X
শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
১৪ মাঘ ১৪২৯

আমনের শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন 

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী
০৩ নভেম্বর ২০২২, ১২:৪৩আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫০

বন্যা, খরার পরও গত দু-তিন বছরের তুলনায় এবার নীলফামারীর ছয় উপজেলায় ধানের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। জেলার ফসলের মাঠজুড়ে এখন সোনালি আমন ধানের শীষে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলায় এবার এক লাখ ১৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্জিত জমির পরিমাণ ৫ হেক্টর বেশি। এবার উফশি ৯১ হাজার ২২৫ হেক্টর, স্থানীয় জাত ৩৬৮ হেক্টর এবং হাইব্রিড ধান ২১ হাজার ৫১২ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। আগামী মাসের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে জোরেশোরে ধান কাটা শুরু হবে বলে কৃষকরা জানান।

উপজেলা পর্যায়ে অর্জিত জমির পরিমাণ হলো– সদর উপজেলায় ২৮ হাজার ২০৫ হেক্টর, ডোমারে ১৮ হাজার ৪৩৫ হেক্টর, ডিমলায় ২০ হাজার ৪৩৮ হেক্টর, জলঢাকায় ২২ হাজার ৯৩২ হেক্টর, কিশোরগঞ্জে ১৪ হাজার ৮৮৫ হেক্টর এবং সৈয়দপুর উপজেলায় আট হাজার ২১০ হেক্টর।

জেলা শহরের নিউবাবু পাড়ার কৃষক মহুবার রহমান (৫৬) জানান, তিনি এবার ছয় বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষ করেছেন। ফলনও বেশ ভালোই হয়েছে। ধান কাটা ও মাড়াই করতে আরও ১৫-২০ দিন সময় লাগবে। বর্তমানে ধানের বাজার ভালো, সবকিছু মিলে লোকসান হবে না।

একই এলাকার বর্গাচাষি সোলেমান আলী (বালু) (৩৯) বলেন, ‘পাশের বাড়ির একজনের দেড় বিঘা জমি নিয়ে হাইব্রিড ধানের আবাদ করি। বর্ষার শুরুতে আকাশে পানির অভাব ছিল, প্রথমবার সেচের পানি দিয়ে ধান লাগালেও পরে প্রচুর আকাশের পানি পাওয়া গেছে। ধান আবাদে তেমন কোনও সমস্যা হয়নি। ফলনও ভালোই হয়েছে। আশা করি, বিঘায় ১২ থেকে ১৩ মণ ধান হবে।’

নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের চড়চড়াবাড়ী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম (৩৫) বলেন, ‘প্রতি বছর আট থেকে দশ বিঘা জমিতে ধান লাগাই। বর্ষার শুরুতে খরার কারণে শ্যালো মেশিন দিয়ে ধানের চাড়া লাগানোর কাজ শুরু করলেও পরে প্রচুর বৃষ্টি নামে। ওই বৃষ্টির পানি দিয়ে ধান লাগানো শেষ করি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। বাজার ভালো থাকলে লাভবান হতে পারবো।’

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠক করে ধানের রোগবালাই দমনসহ সঠিক সময়ে কর্তনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার সদরে ২৮ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছা. হুমায়রা মণ্ডল জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরেও গত দু-তিন বছরের তুলনায় এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। গত আমন মৌসুমের তুলনায় এবার ৫ হেক্টর জমি বেশি আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে আগামজাতের ১৭ হাজার ৫০ হেক্টর জমির আমন ধান কর্তন করা হয়েছে।

/এমএএ/
সর্বশেষ খবর
বার কাউন্সিল সভায় বিএনপি-আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল
বার কাউন্সিল সভায় বিএনপি-আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল
শান্ত-মুশফিকের ব্যাটে জয়ে ফিরলো সিলেট
শান্ত-মুশফিকের ব্যাটে জয়ে ফিরলো সিলেট
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপহরণ বাণিজ্য, নির্ঘুম রাত কাটে স্থানীয়দের
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অপহরণ বাণিজ্য, নির্ঘুম রাত কাটে স্থানীয়দের
হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে রিয়াজ, দিলেন ব্যাখ্যাও
হিন্দি সিনেমা আমদানির পক্ষে রিয়াজ, দিলেন ব্যাখ্যাও
সর্বাধিক পঠিত
খাবারের দাম দ্বিগুণ, বাস মালিক-হাইওয়ে হোটেলগুলোর সিন্ডিকেট
খাবারের দাম দ্বিগুণ, বাস মালিক-হাইওয়ে হোটেলগুলোর সিন্ডিকেট
মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রীদের অবস্থান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রীদের অবস্থান
যে জুটি কখনও ব্যর্থ হয়নি
যে জুটি কখনও ব্যর্থ হয়নি
চলতি বছরেই ট্রেন যাবে কক্সবাজার
চলতি বছরেই ট্রেন যাবে কক্সবাজার
‘লাদেন ও মোল্লা ওমরের সঙ্গে যুদ্ধ করা’ ফখরুল ধরেছে হুজির হাল!
‘লাদেন ও মোল্লা ওমরের সঙ্গে যুদ্ধ করা’ ফখরুল ধরেছে হুজির হাল!