পাহাড়ে ব্যক্তিমালিকানায় চা-বাগান, চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হচ্ছে কর্মসংস্থান

জসিম উদ্দিন মজুমদার, খাগড়াছড়ি
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৮আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:৪৩

খাগড়াছড়ির সীমান্ত এলাকা দক্ষিণ আচালং। আর্থিক সংকট, কর্মসংস্থান সংকট, যোগাযোগ দুর্গমতা ও স্থানীয় চাহিদার কথা চিন্তা করে চা চাষের পরিকল্পনা করেন আলী হোসেন নামে এক কৃষক। তার চিন্তাকে সফল করতে ২০১৬ সালে একটি পাহাড়ে শুরু করেন চা চাষ। পর্যায়ক্রমে এখন চার পাহাড়ে বিস্তার করেছে তার চা-বাগান। স্বপ্নজয়ের পথেই এখন আলী হোসেন।

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দক্ষিণ আচালং। জেলা শহর হতে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এটির অবস্থান। এই গ্রামের মৃত আলী আক্কাসের ছেলে আলী হোসেন সীমান্তবর্তী এলাকায় ৪ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ব্যক্তিমালিকানাধীন চা-বাগান। তার পুরো ৩০ বিঘা জমিতে ক্রমান্বয়ে চা-বাগান করার স্বপ্ন আছে।

স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও চায়ের চাহিদা পূরণ করছে এই চা-বাগান। সকল খরচ মিটিয়ে মাসে গড়ে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি চায়ের চাহিদা মেটাচ্ছে এই বাগান।

দক্ষিণ আচালং গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু তাহের জানান, অনেক পরিশ্রম করে এই চা-বাগান গড়ে তোলেন আলী হোসেন। তার এই চা-বাগানে কাজ করেন অনেক নারী-পুরুষ। বলা যায়, এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে তার এই চা-বাগানের মাধ্যমে।

খরচ বাদে প্রতিমাসে আয় ৩০-৪০ হাজার টাকা

লাকি আক্তার নামের আরেক স্থানীয় বলেন, এই চা-বাগানের পাতাই আশপাশের সকল দোকান এবং ঘরে পাওয়া যাবে। স্থানীয়দের চায়ের চাহিদা মেটাচ্ছে এই বাগান।

নুরুন্নবী বিপ্লব নামের আরেকজন জানান, তিনি সপরিবারে খাগড়াছড়ি থেকে এই সীমান্তবর্তী চা-বাগান দেখতে এসেছেন। খুব ভালো লেগেছে। তিনি ভ্রমণপিপাসুদের এই বাগান দেখার আমন্ত্রণ জানান।

চা-চাষি আলী হোসেন বলেন, ‘যেহেতু এই এলাকায় পাহাড়ি জমিই বেশি তাই চা-বাগান করেছি। অন্য ফসলের মতো চা-বাগান নষ্ট হয় না। এটি লাভজনক ফসল। চা-গাছে প্রথম ৪-৫ বছর পানি সেচসহ ভালো যত্ন নিতে হয়। এ গাছ কমপক্ষে ১০০ বছর বাঁচে। আর বাণিজ্যিকভাবে চা পাওয়া যায় ৭০-৮০ বছর।’

জেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘খাগড়াছড়ির পাহাড় চা চাষের উপযোগী। আবহাওয়াও ভালো। এটি কাজে লাগিয়ে আলী হোসেন যেভাবে চা-বাগান গড়ে তুলেছেন—ঠিক একইভাবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আরও বড় পরিসরে গড়ে উঠতে পারে। তাহলে চা উৎপাদন, চাহিদাপূরণ ও রফতানির মাধ্যমে ভালো আয় হতে পারে।’

/কেএইচটি/
সম্পর্কিত
‘ঋণ পরিশোধ করমু নাকি সংসার চালামু, এই চিন্তায় ঘুম আয় না’
শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হলেও বাড়েনি ধানের দাম, কৃষকের ক্ষতি দেখবে কে
৪২ কেজিতে মণ, আরও ১০ টাকা খাজনা, কৃষকের লোকসান কেউ দেখে না
সর্বশেষ খবর
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী