পেঁয়াজের বাজার চড়া, দাম কমেছে ইলিশ-ব্রয়লার মুরগির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩১, আগস্ট ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩২, আগস্ট ৩০, ২০১৯

নিত্যপণ্যের-বাজারকোরবানি ঈদের সময় মূল্য বেড়ে যাওয়া পেঁয়াজের বাজার এখনও চড়া। আমদানিনির্ভর মসলাজাতীয় পণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বন্যাকে দায়ী করলেও কেউ কেউ দোষারোপ করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকেও। তবে এখনও ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে। আর সরবরাহ বাড়ায় কিছুটা কমেছে ইলিশের দামও। এক কেজি ওজনের ইলিশ আগে ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে। আর ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে।

সরকারি মনিটরিং না থাকায় পেঁয়াজের বাজার নামছে না বলে মনে করেন ক্রেতারা। তারা মনে করেন, সরকারি মনিটরিং থাকলে ভারতের বন্যার প্রভাব দেশের পেঁয়াজের গায়ে এতটা লাগতো না। কারণ দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ থেকে ২৪ লাখ টন।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এ বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ টন। তবে বৃষ্টি, পরিপক্ব না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বেশ কিছু পেঁয়াজ এ বছর পচে গেছে। ফলে কিছুটা ঘাটতি হতেই পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ঘাটতি মেটাতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হলেই যথেষ্ট। ভারত থেকে আমদানির পরিমাণও এমন। এরপরও আমদানি করা এই ৫ লাখ টন পেঁয়াজ দেশের উৎপাদিত ২১ লাখ টন পেঁয়াজের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। ভারতের পেঁয়াজের দাম বাড়লে আমাদের দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। যার কোনও যুক্তি নাই বলে মনে করেন ক্রেতারা। তারা মনে করেন মনিটরিং না করার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অনৈতিক মুনাফা করেন।  

জানতে চাইলে রাজধানীর কোনাপাড়া বাজারের ক্রেতা হাসিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর এমনটাই শুনি। দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। অনেক সময় চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদিত হয়েছে। আমদানির প্রয়োজনই পড়ে না। তারপরও যখনই ভারত থেকে পেঁয়াজের দাম বাড়ার খবর আসে, আর তখনই দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। এর মূল কারন সরকারি মনিটরিং না করা।’

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা আর ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। রসুনের কেজি ১৫০ টাকা অতিক্রম করেছে। আদার দামও বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোয় খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, সম্প্রতি বেড়েছে সবজির দাম। কারণ ব্যাখ্যা করে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বৃষ্টির মৌসুম বলে এখন মাঠে অনেক সবজিই পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া কোরবানির পরপরই সবজির ওপর চাপ পড়ে। এসব কারণেই বেড়েছে সবজির দাম। শীতের আগাম সবজি হিসেবে ইতোমধ্যেই বাজারে এসেছে শিম। যদিও দাম চড়া। ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। একইভাবে টমেটোর দামও আকাশ ছোঁয়া। প্রতিকেজি টমেটো বাজারে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বরবটি, করলা, বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজির ওপরে। বেশি দামে বিক্রি হওয়া চিচিংগা, কাকরোল, ঢেঁড়স, লাউ, পটল, ঝিঙা, ধুন্দল।

ডিমের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। যা গত সপ্তাহের দরেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ডিম বিক্রি হয়েছে ১০০-১১০ টাকা দরে। এ সপ্তাহে এমনই রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে।  যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। লাল লেয়ার মুরগি ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরেই বিক্রি হতে দেখা গেছে।

 

/এসআই/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