জ্বালানি তেল আনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপিসির কাছ থেকে ফার্নেস অয়েল নেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কিন্তু এই প্রান্তিকে (অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর) বিপিসি তেল আমদানি করলেও তা নিচ্ছে না পিডিবি। এতে তেল সংরক্ষণের পাশাপাশি মূল্য পরিশোধেও বিপিসিকে বিপদে পড়তে হচ্ছে।
সাধারণত বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপিসি ৪৩ হাজার থেকে ৪৩ হাজার ৫০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করে। এই প্রান্তিকে প্রায় ১৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হয়। যার পুরোটাই সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানি করা হয়েছে।
গ্রীষ্মে ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এখন দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৯ হাজার এবং রাতের বেলায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে আছে, যাতে করে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র খুব একটা চালানোর প্রয়োজন পড়ছে না। এমনকি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও কমানো হয়েছে।
পাশাপাশি দেশের কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণ ক্ষমতায় চালানো হচ্ছে না। ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট লোডে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র চলছে, যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে।
এদিকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ৮ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে। কিন্তু সেখানে উৎপাদন করা হচ্ছে ৪ হাজার মেগাওয়াট।
সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিপিসির পরিচালক (বিপণন) অনুপম বড়ুয়া জানান, তেল আমদানি করে বিপিসি বিপাকে পড়েছে। বার বার বলার পরেও পিডিবি তেল নিতে সম্মত হচ্ছে না। বৈঠকে জ্বালানি সচিব নুরুল আলম পিডিবিকে তেল নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দেন বিপিসিকে।
জানতে চাইলে বিপিসির এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজেদের জন্য ফার্নেস অয়েল আমদানি করলেও পিডিবিকে সব ফার্নেস অয়েল আমরা সরবরাহ করি। এজন্য প্রতি তিন মাস পর পর পিডিবি আমাদের তেলের চাহিদা দেয়। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। তারা আমাদের এবার তেল আমদানির যে চাহিদা দিয়েছিল তার ভিত্তিতে আমরা তেল আমদানি করেছি। এতে বিপিসির বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে গেছে।
পিডিবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, শীত মৌসুমে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদা না থাকলেও আসন্ন সেচ মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যায়। সে সময় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানির চাহিদা বাড়ে। সে সময় আমাদের তেলের চাহিদাও বাড়বে।
প্রসঙ্গত, ২৮ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ ভবনে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, আসন্ন ২০২৪ সালে সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের সামগ্রিক চাহিদা ১৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত সেচ মৌসুমের এপ্রিল মাসে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এ হিসেবে চাহিদা বেড়েছে ১ হাজার ৮ মেগাওয়াট।
এ চাহিদা পূরণে গ্যাসের চাহিদা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট, ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন এবং ডিজেলের চাহিদা ১৫ হাজার ৬০০ মেট্রিন টন। সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য গ্যাস, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন বলে সভায় জানানো হয়।
জ্বালানি বিভাগ থেকে জানানো হয়, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের কোনও ঘাটতি নাই এবং চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করা হবে।