প্রতিপক্ষ‌কে ফাঁসা‌তে মেয়েকে হত‌্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৫৪আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০১

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মরিয়ম না‌মের নি‌জের ৮ বছ‌রের শিশুসন্তান‌কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মা রিনা বেগম ও চাচা সেন্টু মৃধার বিরু‌দ্ধে। ঘটনার ৪ দিন পর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পটুয়াখালী পুলিশ। হত্যার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন মা ও চাচা—এমনটাই জানিয়েছে পু‌লিশ।

বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম। এর আগে দুপুরে দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের রামবল্লভ গ্রামে থেকে ওই শিশুর মা ও চাচাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সুপার জানান, মরিয়ম হত্যার ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে। হত্যার আগে মা রিনা বেগম ও চাচা সেন্টু মৃধা জমিসংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মরিয়মকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শনিবার সন্ধ্যায় মা রিনা বেগম মেয়ে মরিয়মকে পাশের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নতুন পোশাক পরিয়ে চুল বেঁধে সাজিয়ে-গুছিয়ে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত ভিটায় নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে ওড়না দিয়ে মরিয়মের মুখ বেঁধে রাখে মা আর চাচা সেন্টু মৃধা মোটা শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নি‌শ্চিত ক‌রে চ‌লে যায়।

পু‌লিশ সুপার আরও জানান, মরিয়মকে হত্যার আলামত ঢাকতে মা রিনা বেগম রক্তাক্ত পোশাক নিয়ে পুকুরে নেমে সাঁতার জানা মরিয়মকে খুঁজতে থাকেন। মরিয়মের নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ি বাড়ি না খুঁজে এলাকার মসজিদের মাইকে তার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ প্রচার করতে থাকেন। এ ছাড়া মরিয়মের মায়ের অসংলগ্ন আচরণ দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। মরিয়মকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত লাঠি ও ওড়না উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রামবল্লভ অগ্রণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়মকে বাড়িতে ফিরতে না দেখে পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ৮টায় বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত ভিটায় মেয়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তার বাবা মকবুল মৃধা। এ সময় শিশুটির মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিল এবং গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ রাত ১২টায় মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে।

নিহত মরিয়মের বাবা মকবুল মৃধা বলেন, ‘পুলিশ বলেছে, মরিয়মের মা রিনা বেগম ও আমার ভাই সেন্টু মৃধা মিলে মরিয়মকে হত্যা করেছে। ঘটনা সত্যি না মিথ্যা বুঝতে পারছি না। তবে তারা যদি সত্যি অপরাধী হয় তাহলে তাদের যেন কঠোর বিচার হয়।’

জান‌তে চাই‌লে দশমিনা থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, মরিয়ম হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত রিনা বেগম ও সেন্টু মৃধাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

/কেএইচটি/
সম্পর্কিত
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বশেষ খবর
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী