সু চি, পোপ ও বন্দিত্বের রকমফের

Send
বাধন অধিকারী
প্রকাশিত : ২০:৪৫, ডিসেম্বর ০১, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫১, ডিসেম্বর ০১, ২০১৭

 

বাধন অধিকারীপোপ ফ্রান্সিসের মিয়ানমার সফর শেষ হলেও ফুরোয়নি আলোচনা-সমালোচনা। সেখানে ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ নেতা কি পরিস্থিতিতে পড়েছেন আর এর বিপরীতে তার পদক্ষেপ যথাযথ কিনা, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আর বিশ্লেষকরা তা নিয়ে এখনও তর্কবিতর্ক করছেন। মিয়ানমার সফরকালে পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গাদের বিপন্নতার কথা বলতে গিয়ে সব জাতিগোষ্ঠীকে এক কাতারে নিয়ে কথা বলেছেন। নাম উচ্চারণ নয় কেবল, অন্য কোনও বিকল্প শব্দেও তিনি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষের কথা আলাদা করে বলতে পারেননি। তবে বাংলাদেশে আসার পর পোপের অবস্থান বদলে গেছে। কূটনৈতিক বিবেচনায় এখানেও তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করছেন না। তবে তাদের রাখাইন থেকে আসা শরণার্থী নামে ডেকেছেন। পরিস্থিতিকে গুরুতর সংকট আখ্যা দিয়েছেন তিনি। সরাসরি দায়ী করেছেন মিয়নামারের সেনা নেতৃত্বকে। সংকট উত্তোরণে চেয়েছেন সমাধানমূলক পদক্ষেপ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস তাদের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে বলছে, পোপ সম্ভবত তার পুরনো কণ্ঠস্বর খুঁজে পেতে চাইছেন। তবে এই নিবন্ধটি পোপের মিয়ানমার সফরের বিশ্লেষণ। বাংলাদেশ সফরের নয়।
মিয়ানমারে পোপ গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে গোপন বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। সামরিক শৃঙ্খলের ভাষায় ‘মিয়ানমার আখ্যান’ রচনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সে দেশের মিডিয়া সেই বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে একটি কথাও জানায়নি। অবস্থা কতটা ভয়াবহ, তা বোঝা যায় পোপের অবস্থানে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব পোপ দেশটিতে এসে একবারও রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতে পারেননি। তার নিজের কিংবা ভ্যাটিক্যানের কোনও সূত্রও ওই বৈঠকের ব্যাপারে কিছুই বলতে পারেনি। এদিকে বৈঠকের আগ মুহূর্তে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া স্বাধীনতা সম্মাননা হারিয়েছেন সু চি। সেই সম্মাননা কেড়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অক্সফোর্ড নগর কর্তৃপক্ষ সৌজন্যমূলকভাবে অন্ধতা শব্দটি ব্যবহার করলেও প্রকারান্তরে তারা স্বাধীনতা আর মুক্তির প্রতি সু চির বিশ্বাসঘাতকতাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলছে, রোহিঙ্গাদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গি অন্ধত্বের। মিয়ানমারে অবস্থানকালে পোপ ফ্রান্সিস ও দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি দু’জনই স্বাধীন মতপ্রকাশের দিক থেকে বন্দি ছিলেন। তবে দুই জনের বন্দিত্ব দুই রকম। বন্দিত্বের সেই রকমফেরই আমার আজকের নিবন্ধের আলোচ্য।

পোপের মিয়ানমার সফর এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি কেড়েছে। তারা শনাক্ত করেছে, কঠিন এক কূটনৈতিক পরীক্ষার জমিনে দাঁড়িয়ে আছেন ৮০ বছর পার করা এই আলোচিত ব্যক্তি। ভ্যাটিক্যান সরাসরিই পোপের সফর প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলেছে। এরইমধ্যে স্পষ্ট করেছে, ১১ ঘণ্টার ভ্রমণজনিত ক্লান্তিকে সঙ্গী করে পোপকে বৈঠক করতে হয়েছে সে দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে। আসার আগেই কার্ডিনালের মাধ্যমে তাকে রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতেই বারণ করেছিল মিয়ানমার। আসার পথে তাকে হুমকি দিয়েছে মিয়ানমারের উগ্র জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধরা। সব মিলিয়ে পোপ এক ভয়াবহ বাস্তবতায় দাঁড়িয়েছিলেন সেখানে। একরকম বন্দিত্ব যাপন করেছেন। কেননা মিয়ানমারে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছে। পোপকে বার বার মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ভয় দেখানো হয়েছে, বিপন্ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথা বললে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের অন্তর্গত মানুষদের জীবনে ভয়াবহতা নেমে আসবে। নিজস্ব সম্প্রদায়ের অংশ খ্রিস্টানদের প্রতি দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে পোপ রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতে পারেননি। এই বন্দিত্ব তার স্বেচ্ছাকৃত বন্দিত্ব নয়। এটি একেবারেই বাধ্যবাধকতা। কোনও উপায় নেই। একটি নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর কথা বলতে গিয়ে আরেক দল সংখ্যালঘুকে বিপদে ফেলার যে নীতি, সেই নীতি পোপের নয়। তিনি সংবেদনশীল প্রজ্ঞাবান।

ক্যাথলিক চার্চের মানবতাবিরোধী প্রাচীন আর পুরাতন বহু সংস্কারকে ফ্রান্সিস প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। ঘা দিয়েছেন একেবারে যাজকতন্ত্রের শিরা-উপশিরায়। সমাজের ইতিবাচকতার প্রশ্নে তিনি বার বার ইতিহাসের আলোকিত অধ্যায়ের পথে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। সেই পোপ মিয়ানমারে গিয়ে যখন বিপন্ন রোহিঙ্গাদের নাম উচ্চারণ করতে পারেন না, তখন রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের সর্বাত্মক ও দমনমূলক ভূমিকাটাই আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়। এতে পোপের সম্পর্কে কোনও অবমূল্যায়ন তৈরি হয় কি? দুই/একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে নেতিবাচক অবস্থান নিলেও অন্যদের অবস্থান কমবেশি একই ধরনের। সংখ্যালঘু ক্যাথলিকদের সুরক্ষার প্রশ্নে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, আর রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন জোরদারের আশঙ্কা থেকেই পোপ ফ্রান্সিস পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন ওই জনগোষ্ঠীর নাম উচ্চারণে সমর্থ হননি। 

রোহিঙ্গাদের নাম না নেওয়াকে মিয়ানমারের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পোপের এক সতর্ক কূটনৈতিক পদক্ষেপ আখ্যা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক ওই সংবাদমাধ্যম। একইভাবে কানাডাভিত্তিক টরেন্টো স্টার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেতে পারেননি বলেই শব্দটি ব্যবহার করেননি পোপ। এবার আসি সু চির প্রসঙ্গে। পোপকে তো সামরিকতা আর উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদের শৃঙ্খলে জিম্মি করে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছিল। তার অবস্থান ছিল একজন বিবেকবন্দীর মতো। পৃথিবীর সবথেকে বিপন্ন জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের কথা বললেই আরেক মানবতাহীন কর্মকাণ্ডের ভয় দেখিয়ে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। এই ভীতি তো মানবতার। আর সু চি কী করছেন? বিশ্বসম্প্রদায় যখন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তার কথিত আপসহীন ভূমিকার প্রশ্নে সরব, গত কয়েক মাস ধরে যখন বিশ্বব্যাপী তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ-অভিমান-ঘৃণার আগুন জ্বলছে, সু চি তখন একদিকে ডি-ফ্যাক্টো সরকারের পক্ষে নিজের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন, আরেকদিকে বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে তার কর্মকাণ্ডের দায় এড়িয়ে চলেছেন।

