ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীতে ইলিশ রক্ষার অভিযান শেষে ফেরার পথে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিযানে নিয়োজিত সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলা মৎস্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার বিশ্বাসসহ সাতজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার কুমারখালী-জাঙ্গালিয়া সংলগ্ন সুগন্ধা নদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় মৎস্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক প্রণব বিশ্বাস স্পিডবোট থেকে পড়ে আহত হন।
আহত অন্যরা হলেন- আনসার ও ভিডিপির হাবিলদার আবদুর রহিম, সিপাহি সাকিব হাসান ও সেলিম মিয়া, নৌযানের মাঝি মো. রেজাউল করিম, চালক মো. মোস্তফা সিকদার এবং অফিস সহায়ক মো. রমজান আলী খলিফা। তারা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঝালকাঠি জেলা মৎস্য অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন মৎস্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার বিশ্বাস।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হকের নেতৃত্বে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে একটি স্পিডবোট ও একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে সুগন্ধা নদীতে অভিযান চালানো হয়। নলছিটি অংশে অভিযান শেষে ফেরার পথে কুমারখালীর জাঙ্গালিয়া সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌযানে আসা একদল ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করেন। এ সময় লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে মৎস্য বিভাগের দলটির ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার বিশ্বাস স্পিডবোট থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। পাশাপাশি আরও ছয় জন আহত হন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, ‘ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আমাদের একটি দল সুগন্ধা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ফিরছিল। এ সময় আমাদের দলের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মৎস্য বিভাগের সাতজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা চালক ও মাঝিকে মারধর করে এবং রামদা দেখিয়ে ভবিষ্যতে অভিযানে না আসার জন্য হুমকি দেয়। এমনকি মাঝিদের কান ধরে ওঠবসও করানো হয়, যাতে তারা পরবর্তী সময়ে অভিযানে সহযোগিতা না করেন।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘হামলাকারীরা একাধিক নৌযানে এসে আমাদের স্পিডবোটের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক স্পিডবোট থেকে পড়ে গেলে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। হামলাকারীরা স্পিডবোটের চালককে মারধর করে হত্যার জন্য খুঁজতে থাকে। পরে তাকে উদ্ধার করে কোনোভাবে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসেন মৎস্য বিভাগের সদস্যরা। বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’