X
বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২
২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

চামড়া খাতের প্রধান সমস্যা কমপ্লায়েন্সের অভাব

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩১ মে ২০২২, ১৭:৩৭আপডেট : ৩১ মে ২০২২, ১৭:৩৭

দেশের চামড়া খাতের প্রধান সমস্যা কমপ্লায়েন্সের অভাব। যে কারণে এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য কম দাম পাচ্ছে। আবার স্থানীয় বাজারেও চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

মঙ্গলবার (৩১ মে) দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন, অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ট্যানারি শিল্পে করোনার প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এমন মতামত ব্যক্ত করেছেন।

‘ট্যানারি শিল্পে করোনার প্রভাব’ শিরোনামে ‘র‌্যাপিড’ একটি গবেষণা করেছে। ওয়েবিনারে সেই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ। ইআরএফ’র সভাপতি শারমিন রিনভীর সভাপতিত্বে অনষ্ঠিত ওয়েবিনারে শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী সাখাওয়াৎ হোসেন, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ গবেষণার ফলাফল মূল প্রবন্ধ আকারে উপস্থাপন করেন।

ওয়েবিনারে বলা হয়, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় সম্ভব। সেজন্য এ খাতের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে শিল্প মন্ত্রণালয়, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে চামড়া খাত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘চামড়া খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ঠিকমতো পরিচর্চা ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মান নিশ্চিত করতে পারলে, এ খাত থেকে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন রফতানি আয় সম্ভব। এ খাতে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ইউরোপিয়ান, ইটালিয়ান ও ভারতীয় কোম্পানি আসছে। কিন্তু কারও কাছ থেকে সমাধানের ভালো প্রকল্প পাওয়া যাচ্ছে না। চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ। কোরবানির সময় চামড়ার দর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা সে দাম পান না।’

সাভারের সিইটিপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগের ইটিপি আর এখনকার ইটিপি আলাদা। ইটিপির ১০৯টি নজেলের কেমিক্যাল নিশ্চিত করা হয়েছে। একটি মডিউল পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। আগের তুলনায় ইটিপির কমপ্লায়েন্স অনেক ভালো। আগামীতে আরও ভালো হবে।’ রাজশাহীতে চামড়া খাতের জন্য সিইটিপি প্ল্যান্ট বসানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। হাজারীবাগকে রেড জোন থেকে বের করার বিষয়ে রাজউকের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। হাজারীবাগে বাই প্রডাক্ট করার সুযোগ রয়েছে। এতে কর্মসংস্থান হবে, রফতানি আয় হবে। এজন্য নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।

সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সারা বিশ্বে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এরকম সময়ে চামড়া পণ্যের বাজারে নিজেদের অংশ বাড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু নিজস্ব কাঁচামাল থাকা সত্ত্বেও কমপ্লায়েন্সের অভাবে সে সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে কাঁচা চামড়ার রফতানি কমেছে ৭৯ শতাংশ। আর ফিনিশড চামড়ার রফতানি বেড়েছে ৮০ ভাগ। এর অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ নিজেদের চামড়া ব্যবহার করতে পারছে না। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে— এ খাতে যেসব নীতিমালা নেওয়া হয়েছে, সেগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়ন হয়নি।’

ড. এম আবু ইউসুফ তার গবেষণায় বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মাঝেও বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। কিন্তু এখন শুধু প্রবৃদ্ধি বা মাথাপিছু আয় নয়, এর পেছনের পরিস্থিতিগুলোর উন্নতি দরকার। করোনার সময়ে সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছে সেটি কাজে লেগেছে।’ তিনি বলেন, ‘চামড়া খাতে ভালো না করার একমাত্র কারণ হচ্ছে কমপ্লায়েন্সের অভাব। পরিবেশগত, সামাজিক ও মানের দিকে জোর দিতে হবে। কমপ্লায়েন্স না হওয়ার কারণে বাংলাদেশ পণ্যমূল্য ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম পাচ্ছে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্মুক্ত জায়গায় ময়লা ব্যবস্থাপনা কার্যকর ও দক্ষ উদ্যোগ দরকার।’

হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়া শিল্প স্থানান্তর হওয়ায় সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। করোনার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে এই খাত আশানুরূপ সুবিধা পায়নি। চামড়া খাতে ৮ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ আছে। এই ঋণের বিপরীতে বছরে ৮০০ কোটি টাকা সুদ দিতে হয়। অনেক কারখানাই সময়মতো ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে ওইসব কারখানা প্রণোদনা সুবিধা পায়নি। একটা ম্যাপিং করে এগোনো গেলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৮ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করা সম্ভব।’

/এসআই/এপিএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আবু তাল্লাহর খোঁজে আসাম পুলিশ
নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আবু তাল্লাহর খোঁজে আসাম পুলিশ
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবি, ১৩ জেলে নিখোঁজ
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবি, ১৩ জেলে নিখোঁজ
এ বিভাগের সর্বশেষ
রেমিট্যান্স ও রফতানিতে বাজিমাত
রেমিট্যান্স ও রফতানিতে বাজিমাত
কমছে অর্ডার, কী হবে তৈরি পোশাক খাতে?
কমছে অর্ডার, কী হবে তৈরি পোশাক খাতে?
ইইউ বাজারে সুবিধা পেতে রফতানি পণ্য বাড়াতে হবে
ইইউ বাজারে সুবিধা পেতে রফতানি পণ্য বাড়াতে হবে
কাঁচা পাট রফতানিকারকদের ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা
কাঁচা পাট রফতানিকারকদের ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা
রফতানি আয়ে রেকর্ড
রফতানি আয়ে রেকর্ড