২০২৬ সালের মাত্র পাঁচ মাস বাকি থাকতে অন্ধ বুলগেরীয় রহস্যময় নারী বাবা ভাঙ্গার কথিত ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। এই ভবিষ্যদ্বক্তার ভক্তদের দাবি চলতি বছরের জন্য করা তার প্রধান পাঁচটি পূর্বাভাসের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে এবং মানবজাতির জন্য বাকি তিনটি ভয়াবহ পূর্বাভাস এখনও সত্যি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
১৯৯৬ সালে মারা যাওয়া এই অন্ধ নারী প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ হারানোর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বলে প্রচার রয়েছে। বিশ্বাসীরা তার সেই দাবিগুলোকে এ বছর ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে মেলাচ্ছেন।
যে দুটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে বলে ভক্তদের দাবি
প্রথমটি বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্পর্কিত। গত মার্চ মাসে মিয়ানমারে আঘাত হানা ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সঙ্গে ভক্তরা একে মেলাচ্ছেন, যাতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস ও ইতালির দাবানল ও তাপদাহ এবং এশিয়ার বন্যা ও আমেরিকার ভয়াবহ ঝড়ের ঘটনাকেও এর প্রমাণ হিসেবে দেখছেন তারা।
তবে সমালোচকদের মতে, এই পূর্বাভাসে কখন বা কোথায় এসব দুর্যোগ ঘটবে তার কোনও স্পষ্ট বিবরণ ছিল না। প্রতি বছরই ভূমিকম্প, বন্যা ও ঝড় হয়, যা একটি অস্পষ্ট ধারণাকে যেকোনও ঘটনার সঙ্গে মেলানো সহজ করে তোলে।
দ্বিতীয় দাবিটি কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে। ভক্তদের মতে, যন্ত্র মানুষকে বড় মাপে প্রতিস্থাপন করবে বলে বার্তা দিয়েছিলেন বাবা ভাঙ্গা। তবে এআই কয়েক দশক ধরেই বিকশিত হচ্ছে। তা ছাড়া বাবা ভাঙ্গা ঠিক কখন বা কী বলেছিলেন, তার কোনও নির্ভরযোগ্য রেকর্ড নেই।
নভেম্বরে বিশাল মহাকাশযান ও এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগ?
বাকি ৩টি দাবির মধ্যে সবচেয়ে অসাধারণটি হলো ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন সম্পর্কিত। কথিত ভবিষ্যদ্বাণীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলে একটি ‘বিশাল মহাকাশযান’ প্রবেশের পর মানবজাতি এলিয়েনদের মুখোমুখি হতে পারে। এর জন্য আগামী নভেম্বর মাসকে সুনির্দিষ্ট সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অনশনাক্তকৃত বস্তু বা ইউএফও সম্পর্কিত গোপন নথি প্রকাশের পর এসব দাবির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) এমনই একটি ফাইল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বস্তুগুলোর ব্যাখ্যা না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সেগুলো ভিনগ্রহের যান। পরে সেগুলো ড্রোন, বেলুন বা আবহাওয়া সংক্রান্ত বিষয় বলেও প্রমাণিত হতে পারে।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পুতিনের ক্ষমতা হারানোর সম্ভাবনা
আরেকটি পূর্বাভাস হলো ২০২৬ সালেই শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কথিত আছে, চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করবে এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রত্যক্ষ যুদ্ধে রূপ নেবে। তবে ৭ আগস্ট পর্যন্ত এর কোনটিই ঘটেনি। তাইওয়ান স্বায়ত্তশাসিত রয়েছে এবং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি।
শেষ প্রধান পূর্বাভাসটি রাশিয়াকে ঘিরে। ভক্তদের দাবি, ২০২৬ সাল শেষ হওয়ার আগেই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক্ষমতা হারাবেন এবং নতুন একজন নেতা তার স্থলাভিষিক্ত হবেন। দীর্ঘ ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী পুতিনের সরে দাঁড়ানোর কোনও প্রকাশ্য ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি।
আসলে কী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বাবা ভাঙ্গা?
১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া ভাংগেলিয়া প্যানদেভা দিমিত্রোভা বা বাবা ভাঙ্গা ১২ বছর বয়সে টর্নেডোর কবলে পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারান। তার সমর্থকরা দাবি করেন, ৯/১১ হামলা, চর্নোবিল দুর্যোগ, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু, ২০০৪ সালের সুনামির মতো ঘটনার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তিনি। সমর্থকরা তার ৮৫ শতাংশ পূর্বাভাস মিলে যাওয়ার দাবি করলেও এর কোনও স্বাধীন সত্যতা মেলেনি।
বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাসের কোনও লিখিত রেকর্ড না থাকায়, বর্তমানের এসব দাবি সত্যিই তার ছিল কি না তা নিশ্চিত করার কোনো উপায় নেই। আপাতত ২০২৬ সালের এই দাবিগুলো প্রামাণিক নথির চেয়ে কেবল তার ওপর আরোপিত ধারণা হিসেবেই রয়ে গেছে।
সূত্র: উইয়ন নিউজ

১২ হাজার ডলারের স্বর্ণ চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়লো ইঁদুর
হরমুজের নিয়ন্ত্রণই কি ইরানের ‘বিজয়ের চাবিকাঠি’
‘প্রকৃত মুসলিম গোহত্যা করে না’ মন্তব্যে সমালোচনার মুখে ভারতের পুলিশ কর্মকর্তা







