বৈদেশিক ঋণের অর্থ রাখতে এফসি হিসাব খোলার সুযোগ

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৬ আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫৬

অনুমোদিত মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য যোগ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ফরেন কারেন্সি (এফসি) হিসাব খোলার সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বৈদেশিক ঋণের অর্থ থেকে আমদানি মূল্য পরিশোধ, প্রয়োজনীয় সেবা কেনা, অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

বৈদেশিক অর্থায়নের আওতায় আন্তঃসীমান্ত পরিশোধের কার্যক্রম সহজ করতে বুধবার (৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের জারি করা এ নির্দেশনায় বৈদেশিক ঋণের অর্থ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এফসি হিসাব পরিচালনার নিয়ম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, যোগ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের ধরন ও অর্থায়নের উৎস অনুযায়ী ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির (আইবিএ) ফরেন লোন বা সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট-সংক্রান্ত স্ক্রুটিনি কমিটি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং কমিটি অন নন-কনসেশনাল লোনের অনুমোদন নিতে হবে।

ঋণের অর্থ থাকবে বৈদেশিক মুদ্রায়

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণ এবং ঋণ অনুমোদন ও বিদেশি ঋণদাতার সঙ্গে করা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো যোগ্য ঋণগ্রহীতার নামে এফসি হিসাব খুলতে পারবে।

অর্থাৎ, বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার পর পুরো অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে টাকায় রূপান্তর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রায় ওই হিসাবে রাখা যাবে। এতে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা বাড়তি পরিচালনাগত সুবিধা পাবে।

তবে এফসি হিসাবে রাখা অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান এবং ঋণচুক্তির শর্ত অনুসরণ করতে হবে।

আমদানি ও সেবা মূল্য পরিশোধ করা যাবে

এফসি হিসাবে রাখা বৈদেশিক মুদ্রা প্রচলিত আমদানি নীতি আদেশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে আমদানি মূল্য পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে।

একই সঙ্গে অনুমোদিত বৈদেশিক ঋণের আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প বা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকৃত সেবার মূল্যও এ হিসাবের অর্থ থেকে পরিশোধ করা যাবে।

ফলে বৈদেশিক ঋণ নিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ পাওয়ার পর তা বারবার টাকায় রূপান্তর করে আবার প্রয়োজনের সময় বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের প্রয়োজন কমবে। এতে আমদানি ও বিদেশি সেবা মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক সহজ হবে।

স্থানীয় ক্রয়েও ব্যবহার করা যাবে

শুধু আমদানি বা বিদেশি সেবার মূল্য পরিশোধ নয়, অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় বা সংগ্রহের ক্ষেত্রেও এফসি হিসাবের অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এ ধরনের ব্যয় মেটাতে প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় রূপান্তর করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৈদেশিক ঋণনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন ও স্থানীয় ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে পারবে।

কিস্তি পরিশোধের অর্থও রাখা যাবে

বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগও রাখা হয়েছে নতুন নির্দেশনায়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঋণচুক্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য অর্থ সংরক্ষণের শর্ত থাকলে ঋণের মেয়াদ পর্যন্ত এফসি হিসাব চালু রাখা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে হিসাবের স্থিতি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

ঋণের পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এ হিসাবে রাখা যাবে না। অর্থাৎ, ভবিষ্যৎ কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আগাম সংরক্ষণ করা যাবে, তবে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা জমিয়ে রাখার সুযোগ থাকবে না।

স্থিতির ওপর সুদ বা মুনাফা

এফসি হিসাবে থাকা অর্থের ওপর ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী সুদ বা মুনাফা অর্জনের সুযোগও থাকবে।

এর ফলে বৈদেশিক ঋণের অর্থ ব্যবহারের আগে নির্দিষ্ট সময় এফসি হিসাবে পড়ে থাকলে, প্রযোজ্য ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় ওই অর্থ থেকে প্রতিষ্ঠানটি আয় করতে পারবে।

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় বাড়বে নমনীয়তা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এ ব্যবস্থা অনুমোদিত বৈদেশিক অর্থায়নের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনাগত নমনীয়তা বাড়াবে।

বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের অর্থ দিয়ে আমদানি, বিদেশি সেবা মূল্য পরিশোধ, অনুমোদিত স্থানীয় ক্রয় এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।

এর ফলে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ব্যবস্থাপনাও কিছুটা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণচুক্তির শর্ত অনুযায়ী অর্থ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকিং কাঠামো তৈরি হবে।

তবে এফসি হিসাবের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ঋণের উদ্দেশ্য, ঋণচুক্তির শর্ত, আমদানি নীতি আদেশ এবং বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

/জিএম/ইউএস/
সম্পর্কিত
কিউ-ক্যাশ চালু, স্বাভাবিক হচ্ছে ব্যাংকের এটিএম-কার্ড ও অনলাইন সেবা
পে স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে, সরকার টাকা পাচ্ছে কোথায়?
ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবায় বিঘ্ন: আইটি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তলব
সর্বশেষ খবর
বাসে করে চালান আসছিল ঢাকায়, বৃদ্ধার কাছে মিললো ১০ লাখ টাকার হেরোইন
বাসে করে চালান আসছিল ঢাকায়, বৃদ্ধার কাছে মিললো ১০ লাখ টাকার হেরোইন
মেধায় উত্তীর্ণ ঠিকানাহীন ছেলেটি প্রাথমিকের শিক্ষকের নিয়োগপত্র হাতে পেলেন
মেধায় উত্তীর্ণ ঠিকানাহীন ছেলেটি প্রাথমিকের শিক্ষকের নিয়োগপত্র হাতে পেলেন
জামিনের পর নতুন মামলায় গ্রেফতার ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দীন 
জামিনের পর নতুন মামলায় গ্রেফতার ঢাবি অধ্যাপক জামাল উদ্দীন 
স্বামীকে বেঁধে নারীকে ধর্ষণ, দুই আসামির যাবজ্জীবন
স্বামীকে বেঁধে নারীকে ধর্ষণ, দুই আসামির যাবজ্জীবন
সর্বাধিক পঠিত
একদিন ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি
একদিন ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি
দুই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১১ কোটি টাকা, এক লাখও দিতে পারছে না ব্যাংকটি
দুই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১১ কোটি টাকা, এক লাখও দিতে পারছে না ব্যাংকটি
ছেলে হত্যার আসামিরা জামিনে এসে বাবাকে মেরে ফেললো, আর মামলা করতে চাই না
ছেলে হত্যার আসামিরা জামিনে এসে বাবাকে মেরে ফেললো, আর মামলা করতে চাই না
এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, মারাত্মক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা
এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, মারাত্মক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা
বিদায়ী ম্যাচে হলুদ ও লাল কার্ড পেলেন মেসি
বিদায়ী ম্যাচে হলুদ ও লাল কার্ড পেলেন মেসি