সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে লিটারে ৮ টাকা

Send
গোলাম মওলা
প্রকাশিত : ১৮:৫৩, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৪, ডিসেম্বর ২০, ২০১৯

সয়াবিন তেলপেঁয়াজের মূল্য ধীরে ধীরে কমে এলেও এখনও প্রতি কেজি ১০০ টাকার নিচে নামেনি। আমদানি করা পেঁয়াজের ঝাঁজ কমে এখন ৬০ টাকা কেজিও বিক্রি হচ্ছে। তবে, গত দুই সপ্তাহে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে ৮ টাকা। গত সপ্তাহে লিটারপ্রতি বেড়েছে ৫ টাকা। আর এই সপ্তাহে বেড়েছে ৩ টাকা। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, মানিকনগর, কারওয়ান বাজার ও সেগুনবাগিচা এলাকার দোকানগুলোয় এই চিত্র দেখা গেছে।
অবশ্য এই সপ্তাহে বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য বাড়েনি। গত সপ্তাহে বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছিল কেজিতে ৫ টাকা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও মৌলভী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, ‘শীত বেড়ে যাওয়ায় সয়াবিনের মূল্য বাড়ছে। শীতে পাম অয়েল জমাট বেঁধে যায়। ফলে সয়াবিনের ওপর চাপ বাড়ে। এতে পাইকারি বা খুচরা ব্যবসায়ীদের কিছু করার থাকে না। ফলে এই সময় সয়াবিন ও পাম অয়েলের মূল্য কিছুটা বেড়ে যায়।’ তিনি দাবি করেন, ‘শীত বাড়লে মিল মালিকরা তেলের মূল্য বাড়িয়ে দেন। ফলে পাইকারি ও খুচরা—দুই পর্যায়েই ভোজ্যতেলের মূল্য বেড়ে যায়।’
কারওয়ান বাজারে দেখা গেছে, ক্রেতারা শুক্রবার সয়াবিন তেল (খোলা) প্রতি লিটার কিনছেন ৮৮ টাকা দরে। গত সপ্তাহে এই একই সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকায়। এছাড়া, ৭৫ টাকা লিটার পাম অয়েল (সুপার) শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৭৮ টাকা দরে। একইভাবে প্রতি লিটার পাম অয়েল (খোলা) বিক্রি হয়েছে ৬৯ টাকা দরে।

কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আয়ুব আলী বলেন, ‘এক মাস আগে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার কিনেছিলাম ৮০ টাকারও কমে। এখন সেই সয়াবিন তেল নিতে হলো ৮৮ টাকায়।’

এদিকে, সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশ অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য বলছে, সব ধরনের সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে। টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটারে বেড়েছে ৪ টাকারও বেশি। গত নভেম্বর মাসের ২০ তারিখে এই সয়াবিনের মূল্য ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা লিটার। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) প্রতি লিটার সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ৮৪ থেকে ৮৮ টাকায়।

টিসিবির তথ্য বলছে, এক মাস আগে প্রতি লিটার পাম অয়েল (খোলা) বিক্রি হয়েছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা। এই সেই পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৬৯ থেকে ৭০ টাকা। টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে এই পাম অয়েলের মূল্য বেড়েছে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর পাম অয়েল (সুপার) এর মূল্য বেড়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। টিসিবির হিসাবে, এক লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য আগের মতোই থাকলেও ৫ লিটার ওজনের সয়াবিন তেলের মূল্য বেড়েছে ১৫ টাকা। গত মাসে (২০ নভেম্বর) ৫ লিটার ওজনের বোতল বিক্রি হয়েছে ৪৩০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। আজ (২০ ডিসেম্বর) বিক্রি হয়েছে ৪৪৫ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। 

এদিকে, চিনির মূল্য নতুন করে না বাড়লেও দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। গত মাসে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয় ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। শুক্রবার এই চিনি বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা দরে। টিসিবির হিসাবে এক মাসে চিনির মূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের মূল্য। বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় পেঁয়াজের মূল্য কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মানিকনগর এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নতুন পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি।’

তবে, কোথায়ও কোথাও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ (নতুন) মানভেদে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য পুরনো দেশি পেঁয়াজ এখনও ১২০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর চীনা পেঁয়াজ ৬০ টাকা, মিসর ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

শীতের ফুলকপি, পাতাকপি, মুলা, শালগম, শিম, পালং শাক, মুলা শাকের সরবরাহ বেড়েছে। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পেঁপেও ২৫ থেকে ৩৫ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় কেজি। মুলা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। শালগম ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। করলার কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিমের কেজি ২৫ থেকে ৬০ টাকা। নতুন আলু ও ঢেড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