X
সকল বিভাগ
সকল বিভাগ

সয়াবিনের ধাক্কা সামলানোর আগেই অস্বস্তি পেঁয়াজে

আপডেট : ১৬ মে ২০২২, ১৬:১৭

হঠাৎ বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দেশের খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ঈদের আগে ২৫ টাকা কেজি ছিল পেঁয়াজ। ক্রেতাদের এখন সেই পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে।

ঈদের পর গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়, শুধু পেঁয়াজই নয়, রসুন, আলু, ডিম ও আটার দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এছাড়াও নতুন করে দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ময়দা,  সয়াবিন, পাম অয়েল, মসুর ডাল, ব্রয়লার মুরগি, চিনি, হলুদ, আদা, জিরা, গুঁড়াদুধসহ অন্তত ডজন খানেক পণ্যের নাম।

সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবি বলছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে আটা, ময়দা, ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, ছোলা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ, হলুদ, আদা, জিরা, গরুর মাংস, মুরগি ও ডিম—এই ১৫টি খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এসব পণ্যের দাম সর্বনিম্ন দেড় শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

প্রসঙ্গত, পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে বাজারে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম কয়েক দফা বেড়েছিল। দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা রমজান মাসজুড়েই দেখা যায়। রমজান শেষে ঈদের দুই দিন পর ৫ মে হঠাৎ সয়াবিন তেলের দাম লিটারে একলাফে ৩৮-৪৪ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। এই ধাক্কা সামলানোর আগেই এখন নতুন করে বাজারে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম আরেক দফা বাড়তে শুরু করেছে।

পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি করা প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম সামনে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

পেঁয়াজ কেজিতে বাড়লো ২৫ টাকা

আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের পাশাপাশি দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। অথচ সপ্তাহের শুরুতেও পেঁয়াজের কেজি ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩৯ শতাংশ। টিসিবির তথ্যও বলছে, গত সপ্তাহের ৩০ টাকা কেজি দেশি পেঁয়াজ এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। এদিকে রাজধানীর গোপীবাগে দেখা যায়, দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ একই দামে প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে। এ কারণে দেশের খুচরা ও পাইকারি উভয় বাজারে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

রসুনের দাম বাড়লো ৩০ টাকা

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দেশি রসুনের কেজি বিক্রি করছেন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, যা একদিন আগেই ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কয়েক দিন আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা রসুনের দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে।

টিসিবির তথ্যও বলছে, গত সপ্তাহের ৫০ টাকা কেজি রসুন এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। সরকারি হিসাবেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। অর্থাৎ গত সপ্তাহে রসুনের কেজিতে দাম বেড়েছে ৩৯ শতাংশ।

মানিকনগর এলাকার ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, কয়েক দিন আগে আমরা যে রসুন ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, আজ আমাদেরই কিনতে হয়েছে ৮৫ টাকা কেজি দরে।

গুঁড়া দুধের দাম বাড়লো ৫০ টাকা

ডলারের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে গুঁড়া দুধের ওপর। মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে মোড়কজাত গুঁড়া দুধ। কোম্পানিভেদে কেজিতে ৫০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির গুঁড়া দুধের কেজি এখন ৬৯০ থেকে ৭৫০ টাকা।

দোকানিরা বলছেন, যেসব কোম্পানির গুঁড়া দুধের মোড়কের গায়ে এখন ৬৯০ টাকা লেখা আছে, মাসখানেক আগেও এর দাম ৬৫০ টাকা ছিল। আর ৭৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া এক কেজি গুঁড়া দুধের দাম মাসখানেক আগে ছিল ৬৯০-৭০০ টাকা।

আলু কেজিতে বাড়লো ৫ টাকা

সয়াবিনের ধাক্কা সামলে নেওয়ার আগে পেঁয়াজ রসুনের কাতারে দাম বেড়েছে আলুরও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলুর সিজন শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে গত এক সপ্তাহে আলুর দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা। গত সপ্তাহের ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি আলু এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে আলুর দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের মতো।

প্রসঙ্গত, দুই বছর আগে এই আলু যথেষ্ট ভুগিয়েছিল ক্রেতাদের। ২০২০ সালের অক্টোবরে ক্রেতাদের আলু কিনতে হয়েছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

আটার দাম বাড়লো ৮ টাকা

বাজারে খোলা আটার দামও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে এই আটার দাম বেড়েছে কেজিতে ৮ টাকা। গত সপ্তাহের ৩৮ টাকা কেজি আটা এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে। 

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহে খোলা আটার দাম বেড়েছে কেজিতে ১১ শতাংশ।

ডিমের হালিতে বাড়লো ৬ টাকা

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে প্রতি হালিতে ৬ থেকে ৮ টাকা। গত সপ্তাহে ডিমের হালি ছিল ৩৪ টাকা। আজকে সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা হালি। অথচ গত সপ্তাহেও প্রতি হালি ৩৬ টাকা ও প্রতি ডজন ১০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাস আগে গত ১০ এপ্রিল প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ছিল ৩২-৩৫ টাকা। আর গত বছরের এপ্রিল মাসে ডিমের দাম ছিল ২৮-৩০ টাকা। এক বছরে ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে সাড়ে ১৫ শতাংশ। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম বেড়েছে ১২ শতাংশের মতো।

কমেনি সয়াবিনের দাম

বাজারে এখন ভোজ্যতেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দাম কমেনি। খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। পাম অয়েলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০০ টাকা। আর বোতলের পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৮০ থেকে ৯৮৫ টাকা।

অন্যান্য পণ্যের দামও চড়া

দাম বেড়েছে ডালেরও। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মোটা দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। আর সরু দানা মসুর ডালের কেজি এখন ১৩০ টাকা। ঈদের আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। ঈদের পরও ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া খোলা চিনি ২ টাকা বেশি দামে ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা ময়দায় দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

এদিকে ঈদের আগে ৭০০ টাকা কেজিতে ওঠা গরুর মাংসের দামে কোনও পরিবর্তন আসেনি। বেশিরভাগ মাংস ব্যবসায়ী গরুর মাংসের কেজি ৭০০ টাকা বিক্রি করছেন। তবে মহল্লার সাপ্তাহিক ব্যবসায়ীরা গরুর মাংসের কেজি বিক্রি করছেন ৭২০ টাকা কেজি।

এদিকে সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো ব্যবসায়ীরা বেগুনের কেজি বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৭০ টাকা। শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বরবটিও আগের মত ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাকা টমেটোর দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ঈদের আগে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া টমেটো এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে কাঁচা কলা ও পেঁপে। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পেঁপে এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর ৩০ টাকার কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা।

পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙে, চিচিঙ্গার দাম কিছুটা কমেছে। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঢেঁড়সের দাম কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকা হয়েছে। ঝিঙে ও চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

এদিকে রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৬০ টাকা কেজি। শোল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং কৈ মাছ পাওয়া যাচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে। পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি।

/এমএস/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আগে দুই দিন লাগতো, এখন দিনে গিয়ে দিনেই ফিরবো
আগে দুই দিন লাগতো, এখন দিনে গিয়ে দিনেই ফিরবো
সরকারের উন্নয়ন দেখে বিরোধী দলের মাথা নষ্ট: তাজুল ইসলাম
সরকারের উন্নয়ন দেখে বিরোধী দলের মাথা নষ্ট: তাজুল ইসলাম
ভিনিসিয়ুসের গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদের
ভিনিসিয়ুসের গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদের
‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুদায়িত্ব পালন করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী’
‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুদায়িত্ব পালন করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী’
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত