X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২২ আষাঢ় ১৪২৯

‘‌মেজর সিনহা হত্যায় ৫ লাখ টাকার মিশন ছিল প্রদীপের’

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২২, ১২:১০

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে ‘ডাকাত’ বলে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার জন্য পাঁচ লাখ টাকার মিশন ছিল টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের। এরই অংশ হিসেবে মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত’ বলে ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। সেখানে হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে শামলাপুর বাজারের কাছে পুলিশ চেকপোস্টে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকতের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। মামলার রায়ের আগের দিন রবিবার (৩০ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম।

ফরিদুল আলম বলেন, ‘২০২০ সালের ৩১ জুলাই মেজর সিনহা তার সহযোগী সিফাতকে নিয়ে টেকনাফের বাহারছড়ার নারিচবনিয়া মুইন্না পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়েছিলেন। তখন প্রদীপ ও লিয়াকত ‘ডাকাত’ বলে গণপিটুনি দিয়ে সিনহাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ওই এলাকার মাথাভাঙ্গা মসজিদের ইমাম হাফেজ জহিরুল ইসলাম বিষয়টি দেখে ফেলায় হত্যাচেষ্টার মিশন ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশের সোর্স বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন মসজিদের ইমামকে ওসি প্রদীপের কথা বলে পাঁচ লাখ টাকার অফার দেন। কিন্তু ইমাম জহিরুল এতে রাজি হননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওসি প্রদীপ পরিকল্পিতভাবে মেজর সিনহাকে হত্যা করেছে। হত্যার পরিকল্পনার কথা প্রদীপ ও লিয়াকতের পৃথক জিডিতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এটি আমরা আদালতে সন্দেহতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। আমরা আদালতকে বলেছি আইনের পোশাক পরে আরও কেউ যাতে বেআইনি কাজ কাজ করার সাহস না পায়; সেজন্য অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা আশা করি, আদালত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন।’

ফরিদুল আলমের ভাষ্যমতে, ‘ওসি প্রদীপ টেকনাফে চাঁদাবাজি, ক্রসফায়ার ও গুমসহ ধারাবাহিকভাবে নানা অপরাধ করে আসছিল। সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান ‘জাস্ট গো’ নামে ডকুমেন্টারি বানানোর সময় ভুক্তভোগীরা ওসি প্রদীপের অপরাধের বিষয়ে মেজরকে প্রতিবেদন করতে অনুরোধ করেন। তখন মেজর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেন। সেই সঙ্গে প্রদীপের বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করেন। বিষয়টি ওসি প্রদীপ জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনার নীলনকশা তৈরি করে ওসি প্রদীপ।’

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব। 

২০২০ সালের ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ মামলার আসামি সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় তিন বাসিন্দা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও ওসি প্রদীপের দেহরক্ষীসহ আরও সাত জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই আইনের আওতায় আসে। পাশাপাশি সিনহা নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে অতিরিক্ত ডিআইজি এবং লে. কর্নেল মর্যাদার একজন সেনা কর্মকর্তাকে সদস্য করে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। পরে ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।

২০২১ সালের ২৭ জুন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দফায় ৮৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে দুই জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় চার জনের। তৃতীয় দফায় ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে জেরা সম্পন্ন হয় আট জনের। চতুর্থ দফায় ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয় ছয় জনের। পঞ্চম দফায় ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠ দফায় ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় ২৪ জনের। 

সপ্তম দফায় ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ছয় জন সাক্ষ্য দেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনের জেরা সম্পন্ন হলেও তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অসম্পন্ন ছিল। সর্বশেষ অষ্টম দফায় ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এরপর ৬ ও ৭ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। সর্বশেষে ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে আদালত ৩১ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

/এএম/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
নববধূ সেজে ইয়াবা কিনতে ঢাকা থেকে টেকনাফে
নববধূ সেজে ইয়াবা কিনতে ঢাকা থেকে টেকনাফে
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার পাশে দুর্ঘটনায় এমপির এপিএসসহ আহত ৩
পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার পাশে দুর্ঘটনায় এমপির এপিএসসহ আহত ৩
বাড়ির গ্যারেজে লুকানো ছিল ২৭ কোটি টাকা মূল্যের রোলস রয়েস
বাড়ির গ্যারেজে লুকানো ছিল ২৭ কোটি টাকা মূল্যের রোলস রয়েস
এ বিভাগের সর্বশেষ
নববধূ সেজে ইয়াবা কিনতে ঢাকা থেকে টেকনাফে
নববধূ সেজে ইয়াবা কিনতে ঢাকা থেকে টেকনাফে
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
ফেল নয়, বাছাই করে শিক্ষার্থী নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো: শিক্ষামন্ত্রী
হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড থেকেই সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ড-বিস্ফোরণ
হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড থেকেই সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ড-বিস্ফোরণ
টেকনাফে ৫ দিনে ৪৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
টেকনাফে ৫ দিনে ৪৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত
সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের জন্য মালিকপক্ষ দায়ী
সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের জন্য মালিকপক্ষ দায়ী