X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

ভোগান্তিতে কাটলো আরেকটি দিন

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২১, ২৩:৪৪

ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা ধর্মঘট পালন করছেন। এ জন্য শনিবারও (৬ নভেম্বর) সারাদেশে সড়কে যাত্রীদের তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হয়। কর্মজীবী মানুষ পায়ে হেঁটে এবং কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে রিকশা-অটোরিকশায় কর্মস্থলে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, দূরপাল্লার যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে ছোট পরিবহনে নানা দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এ বিষয়ে জানাচ্ছেন বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধিরা:    

নারায়ণগঞ্জ: শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড মোড়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ট্রাক, কাভার্ডভ্যান স্বাভাবিক চলাচল করলেও যাত্রীবাহী বাস নেই। দীর্ঘ সময় পর একটি-দুটি বাস আসলেও সাইনবোর্ড মোড়ে লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবহন শ্রমিকরা তাদের যাত্রী তুলতে না দিয়ে দ্রুত চলে যেতে বাধ্য করছেন। ভাড়া কয়েকগুণ বেশি নেওয়া হলেও সিএনজি অটোরিকশা বা লেগুনা আসলেই যাত্রীরা প্রায় যুদ্ধ করে তাতে উঠে পড়ছিলেন। একটি মিনি ট্রাকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঢাকায় যেতে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় শতাধিক বাস চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও ১নং রেলগেট বাস স্ট্যান্ডে দেখা যায়, ধর্মঘটের কারণে প্রতিটি বাস কাউন্টার বন্ধ থাকার পরও যাত্রীর ভিড় ছিল। ধর্মঘট শেষ হয়ে যাবে,এ প্রত্যাশায় বাস স্ট্যান্ডে এসেছেন। আবার কেউ কেউ না জেনে এসেছেন। এখানেও সিএনজি অটোরিকশা বা লেগুনা দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছেন যাত্রীরা। হুড়োহুড়ি করে এসব যানবাহনে চড়ে বসছেন।

নগরী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক নাসিম, আসমা দম্পত্তি। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু কোনও যানবাহনে উঠতে পারছেন না। কারণ প্রতিটি ছোট যানবাহনের চালকরা যে ভাড়া চাচ্ছেন তা দিয়ে তাদের ঢাকায় যাওয়া সম্ভব নয়।

নরসিংদী: পণ্য ও যাত্রীবাহী পরিবহনের চলমান ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন নরসিংদীর সাধারণ মানুষ। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন শনিবার জেলার বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক-ট্যাংক লরি চলাচল করেনি। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। অনেকে বিকল্প যানবাহনে পৌঁছেছেন গন্তব্যে। তবে এর জন্য গুনতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া।

সকালে নরসিংদীর সাহেপ্রতাপ তর্জনি চত্বরে দেখা গেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের জমায়েত। সেখানে তারা স্বল্প পরিসরে চলাচলকারী পিকআপ ভ্যানের গতিরোধ করে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। বিভিন্ন যান চলাচলেও বাধার সৃষ্টি করে। এতে বিভিন্ন প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেকেই দুই-তিন গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে অটোরিকশা ও পিকআপ ভ্যানে পৌঁছেছেন নিজ নিজ গন্তব্যে।

নেই দূরপাল্লার বাস চট্টগ্রাম: শনিবার সকাল থেকেই পরিবহন শ্রমিকরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন। কোনও গাড়ি চলাচল করতে গেলেই তারা বাধা দিচ্ছেন। শ্রমিকরা ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজি আটকে দেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নগরীর লালখান বাজার, কাজির দেউড়ী, নিউমার্কেট, নতুন ব্রিজ এলাকায় দেখা গেছে, মানুষ গাড়ি না পেয়ে হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প পরিবহনে মানুষকে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

সকালে নগরীর লালখান বাজার এলাকা থেকে জিএনজিযোগে ইপিজেড এলাকায় যাচ্ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘লালখান বাজার থেকে সিএনজি নিয়ে যাওয়ার পথে টাইগারপাস এলাকায় গেলে পরিবহন শ্রমিকরা গাড়িটি আটকে দেন। অনেক অনুনয় করে বলার পর ১৫-২০ মিনিট পর গাড়িটি ছেড়ে দিয়েছেন।’

শনিবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এ দিন কেউ গ্রামের বাড়িতে যেতে পারেননি। অন্যদিকে কেউ গ্রাম থেকে শহরে আসতেও পারেননি। নগরীর অক্সিজেন মোড় থেকে বিআরটিসির কয়েকটি বাস খাগড়াছড়ি, রাঙামাটির দিকে ছেড়ে গেলেও হাটহাজারী এলাকায় সেগুলোকে বাধা দেন পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় তারা বাসের সামনের কাচে মবিল লাগিয়ে দেন।

নগরীর চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা মো. ইসমাইল বলেন, ‘শুক্রবার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। বাসা থেকে বের হয়ে কাউন্টারে গিয়ে দেখি বাস চলছে না। আজ শনিবারও একই অবস্থা। আজও অলংকার মোড়ে গিয়ে ফিরে দূরপাল্লার কোনও বাস চলাচল না করায় ফিরে এসেছি।’

সড়কে বাস চলাচল না করায় সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন। নগরীর হালিশহর থানাধীন ঈদগাঁ এলাকা থেকে ইপিজেড যাতায়াত করেন পোশাক কারখানার কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘অন্যসময় ১৫০ টাকা দিয়ে ইপিজেড আসি। কিন্তু আজ আড়াইশ টাকা দিয়ে এসেছি। নিয়মিত ভাড়া দিয়ে আসার জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি। কিন্তু কেউ ওই ভাড়ায় আসতে রাজি হয়নি।’

