কচুরিপানার সাংবাদিকতায় ভেসে যাওয়া দীপু হাসান

Send
বোরহানুল হক সম্রাট
প্রকাশিত : ১৯:৩৮, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪১, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

বোরহানুল হক সম্রাটপ্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে এবং সাংবাদিকতায় যারা অন্যায়ভাবে অদক্ষ, অকর্মণ্য, অসৎদের নিয়োগ দেন অথবা নিয়োগের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তারা একটা বিষয় বুঝতে পারেন কি না, জানি না। দুই-একটা নিয়োগে ভুল হতেই পারে—মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে স্কুল, কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে লোকটা যা পারে না, যে মানুষটার যে যোগ্যতা নেই, তাকে সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়াটা কত বড় অপরাধ, তারা কি ভেবেছেন কখনও?
দেখা গেছে, ওই ব্যক্তিগুলো যে কাজের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, দীর্ঘসময় ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোয় থাকলেও সেই কাজ তারা করতেই পারছেন না। বরং তার বিপরীত কাজগুলো করে যান। অন্যদের সামনে, কুপথে অথবা কতভাবে টিকে থাকা যায়, তার ভিন্ন উদাহরণ সৃষ্টি করেন। জানতে ইচ্ছে করে, এই দুটি মহান পেশায় এ ধরনের অনাচার বা ঘটনাগুলো ঘটে যাওয়ার জন্য যে পাপের সৃষ্টি হয়, সেই পাপ কি নিয়োগকর্তাদের স্পর্শ করবে না। এটা কি ছোট পাপ, যেটা সৃষ্টিকর্তা খেয়ালই করবেন না? আপনি শুধু ভাবুন, যে প্রাইমারিতে শিক্ষক নেই বলে শিক্ষার্থীরা দিনের পর দিন স্কুলে এসে ওই বিষয় না পড়ে চলে যায়, তারা কতটা অভাগা। যে প্রাইমারির শিক্ষার্থীরা শুধু টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়া হেড মাস্টার পায়, ওরা কতটা অভাগা! আবার সরকারি কলেজের কোনও এক বা দুটি বিষয়ের শিক্ষক না পেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রথমে নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে, পরে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েই হতাশা ডুবে থাকেন। যদি একদিন জানা যায়, নতুন নিয়োগ হয়েছে, শিক্ষকও পেতে চলেছেন তারা। কিন্তু সেই শিক্ষক এসে শুধু গল্পই করে যান দিনের পর দিন। এরপর শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন, যার অপেক্ষায় ছিলেন তারা, এ শিক্ষক তিনি নন, সেই শিক্ষক তিনি কোনোদিনই হতে পারবেন না। অথচ তিনি থেকে যাবেন বহু বছর। তখন কী হয়। যে ব্যক্তিটি এই ভুল শিক্ষককে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিলেন তিনি কী জানেন, কী করলেন তিনি। গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান। যেকোনও কিছুর বিনিময়ে তিনি চেয়ারম্যান থাকতে চান। তারপর নিয়োগ নিয়ে পাপের ডিব্বা খোলেন। এখন এসব শিক্ষক যদি ৩০ বা ৩৫ বছর ধরে এভাবেই আসেন আর যান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও যার  প্রমাণ রয়েছে, তাহলে এই শিক্ষককে যে শিক্ষার্থীরা পাবেন, কেমন ভাগ্য হবে তাদের? শিক্ষার্থীদের জীবন ধ্বংস করার এই কর্ম  ছোট পাপ, না বড় পাপ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাবেক এক বিদগ্ধ উপাচার্যের আত্মীয় শিক্ষক হয়ে এসেছিলেন। তার সাজসজ্জায় শিক্ষার্থীরা অভিভূত হয়ে পড়াশোনার কথা ভুলে গিয়েছিলেন। তিনিও বুঝেছিলেন সেই মন্ত্রটা কাজে এসেছে। তবু প্রথম প্রথম ভাবা হলো নিশ্চয়ই তিনি একদিন শুরু করবেন পড়ানো। পাঁচ বছরে এমন ‘তারা’ একদিনের জন্যও পড়াতে পারেননি। নোটের পাতাগুলো আরও হলুদবর্ণ ধারণ করেছিল। তাহলে কী করেছেন ক্লাসের সময়? কীভাবে কীভাবে কেটেছে সেই অগুনতি ক্লাসের সময়। একদিন লিখবো। দুঃখ হয় যে তেমন দিন ফেলে আসতে পারেনি এখনো।  আর সাংবাদিকতার মহান পেশায় এমন নিয়োগ দেখে কষ্টে বুক ব্যথা করে।

এই যে নিয়োগ দিলেন, এরপর সে কী করে, কোথায় যায়?  শুধু অবৈধভাবে বেতন নিয়েই ক্ষান্তি নেই, প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে বেচে দেয়, তার অনন্য উদাহরণ তৈরি করে। অথচ মূল কাজটা, এই যে সে প্রথম প্রথম পারে না, এই যে সে কোনোদিনই আর পারার চেষ্টাও করে না, করবে না, পেশাটা বিবর্ণ হবে, এটার দায় কে নেবে? ধর্মে আছে—রাস্তার ধারে যদি কোনও গাছ লাগান, তবে তার ছায়ায় যতজন শান্তি পাবেন, যত বছর জুড়েই হোক আপনি তার পুণ্য পাবেন। যদি এমন নিয়োগ দেন যে, সেই কাজটা তো পারেই না বা পারলোই না বরং  উল্টো করে গেলো, কচুরিপানার সাংবাদিকতা করে করে পেশার সম্মান নষ্ট করতে থাকলো দীর্ঘ সময় জুড়ে, যেই অনাচারের রাজ্যে, জায়গা না জুটে দীপু হাসানরা মরে যায়—আপনি কি ভেবেছেন কখনো, ওই মরায়, আপনার একটা প্রভাব আছে, ভূমিকা আছে? এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। ২০ বছর ধরে পোষা কষ্টের কিছুটা লিখলাম। যে পেশা আপনাদের জীবন পাল্টে দিয়েছে, তার জন্য একটু দায়বোধ নিয়েই এবার ভাবনাগুলো পাল্টে ফেলুন। সত্যিকার অর্থেই পেশাটার জন্য কিছু দিন। অথবা হিসাব করুন কতটুকু দিয়েছিলেন, বিনিময়ে কতটুকু নিয়েছেন। আর কত নেবেন, আর নেবেন না প্লিজ।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, নিউজ টোয়েন্টিফোর

 

/এসএএস/এমএনএইচ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

লাইভ

টপ