ঋণ সংক্রান্ত ১১টি মামলা স্থগিত করে ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজআদালত। এর ফলে খেলাপি ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আদালত আইন ও চেক ডিজঅনার মামলা স্বতন্ত্রভাবে চলবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন।
আটর্নি জেনারেল বলেন, অর্থ-বিত্তশালী ও সম্পদশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নাম করে টাকা নেন। এর মধ্যে কিছু ব্যক্তি যারা ব্যাংকের জনগণের আমানতের টাকা নিয়ে বিদেশে বাড়িগাড়ি করেন, বেগমপাড়া তৈরি করে। এমন অসংখ্য উদাহরণ কিন্তু আমরা দেখেছি। এ অবস্থায় ২০০৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার আইন প্রণয়ন করেছিল মূলত খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্দেশ্যে।
‘যার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন খেলাপি ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আমাদের দেশে আরেকটি পুরোনো আইন আছে ১৮৮১ সালের। সেটা অনেকটা চেক বাউন্সের যে মামলাগুলো আমাদের হয়ে থাকে— সে সব মামলা সংক্রান্ত, এখানে ধারা আছে ১৩৮। এখানে আইনের প্রশ্ন হচ্ছে, যে টাকা ঋণ খেলাপির কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায়ের জন্যে আমি যখন অর্থঋণ আদালত আইনে মামলা করবো, সে একই সময়ে এই সব মামলার সিকিউরিটি হিসেবে কিংবা পরবর্তী পোস্ট রেটেড চেকগুলোকে আমি নিতে পারবো কি পারবো না। কারণ চেক যদি কোনও কারণে ডিজঅনার হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে যে আইনি প্রক্রিয়া, সেটা হচ্ছে ফৌজদারি প্রক্রিয়া। আর টাকা এবং অর্থ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আইনে যে মামলা হয়, সেটি হচ্ছে দেওয়ানি প্রক্রিয়া।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, এখানে যুক্তি ছিল এ ধরনের ঋণখেলাপিদের পক্ষ থেকে যেহেতু অর্থ ঋণ আদালত আইন একটা দেওয়ানি প্রক্রিয়া, যার মধ্যে সাধারণত জেল জরিমানার কোনও সুযোগ নেই। সুতরাং, এই ১৩৮ ধারায় ফৌজদারি অর্থাৎ চেক ডিজনারের মামলায় কেন আমাদের বিরুদ্ধে চলবে? কিন্তু আমাদের সুপ্রিম কোর্ট অনেকগুলো মামলায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, দুইটা মামলা একই সময় চলবে। দুইটা ভিন্ন অপরাধ। এটা আমাদের দীর্ঘদিনের সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত থাকা অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ একটি রায় দেন। এই রায়ের অবজারভেশনে বলা হয়েছিল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক খেলাপি ঋণগ্রহীতা ঋণ আদায়ের নিমিত্তে অর্থ ঋণ আদালত আইন ২০০৩ এবং ১৮৮১ সালের আইনের ধারা ১৩৮ এর আওতায় মামলা দাখিল করাকে বেআইনি এবং এখতিয়ার-বহির্ভূত ঘোষণা করেন এবং যেসব মামলা চলমান ছিল, সেসব মামলার যাবতীয় কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস আরও বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আপিলের পর ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর লিভ পিটিশন গ্রহণ করে ওই রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা করেন। এ অবস্থায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ একইভাবে চলমান চেকের মামলার কার্যক্রমগুলোকে স্থগিত ঘোষণা করেছেন। এই রকম তিনটি মামলার আদেশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করেছি। আজকে তিনটি মামলা শুনানি হয়েছে এবং তিনটি মামলায় হাইকোর্টের যে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ, অর্থাৎ চেকের মামলা চলতে পারবে না বলে যে আদেশ— সেটার কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে গেলো। এর ফলে অর্থঋণ আদালত আইনে পাওনা টাকার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মামলা করতে পারবে এবং একইসঙ্গে চেক ডিজঅনারের কারণে ফৌজদারি মামলাও একইসঙ্গে চলবে।