দূরপাল্লার যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে ছোট পরিবহনে নানা দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন রংপুর: শনিবারও রংপুর থেকে কোনও দূরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে যায়নি। আগাম টিকেট কেটে নগরীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে আসা যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। চাকরিতে যোগদান, জরুরি প্রয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর। বাসের ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য তা হবে কষ্টদায়ক। এ অবস্থায় ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানান তারা।

ঢাকায় যাওয়ার অগ্রিম টিকেট কেটে স্ট্যান্ডে এসে বাস চলাচল করবে না জেনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন গৃহবধূ মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, ‘সরকার ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষদের আবারও বিপদে ফেললো। আবার ভাড়া বাড়বে, বাড়তি টাকা আমরা কোথায় পাবো।’

মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে তিন দিনের ছুটিতে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী সেলিম জানান, রবিবার জয়েন না করলে চাকরি থাকবে না। এভাবেই বিভিন্ন কাজে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে আসা অনেককে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

ময়মনসিংহ:ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন সড়কে পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি। সকালে ময়মনসিংহ বাইপাস মোড়ে সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই সুযোগে এসব যানের চালকরা চার গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।

গাজীপুরের সাফারি পার্ক সংলগ্ন বাঘের বাজার হাইস্কুলের শিক্ষক লাভলু মিয়া গত বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) গ্রামের বাড়ি জামালপুর এসেছিলেন। স্কুল খুলে যাওয়ায় জামালপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ বাইপাস মোড়ে পৌঁছান তিনশ' টাকায়। পরে বাইপাস মোড় থেকে মাইক্রোবাসে করে গাজীপুর বাঘের বাজার এলাকায় যেতে তাকে গুনতে হয় ৬০০ টাকা। এই হিসেবে গ্রামের বাড়ি থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে শিক্ষক লাভলু মিয়ার গুনতে হচ্ছে ৯০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে ২০০-২৫০ টাকায় গাজীপুরের বাঘের বাজার পৌঁছান তিনি। লাভলু মিয়া বলেন, ‘স্কুল খুলে যাওয়ায় কয়েক গুণ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছি। এমন সমস্যা সব যাত্রীর।’

ভোগান্তিতে কাটলো আরেকটি দিন মানিকগঞ্জ: ধর্মঘটের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকাগামী যাত্রী ও সবজি ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। ঢাকায় কর্মরত চাকরিজীবীদের ছোট ছোট যানবাহনে ভেঙে ভেঙে যেতে হচ্ছে। এই সুযোগে ছোট যানবাহন চালকেরা ভুক্তভোগী যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন।

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরজমিন দেখা যায়, পৌর টার্মিনালে সারি সারি বাস। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ঢাকাগামী কর্মমুখী যাত্রীরা ছোট যানবাহন যোগে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড আসছেন। এরপর এখান থেকে প্রাইভেটকার,লেগুনা,হেলোবাইক,সিএনজি ও অটোরিকশা যোগে নিদিষ্ট ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দিয়ে ধামরাই,নবীনগর ও সাভার যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ হাটিকুমরুল গোল চত্বর এলাকায় দূরপাল্লার যানবাহন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে এতে এখন দূর-দূরান্তে চলাচলের জন্য একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস। ২০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা দিয়ে মাইক্রোবাসেই ঢাকার উদ্দেশে সিরাজগঞ্জ ছাড়ছেন যাত্রীরা।

শাহজাদপুর থেকে ঢাকাগামী গার্মেন্টসকর্মী রুবেল বলেন, ‘শাহজাদপুর থেকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত এসেছি। কিন্তু এখানে বাস না পাওয়ায় প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। আজ ঢাকায় পৌঁছাতে পারবো কিনা সেই শঙ্কায় আছি। এদিকে ৫০০ টাকা ভাড়া দিয়ে মাইক্রোবাসে যাওয়াও আমাদের মতো শ্রমিকদের জন্য কঠিন।’

শাকিব নামে এক যাত্রী হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় চালভর্তি বস্তার ওপরে বসে ট্রাকের জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ‘ঢাকায় একটি ছোট চাকরি করি। বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম, আজ  আবার কর্মস্থলে যাচ্ছি। ভাবলাম চালের অনেক দাম তাই বাড়ি থেকে একবস্তা চাল নিয়ে যাই। কিন্তু মাইক্রোবাসে উচ্চ ভাড়ায় যাওয়ার সুযোগ থাকলেও চালসহ যাত্রী নিচ্ছেন না চালকরা।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। তবে অভ্যন্তরীণ সড়কে লোকাল বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ভোগান্তির শিকার নোয়াখালীগামী যাত্রী স্বপন মিয়া বলেন, জরুরি প্রয়োজনে নোয়াখালী যাওয়া প্রয়োজন। বাসা থেকে রাস্তায় এসে এখন কোনও বাস পাচ্ছি না। ১০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা দিয়েও গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। খুব ভোগান্তি আর টেনশনের মধ্যে আছি। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করলে কষ্ট আরও বাড়বে।’

দেশের অন্যান্য জেলা থেকেও একই রকম খবর পাওয়া গেছে।  

/এমএএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
ম্যাথুজকে রানই করতে দেননি তাইজুল
ম্যাথুজকে রানই করতে দেননি তাইজুল
দেশে এই ভ্যাপসা গরমের কারণ কী
দেশে এই ভ্যাপসা গরমের কারণ কী
টম ক্রুজের সম্মানে কানের আকাশে যুদ্ধবিমান!
কান উৎসব ২০২২কানের আকাশে যুদ্ধবিমান!
যুক্তরাষ্ট্রে মানকিপক্সের প্রথম রোগী শনাক্ত
যুক্তরাষ্ট্রে মানকিপক্সের প্রথম রোগী শনাক্ত
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত