বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে, বেড়েছে ঋণ পরিশোধের চাপ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও। বিপরীতে আগের নেওয়া ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ সাময়িক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে মোট ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৭৫ কোটি ৭০ হাজার ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় কমেছে ৪৫ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার।

জুলাই ও আগস্টে ছাড় হওয়া অর্থের মধ্যে অনুদান ছিল মাত্র ৩১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। আর প্রকল্প ঋণ হিসেবে ছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ সময়ে খাদ্য সহায়তা হিসেবে কোনও অর্থ ছাড় হয়নি।

নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতিও কম

অর্থছাড়ের পাশাপাশি নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিতেও গতি দেখা যায়নি। জুলাই-আগস্টে মোট ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে অনুদান হিসেবে ৯ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ১৪ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

গত অর্থবছরের একই সময়ে নতুন বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতিশ্রুতির পরিমাণও সামান্য কমেছে।

ঋণ পরিশোধে বাড়তি চাপ

নতুন ঋণের অর্থছাড় ও প্রতিশ্রুতি কমলেও আগের নেওয়া বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে চাপ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বাংলাদেশ মোট ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রথম দুই মাসেই বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। টাকার হিসাবে পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪৯৫ কোটি টাকা।

সুদ বাবদ যাচ্ছে ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা

ইআরডির হিসাবে, জুলাই-আগস্টে পরিশোধ করা বৈদেশিক ঋণের মধ্যে মূল ঋণ ছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে শুধু সুদ পরিশোধ করতেই ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বৈদেশিক ঋণের মূল অর্থের পাশাপাশি সুদ পরিশোধেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়েছে।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরুতে বৈদেশিক সহায়তার অর্থছাড় ও নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতিতে ধীরগতি থাকলেও আগের নেওয়া ঋণের দায় পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় বেড়েছে। ফলে অর্থবছরের শুরুতেই বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে একদিকে নতুন অর্থপ্রবাহ কমেছে, অন্যদিকে পুরোনো ঋণের দায় পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

/জিএম/এফআর/
সম্পর্কিত
জুলাইয়ের ধাক্কা সামলে আগস্টে যুক্তরাজ্যে পোশাক রফতানি বাড়লো
প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, অর্থনীতি কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
নতুন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আউটসোর্সিং সেবা নেওয়া যাবে না
সর্বশেষ খবর
দুই বোনের গল্পে জড়িয়ে থাকা হাজার বছরের সিন্দুরমতি
দুই বোনের গল্পে জড়িয়ে থাকা হাজার বছরের সিন্দুরমতি
গভীর রাতে কাকলীর ফুটওভার ব্রিজে আগুন 
গভীর রাতে কাকলীর ফুটওভার ব্রিজে আগুন 
নারী তারকাদের শরীর নিয়ে কটাক্ষ, পোশাকেই স্বরার কড়া জবাব
নারী তারকাদের শরীর নিয়ে কটাক্ষ, পোশাকেই স্বরার কড়া জবাব
শিশুদের আসক্ত করার অভিযোগে মামলা: ১০০ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতা করলো টিকটক
শিশুদের আসক্ত করার অভিযোগে মামলা: ১০০ মিলিয়ন ডলারে সমঝোতা করলো টিকটক
সর্বাধিক পঠিত
৩৯৬ কোটিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নতুন গতি, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার
৩৯৬ কোটিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নতুন গতি, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার
বাংলাদেশের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন হামজা, কিন্তু...
বাংলাদেশের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন হামজা, কিন্তু...
কোটি মানুষের শিল্পনগরী, নেই কোনও বিনোদনকেন্দ্র
কোটি মানুষের শিল্পনগরী, নেই কোনও বিনোদনকেন্দ্র
দেশের সব বিভাগের আইনজীবীদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত
দেশের সব বিভাগের আইনজীবীদের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত
সরকারকে সতর্ক করে আসিফ নজরুল বললেন, ‘এগুলো স্পষ্ট ওয়েক-আপ কল’
সরকারকে সতর্ক করে আসিফ নজরুল বললেন, ‘এগুলো স্পষ্ট ওয়েক-আপ কল’