অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সরকারি দফতরে দুর্নীতি কমেনি: ঢাকা চেম্বার সভাপতি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৫আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪৫

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সরকারি দফতরে একদিনের জন্যও দুর্নীতি কমেনি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ। বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে নানা প্রত্যাশা তুলে ধরে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির চাপ কমেনি, বরং ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পর আগের মতোই চাঁদা দিতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হারে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।’’

তাসকিন আহমেদের অভিযোগ, ‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সরকারি দফতরে দুর্নীতির মাত্রা কমেনি।’ একদিনের জন্যও দুর্নীতি হ্রাস পায়নি বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে চাঁদাবাজি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।’’

বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে চার দফা প্রত্যাশা তুলে ধরেন তিনি। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটির সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘‘এসব সমস্যা সমাধান না হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।’’

রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘সরকার পরিবর্তনের আগে ব্যবসায়ীদের যে হারে চাঁদা দিতে হতো, ২০২৪ সালের ৬ আগস্টের পরও একই হারে চাঁদা দিতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সরকারি দফতরে দুর্নীতি একদিনের জন্যও কমেনি।’’

তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘‘চাঁদাবাজি দমন ও সরকারি দপ্তরের দুর্নীতি বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ঘোষিত এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।’’

অর্থনীতিতে পুনরুজ্জীবন আনতে বেসরকারি খাতকে সক্রিয় করার ওপর জোর দিয়ে তিনি চারটি প্রস্তাব তুলে ধরেন—

প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, সরকারি দপ্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসে।

তৃতীয়ত, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় ব্যবসায় ফেরার সুযোগ দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে মূলধন সহায়তা দিতে হবে।

চতুর্থত, ব্যাংকঋণের সুদহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের মতে, এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে।

/জিএম/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
নিয়োগ-টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ: এলজিইডির সাবেক পিডির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক
‘সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ’ 
সর্বশেষ খবর
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দিলে সেটা তারেক রহমান পাবেন’
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি