সিএনজিতে তুলেই গলা চেপে ধরলো পুলিশ, আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত: ক্রিকেটার নাঈম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
১৩ জুন ২০২৬, ১৯:১৮আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১৯:১৮

‘পুলিশ রাতে যখন সিএনজি অটোরিকশায় তুলে ফেলে, তখন খুব ভয় পেয়েছিলাম। তখন সেখানে জড়ো হওয়া ১০০ থেকে ১২০ জনের মতো সমর্থক ভাইয়েরা না থাকলে ঘটনাটি অন্য রকম হতো। বিশেষ করে তাদের ধন্যবাদ দিতে চাই। পুলিশ যখন আমাকে খুলশী থানায় নিয়ে যায়, তখন তাদের অনুরোধ করি। সমর্থক ভাইয়েরা লালখান বাজার থেকে খুলশী থানায়ও আসেন আমার সঙ্গে। তাই অন্য কিছু ট্রাই করতে পারেনি।’

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। নগরের বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকার নিজ বাসায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে নাঈম বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য মামলা করেছি। অন্তত ১০ জন মানুষের উপকার হবে। আমি সাদাসিধে জীবনযাপন করি। ঘটনার দিন পুলিশ সিএনজিতে আমার জিনিসপত্র তল্লাশি করেনি। তারা চাইলে করতে দিতাম। সিএনজিতে যখন তোলা হয়, আমি জানতাম না আমার গলা চেপে ধরবে। যখন আমার গলা চেপে ধরলো, তখন ভয় পেয়ে গেছি। পরে থানায় আমার সঙ্গে থাকা পিন পর্যন্ত তাদের দেখিয়েছি। কিন্তু ওসি কোনও কথা বলতে দিলেন না।’

নাঈম বলেন, ‘বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভাই ফোন দেওয়ায় কাজ হয়েছে। তিনি যখন ওসির সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন আমি কথা বলতে চাইলে ওসি আমাকে আঙুল দেখিয়ে চুপ থাকতে বলেন।’ নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত উল্লেখ করে সাংবাদিকদের নাঈম বলেন, ‘আমি একটু একা থাকতে চাইছি।’

ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে বাসায় ফেরার পথে গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নাঈমকে মারধর ও হেনস্তা করে পুলিশ। পরে তাকে থানায় নিয়ে গিয়েও হেনস্তা করা হয়।

নাঈম হাসান শুক্রবার রাতে থানায় সাংবাদিকদের জানান, রাতের ফ্লাইটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে অটোরিকশায় বাসার উদ্দেশে রওনা হন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার সময় লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেয়। এরপর চালকের কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে নেয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নাঈম হাসানকে লাঠি ও পাইপ দিয়ে মারধর করেন খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের সোর্স সোহেল। একপর্যায়ে একটি অটোরিকশায় করে নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাকে হেনস্তা করা হয়েছে। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে থানা থেকে ছাড়া পান নাঈম।

মারধরের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এর আগে শুক্রবার রাতেই তাদের খুলশী থানা থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। শনিবার দুপুরে নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
অজিদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে দুই কোটি টাকা বোনাস পাচ্ছেন মিরাজরা 
ওসি বললেন চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল, একটা কল আসার পর, ‘ভাইয়া বসেন’
তেজগাঁও এলাকায় অভিযানে গ্রেফতার ৬১
সর্বশেষ খবর
২০২৮ সাল থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সাংস্কৃতিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা
২০২৮ সাল থেকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে সাংস্কৃতিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা
ভোরে ব্রাজিল-মরক্কো লড়াই, দেখবেন কোথায়?
ভোরে ব্রাজিল-মরক্কো লড়াই, দেখবেন কোথায়?
সময় ফুরিয়ে আসছে, গণভোটের রায় না মানলে ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতি হবে: জামায়াত আমির
সময় ফুরিয়ে আসছে, গণভোটের রায় না মানলে ১৯৯৬ সালের পরিস্থিতি হবে: জামায়াত আমির
আসছে চরকি অ্যাওয়ার্ডস, বিশেষ সম্মাননায় কারিনা কায়সার
আসছে চরকি অ্যাওয়ার্ডস, বিশেষ সম্মাননায় কারিনা কায়সার
সর্বাধিক পঠিত
দিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি শীর্ষ বৈঠক ‘ব্যর্থ’ হলো যে কারণে
দিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি শীর্ষ বৈঠক ‘ব্যর্থ’ হলো যে কারণে
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের সুরাহা চান জামায়াত আমির 
ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের সুরাহা চান জামায়াত আমির 
আইনজীবী তালিকাভুক্তির এমসিকিউতে পাস করলেন জাইমা রহমান, মোট উত্তীর্ণ ৯২০১
আইনজীবী তালিকাভুক্তির এমসিকিউতে পাস করলেন জাইমা রহমান, মোট উত্তীর্ণ ৯২০১
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সড়কের ইট তুলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে সড়কের ইট তুলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী
মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইটের আঘাত: নেপথ্যে কী
মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইটের আঘাত: নেপথ্যে কী