সু চির পরিণত জীবন শুরু হয়েছিল সাধারণ এক গৃহবধূ হিসেবেই। ব্রিটিশ স্বামীর কাছ থেকে ১৯৮৮ সালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া মা’কে দেখতে  যখন মিয়ানমারে ছুটে আছেন, দেশজুড়ে চলছিল তখন গণতন্ত্রের দাবিতে উত্তাল আন্দোলন। সেই আন্দোলনের জোয়ারেই তিনি গঠন করেন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। রাজনৈতিক দল গঠন করেই সামরিক সরকারের চক্ষুশূলে পরিণত হন। ১৯৮৯ সালে হন গৃহবন্দি। তখন থেকেই পশ্চিমাদের অব্যাহত আনুকূল্য পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন বিপুল মিডিয়া কাভারেজ। এমনকী এশিয়ার মেন্ডেলা খেতাবও জোটে তার। এরপর প্রায় দুই দশক গৃহবন্দি ও কারাগারে কাটাতে হয়। এই সময়ে এক নির্যাতিত রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিদিন একটু একটু করে পশ্চিমাদের সহানুভূতি গাঢ় হতে থাকে তার।

তবে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সংস্কারের কালেই তার অবস্থান পরিষ্কার হয়ে যায় পুরোপুরি। নির্বাচনে তিনি একজন মুসলিম নেতাকেও প্রার্থী করেননি, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ফাঁস হয় মুসলমানেদের নিয়ে সু চির বিতর্কিত মন্তব্য। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ফাঁস হয় মুসলমানেদের নিয়ে সু চির বিতর্কিত মন্তব্য। বিবিসি টুডের ২০১৩ সালের এক সাক্ষাৎকারকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই সাক্ষাৎকারে সম্প্রচার শুরুর আগে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন সু চি। এবারের রোহিঙ্গা নিপীড়ন শুরুর পরও রাষ্ট্রীয় অবস্থান থেকে এক ইঞ্চিও না সরে সু চি অতীতের মতোই অবস্থান নিয়েছেন রোহিঙ্গাদের আত্মপরিচয়ের বিরুদ্ধে।

রোহিঙ্গা নিপীড়ন আড়াল করতে মিথ্যাচার আর ভণ্ডামির যাবতীয় পথ নিয়েছেন তিনি। উল্টো একেবারে ডিফ্যাক্টো সরকারের মসৃণ প্রতিনিধি হয়ে দুষেছেন ‘বাঙালি সন্ত্রাসী’দের। আবার আরেকদিক থেকে বারবার অজুহাত তুলেছেন, সেখানে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা অনেক। তাই তিনি চাইলেই সব করতে পারেন না। একপর্যায়ে সহিংসতা বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ জোরালো হওয়ার পর তিনি সম্ভবত নতুন পথ নেন। মিয়ানমার টাইমস-এর সাংবাদিক সে দেশের এক কনফারেন্সে প্রকাশ্যে বলেছিলাম, সংবাদমাধ্যম হিসেবে তাদের কাজ মিয়ানমারের ইতিবাচক আখ্যান জন্ম দেওয়া। বাস্তবতাকে কিভাবে নির্মাণ করা হয় মিথ্যার বেসাতি ছড়িয়ে, তা আমরা সু চি সেনাবাহিনী মিডিয়া তিন তরফেই দেখেছি। সে যাক, রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার বরাতে রোহিঙ্গা নিপীড়নে সু চির ভেঙে পড়ার খবরটি রয়টার্সের বেনামি সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলা ট্রিবিউনই প্রথম বাংলাদেশে প্রকাশ করেছে।  সু চির দফতরের বেনামি উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্সে তখন বলা হয়েছিল, রাখাইনের উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সেখানকার ত্রাণ কার্যক্রমসহ অবকাঠামো পুনঃর্নিমাণ এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন সু চি। সু চি নিজেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রভাগে থেকে রাখাইনের সংকট উত্তরণে একটি বেসামরিক সংস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তবে এ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে সরব হতে পারছেন না সেনাবাহিনীর কারণে। এতে গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বলে সু চির ধারণা। ওই সংবাদটি পাঠ করে আআমর দু’টি অনুমান দাড়ায়—প্রথমত সু চি উপদেষ্টাকে দিয়ে হুমকি দিয়েছেন, যে তাকে কিছু যেন না করা হয়। তাহলে কিন্তু আবার সরাসরি সেনাশাসন! দ্বিতীয় বিশ্বজুড়ে হারিয়ে ফেলা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষের কর্মীর হৃত মর্যাদা পুনরুদ্ধারের চেষ্টাও করেছেন তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিকতার ভান করে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনা অভিযান শুরুর আগের সেই প্রচারণাকে সু চির কার্যালয় থেকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী রাখাইনের এবারের সংকটের সূচনাকালে পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ কায়দায় রোহিঙ্গাবিরোধী সেনা-প্রচারণা চালানো হয়েছিল। 

