প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির তৈজসপত্র

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী
২৪ মার্চ ২০২৩, ১০:০৯ আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৩, ১৫:২১

‘বাব দাদার হাতে মাটির তৈজসপত্র বানানো শিখছি। এখন স্বামীর সংসারে ২১ বছর ধরে এই কাম (কাজ) করি। দুই মেয়ে এক ছেলেও এই কাম করে। তাও সংসার চলে না।’ কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারী সদরের সোনারায় ইউনিয়নের উত্তর মুসরত কুকাপাড়া গ্রামের কুমার পাড়ার নমিতা পাল (৩৯)।

নমিতা পালের স্বামী খগেন্দ্র পালও (৪৫) এই পেশায় রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিকের ভাড়া পাতিল বের হয়ে হামার মাটির জিনিস কেউ নেয় না। বছরে একবার পহেলা বৈশাখ, হিন্দুদের বিয়া বাড়ি ও বিভিন্ন পূজা-পার্বণে একটু বেচা-কেনা হয় এখন তাও হয় না। এক সময় এই ব্যবসার কদর ছিল। বাড়িতে এসে পাইকাররা বায়না দিয়ে যেত এখন আর সেই দিন নাই। কামাই খুব হইত। এখন পেট চলে না।’

জানা গেছে, সোনারায় ইউনিয়নের মুসরত কুকাপাড়ায় রয়েছে এই শিল্পের প্রায় ৬৫টি পরিবার। এ ছাড়া জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ২৩০টি পরিবার এই পেশায় রয়েছে। কিন্তু মাটির অভাব, প্রয়োজনীয় পুঁজি ও পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে অস্তিত্ব সংকটে এই জেলার মৃৎশিল্প। উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর ন্যায্য মূল্য না থাকায় এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা অন্য পেশায় যেতে বাদ্য হচ্ছেন। সাত পুরুষের ঐতিহ্যবাহী পেশাকে কোনও রকমে ধরে রেখেছেন অনেকে। বাজারে প্রচলিত প্লাস্টিক সামগ্রীর সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে তারা এখন কোণঠাসা। ফলে গ্রাম বাংলার এই শিল্পের ঐতিহ্য হারানোর পাশাপাশি তাদের দুর্দিন যাচ্ছে।

মৃৎশিল্পী বিকাশ চন্দ্র পাল (৪০) বলেন, ‘পুরুষদের প্রধান কাজ মাটি কিনে সেগুলো কাদা করা ও ভাটায় পোড়ানো। এরপর এসব সামগ্রী নিজ হাতে তৈরি করেন বাড়ির নারী ও ছেলে-মেয়েরা। তৈরি সামগ্রী বাজারে বিক্রি করি আমরা। কিন্তু দিন দিন চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন হাত পড়েছে কপালে।’

জেলা শহরে মাটির তৈজসপত্র বিক্রি করতে আসা কৈলাস চন্দ্র পাল বলেন, ‘মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, কলস, সারোয়া, পেচি, তাওয়ার এক সময় খুব চাহিদা ছিল। বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা সামলানো যেত না। এখন হাটে আসা যাওয়ার ভাড়াই উঠে না। আগে গরমে পানি রাখার একটি কলস বিক্রি হতো ৩০-৪০ টাকা। এখন ফ্রিজ বের হয়ে কলসের কোনও চাহিদা নাই। হঠাৎ এক-আধটা বিক্রি হয়, তাও পানির দামে দিতে হয়।’

সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ তালুকদার বলেন, ‘কুমারপাড়ার ওই পরিবারগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করায় তাদের কোনও সমবায় সমিতি নাই। তাদের এক জায়গায় করে সমবায় সমিতির মাধ্যমে সহযোগিতা করা যেতে পারে।’

এ ব্যাপারে নীলফামারী ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের ব্যবস্থাপক (বিসিক) হোসনে আরা খাতুন বলেন, ‘এ শিল্পের লোকজনদের সমিতির মাধ্যমে আর্থিকভাবে সহায়তা করা যেতে পারে। তবে মাটির তৈরি জিনিশপত্রের আদলে তৈরি করছে প্লাস্টিক পণ্য নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিনিয়ত ব্যবহার কমছে মাটির তৈরি পণ্য সামগ্রীর। এতে বিপাকে পড়েছে এই শ্রেণী পেশার মানুষ। আমাদের শর্ত পূরণের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করা যেতে পারে।’

জেলা প্রশাসক পঙ্কজ ঘোষ বলেন, ‘মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে কোনও ধরনের সহায়তার সুযোগ থাকলে তা অবশ্যই করা হবে। এটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য আর ওই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কুমাররা (মৃৎশিল্পীরা)।’

/এসএন/
সম্পর্কিত
সাজেক সংকট নিরসনে তিন সদস্যের কমিটি গঠন
খুলনা ডিসি অফিসে অগ্নিকাণ্ড, কী ক্ষতি হলো?
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে যা জানালো ইসি
সর্বশেষ খবর
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ৬০ কোটি টাকার লভ্যাংশ সরকারি কোষাগারে জমা
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ৬০ কোটি টাকার লভ্যাংশ সরকারি কোষাগারে জমা
যাত্রাবাড়ীর তাইম হত্যা: দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক পিছিয়ে গেলো
যাত্রাবাড়ীর তাইম হত্যা: দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক পিছিয়ে গেলো
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী
জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী
মোদির বাপও যাবে, মেজাজ হারালেন কংগ্রেস সভাপতি
মোদির বাপও যাবে, মেজাজ হারালেন কংগ্রেস সভাপতি
সর্বাধিক পঠিত
জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন কারা
জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন কারা
কে হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান? প্রস্তাবনায় যেসব নাম
কে হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান? প্রস্তাবনায় যেসব নাম
২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমপি নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করবেন, আশা করেন রাশেদ খাঁন
২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমপি নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করবেন, আশা করেন রাশেদ খাঁন
ঋতুস্রাবের সময় বিজয়ের সেবাযত্নের প্রশংসায় রাশমিকা
ঋতুস্রাবের সময় বিজয়ের সেবাযত্নের প্রশংসায় রাশমিকা
‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’-কমেন্ট কেন করেছিলেন, আদালতকে জানালেন সেই যুবক
‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’-কমেন্ট কেন করেছিলেন, আদালতকে জানালেন সেই যুবক