বিশ্বকাপ ফুটবলের জ্বরে কাঁপছে পুরো আর্জেন্টিনা। শুক্রবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জিতে শেষ ষোলতে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসির দল। শিরোপা ধরে রাখার এই মিশনকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের রাস্তায় দেখা মিললো এক অদ্ভুত ফুটবল ভক্ত দলের। তবে এই ১৩ জন ভক্ত দুই পায়ে হাঁটে না, তারা চার পায়ে চলে এবং মাঝে মাঝে ঘেউ ঘেউ করে ডাক ছাড়ে!
পেশায় ডগ ওয়াকার ৩৩ বছর বয়সী নাহুয়েল মেনেঘিনি (যিনি ‘নানো’ নামে পরিচিত) আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি, কলার ও লিশ (কুকুর বাঁধার দড়ি) পরিয়ে একদল কুকুরকে নিয়ে প্রতিদিন রাজধানীর সান ক্রিস্তোবাল এলাকার রাস্তায় বের হচ্ছেন। নানো বলেন, দেশ, বিশ্বকাপ এবং এই কুকুরগুলোর প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি এটি করেছি।
ডগ ওয়াকারের নিজের পরনেও ছিল ভক্তদের মতো পোশাক। সরু ফুটপাত দিয়ে একসঙ্গে এতগুলো কুকুরকে দক্ষ হাতে সামলে নিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা হেসে উঠছেন এবং মুঠোফোনে ছবি তুলছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দলটিকে ডাকা হচ্ছে ‘লা পেরোনেতা’ নামে। নামটির মাধ্যমে মূলত কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে থাকা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডাকনাম ‘লা স্ক্যালোনেতা’কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। দলটির এই কাণ্ড দেখে ৮০ বছর বয়সী এদগার্দো পেরেস ছবি তুলতে তুলতে বলেন, শ্রমিক বা পেনশনভোগী আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনে এখন কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। আমাদের ভালো থাকার একমাত্র আনন্দ এখন এগুলোই।
গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার পর নানোর মাথায় এই ভাবনা আসে। তিনি নিয়মিত যে কুকুরগুলোকে নিয়ে হাঁটেন, তাদের মধ্যে ‘সিরিও’ ও ‘রবার্তা’ নামের দুটি কুকুরের মালিক মেসির ১০ নম্বর জার্সি কিনে দিয়েছিলেন। তা দেখে নানো অনুপ্রাণিত হয়ে একটি পোষা প্রাণীর দোকান থেকে বিভিন্ন আকারের আর্জেন্টিনার জার্সি কিনে বাকি কুকুরগুলোকেও পরিয়ে দেন। শুধু তা-ই নেই, আর্জেন্টিনার পতাকার সঙ্গে মিলিয়ে হালকা নীল ও সাদা রঙের লিশ এবং কলারও তৈরি করেন তিনি। লিশের মধ্যে তিনি তিনটি রিভেট বা বোতাম যুক্ত করেছেন, যা যথাক্রমে ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক। আর কলারে ঝুলিয়ে দিয়েছেন ‘নানোর কুকুর’ লেখা ট্যাগ।
প্রতিদিন প্রায় ৬০টি ব্লক চষে বেড়ানো এই কুকুরগুলো এখন স্থানীয় সেলিব্রিটি। ৭৩ বছর বয়সী দোরা মাইসানো এদের দেখে বলেন, সবাই ১০ নম্বর জার্সি পরে আছে। একেই বলে দেশপ্রেম! দেখতে ভীষণ মিষ্টি লাগছে।
নানো জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ থেকে বাদও পড়ে, তবুও এই কুকুরগুলো ‘চিরকাল’ এই জার্সি পরে থাকবে। তবে তার বিশ্বাস দল এবার চতুর্থ ট্রফি জিতবে এবং সেটি হলে তিনি কুকুরের দড়িতে আরেকটি বোতাম যুক্ত করবেন।
সূত্র: এপি








