X
শনিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৫ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস

কাউন্সিলর সোহেলকে ৯টি গুলি করা হয়েছিল

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২১, ২৩:০৬

কুমিল্লার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র সৈয়দ মো. সোহেলকে নয়টি গুলি করা হয়েছে। এ সময় তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে দুটি গুলি করা হয়। তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করতে দোকানের শাটার লাগিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় করা মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অজ্ঞাত ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামি শাহ আলম নগরীর সুজানগর এলাকার বাসিন্দা।

অন্য আসামিরা হলো নবগ্রামের শাহ আলমের ছেলে সোহেল, সুজানগরের রফিক মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন, একই এলাকার কানু মিয়ার ছেলে সুমন, সংরাইশের কাকন মিয়ার ছেলে সাজন, তেলিকোনার আনোয়ার হোসেনের ছেলে রকি, সুজানগরের জানু মিয়ার ছেলে আলম, একই এলাকার নুর আলীর ছেলে জিসান মিয়া, সংরাইশের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে মাসুম, নবগ্রামের সামছুল হকের ছেলে সায়মন ও সুজানগরের কানাই মিয়ার ছেলে রনি। তাদের মধ্যে সুমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাউন্সিলর সোহেলের কপালের ডান পাশে গুলি করে শাহ আলম। ২ নম্বর আসামি সোহেল মাথায় গুলি করে। ৫ নম্বর আসামি সাজন বুকের বাঁ পাশে ও ৬ নম্বর আসামি রকি ডান গালে গুলি করে। 

এমন বর্ণনা দিয়ে মামলাটি করেছেন কাউন্সিলর সোহেলের ভাই সৈয়দ মো. রুমন। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) রাত সোয়া ১২টায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করা হয়। 

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা মাদক ব্যবসা করে। কাউন্সিলর সোহেল বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সোমবার পাথুরিয়া পাড়ায় তার অফিস সংলগ্ন থ্রি-স্টার এন্টারপ্রাইজ রড সিমেন্টের দোকানে বসেছিলেন কাউন্সিলর সোহেল। এ সময় আসামিরা কালো পোশাক পরে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর আসামি এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে কাউন্সিলর সোহেল চেয়ার থেকে নিচে পড়ে যান। তারা মৃত্যু নিশ্চিত করতে সোহেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে। তাকে বাঁচাতে হরিপদ সাহা এগিয়ে এলে তার পেটে গুলি করে ৭ নম্বর আসামি আলম ও ৯ নম্বর আসামি মাসুম। দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করতে শাটার বন্ধের পর বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে আসামিরা। লোকজন তাদের উদ্ধার করতে এলে ৮ নম্বর আসামি মো. জিসান, ১০ নম্বর আসামি সাজন ও ১১ নম্বর আসামি মনির তাদের গুলি করে। এ সময় কাউন্সিলরের আরও পাঁচ সহযোগী গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধ পাঁচ জনকে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। তারা হলেন মো. বাদল, মো. রাসেল, জুয়েল, রিজু ও সোহেল চৌধুরী। তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি সাব্বির ও সুমন কাঁধ ব্যাগ থেকে ককটেল ও অন্য আসামিরা গুলি ছুড়ে পানুয়া খানকা দরবার শরিফ দিয়ে উত্তর দিকে চলে যায়। 

সোমবার বিকালে নগরীর পাথরিয়াপাড়ায় গুলিতে নিহত হন কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহা। কাউন্সিলর সোহেলকে নয়টি গুলি করা হয়। দুটি গুলি সোহেলের মাথায়, দুটি বুকে, অন্য পাঁচটি পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগে।

কাউন্সিলর সোহেল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও ওই ওয়ার্ড 
আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। নিহত হরিপদ সাহা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পেটে দুটি গুলি লেগেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরও পাঁচ জন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ বলেন, একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। 

র‍্যাব-১১ কুমিল্লা সিপিসি-২ এর অধিনায়ক মেজর সাবিক হোসেন বলেন, বুধবার সকালে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে চিকিৎসাধীন সুমনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। পরে তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

/এএম/
সম্পর্কিত
নাটোরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহতের অভিযোগ
নাটোরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহতের অভিযোগ
সিনহা হত্যার রায়ে ‘বন্ধ হবে ক্রসফায়ার’, আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চায় পরিবার
সিনহা হত্যার রায়ে ‘বন্ধ হবে ক্রসফায়ার’, আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চায় পরিবার
‘ডিগ্রিধারী বড় ডাক্তার’ পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছিল তারা
‘ডিগ্রিধারী বড় ডাক্তার’ পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছিল তারা
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
নাটোরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহতের অভিযোগ
নাটোরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহতের অভিযোগ
সিনহা হত্যার রায়ে ‘বন্ধ হবে ক্রসফায়ার’, আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চায় পরিবার
সিনহা হত্যার রায়ে ‘বন্ধ হবে ক্রসফায়ার’, আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চায় পরিবার
‘ডিগ্রিধারী বড় ডাক্তার’ পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছিল তারা
‘ডিগ্রিধারী বড় ডাক্তার’ পরিচয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছিল তারা
আবাসিক হোটেলের দরজা ভেঙে যুবকের লাশ উদ্ধার
আবাসিক হোটেলের দরজা ভেঙে যুবকের লাশ উদ্ধার
© 2022 Bangla Tribune