আমি নই, শান্তির পক্ষে সরব অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিই প্রশ্ন তুলেছেন সামরিক সরকারকে কেন এত ভয় সু চির। তাকে তো তারা সেই গণতান্ত্রিক  সংস্কার শুরুর আগেও কিছু করতে পারেনি গৃহবন্দি করা ছাড়া? তবে এই ভয় কিসের। আসলে এ ভয় নয়। এও একধরনের বন্দিত্ব। তবে এই বন্দিত্ব পোপের মতোন নয়। বিষয়টিকে আপনি বলতে পারেন  স্বেচ্ছায় কারাযাপন। পোপ বলেছেন ভোগবাদের বিরুদ্ধে। জলবায়ু পরিবর্তন সমকাম ও বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে নিয়েছেন যুগান্তকারী অবস্থান। প্রোটেস্ট্যান্ট, মুসলিম আর ইহুদিদের সঙ্গে আন্তঃধর্মীয় বিশ্বাস বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। মিয়ানমারে তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করতে পারেননি। তিনি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভয়াবহ দুর্ভোগের কথা বলতে গিয়ে সেখানে তিনি বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সেই বৈচিত্র্যকে সম্মিলিত হওয়ার পথ হিসেবে চিনিয়ে দিতে চেয়েছেন সামরিকতায় ক্ষতবিক্ষত দেশটিকে। বিপরীতে সু চির বন্দিত্বের প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ে কৈশরে শোনা নচিকেতার গান, ‘যখন আমার গানের পাখি/ শুধু আমাকেই দিয়ে ফাঁকি/ সোনার শেকলে ধরা দেয় গিয়ে/ আমি শূন্যতা ঢাকি...’ । এই যে সোনার শেকল, এ কিন্তু বাস্তব শেকল নয়। এ হলো বস্তুগত আকাঙ্ক্ষা, জাগতিক বাসনা। বাজারের যুগে সেই বাসনার নাম সমৃদ্ধি-প্রতিপত্তি-ক্ষমতার লোভ। কানাডার একজন কূটনীতিক সে কারণেই তাকে বলতে চেয়েছেন, ভয়াবহ নিপীড়নকে দুই পক্ষের সংঘাত আকারে প্রমাণের চেষ্টা ভণ্ডামো। এটি বন্ধ করুন। সেনাবাহিনীর নিরঙ্কুশ ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগ করতেই সু চি রোহিঙ্গা নিপীড়ন মেনে নিয়েছেন নীরবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ও ধর্মযাজক ডেসমন্ড টুটু সে কারণেই বলেছিলেন, অনেক চড়া দামে ওই নীরবতা কিনেছেন সু চি।
লেখক:  ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ, বাংলা ট্রিবিউন

 

/এমএমআর/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। বাংলা ট্রিবিউন-এর সম্পাদকীয় নীতি/মতের সঙ্গে লেখকের মতামতের অমিল থাকতেই পারে। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

লাইভ

টপ