক্যানবেরায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

ফের একদিনে নতুন রোগী ২৫০ ছাড়িয়ে

ফের একদিনে নতুন রোগী ২৫০ ছাড়িয়ে

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘সেই দিনের আশায় আছি, যেদিন ভারতে আনাগোনা করতে ভিসা লাগবে না’ 

‘সেই দিনের আশায় আছি, যেদিন ভারতে আনাগোনা করতে ভিসা লাগবে না’ 

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

ক্যানবেরায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

ক্যানবেরায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

ফের একদিনে নতুন রোগী ২৫০ ছাড়িয়ে

ফের একদিনে নতুন রোগী ২৫০ ছাড়িয়ে

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

‘সেই দিনের আশায় আছি, যেদিন ভারতে আনাগোনা করতে ভিসা লাগবে না’ 

‘সেই দিনের আশায় আছি, যেদিন ভারতে আনাগোনা করতে ভিসা লাগবে না’ 

এদিন ভারতের স্বীকৃতি পেয়েছিল বাংলাদেশ

এদিন ভারতের স্বীকৃতি পেয়েছিল বাংলাদেশ

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ দাবি ৪০ নারী অধিকারকর্মীর

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ দাবি ৪০ নারী অধিকারকর্মীর

করোনাকালে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে রেকর্ড

করোনাকালে বৈদেশিক কর্মসংস্থানে রেকর্ড

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলতেন: পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলতেন: পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত

ছাত্রদের আন্দোলনে ৩০-৩৫ বছর বয়সী মায়েরাও ঢুকে গেছেন: তথ্যমন্ত্রী

ছাত্রদের আন্দোলনে ৩০-৩৫ বছর বয়সী মায়েরাও ঢুকে গেছেন: তথ্যমন্ত্রী

যৌন হয়রানি রোধে নতুন আইন লাগবে কিনা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

যৌন হয়রানি রোধে নতুন আইন লাগবে কিনা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

সর্বশেষ

করোনার টিকা নিয়ে ফেরার পথে মৃত্যু 

করোনার টিকা নিয়ে ফেরার পথে মৃত্যু 

অর্থনীতিতে শিল্পখাতের অবদান জোরদার হচ্ছে: শিল্প প্রতিমন্ত্রী

অর্থনীতিতে শিল্পখাতের অবদান জোরদার হচ্ছে: শিল্প প্রতিমন্ত্রী

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে আল আমিনের ২ উইকেট

লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে আল আমিনের ২ উইকেট

বোনের মাথা কেটে তোলা হলো সেলফি!

বোনের মাথা কেটে তোলা হলো সেলফি!

মন্ত্রিত্বের লোভে অমানুষ হওয়া উচিত না: ডা. জাফরুল্লাহ

মন্ত্রিত্বের লোভে অমানুষ হওয়া উচিত না: ডা. জাফরুল্লাহ

© 2021 Bangla Tribune