X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

পাঙাশ চাষে এক গ্রামের দুই শতাধিক চাষির ভাগ্যবদল

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১৪:০২

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের আটিয়া গ্রামে যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই পাঙাশ মাছের পুকুর। গ্রামটির ঘরে-ঘরে এখন পাঙাশ চাষি। এ মাছ চাষে গ্রামটির দুই শতাধিক চাষি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

জানা গেছে, আটিয়া গ্রামে ১৯৯৪ সালে আসাদুজ্জামান আসাদ নামের এক ব্যক্তি প্রথম পাঙাশ মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। আসাদের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে গ্রামটির ঘরে-ঘরে তৈরি হয়েছে পাঙাশ চাষি। এই গ্রামে বর্তমানে দেড় শতাধিক পুকুরে পাঙাশ চাষ হচ্ছে। পোনা মজুত, চাষ, মাছ ধরা, এমনকি বাজারে বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাঙাশ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এক হাজার পাঙাশ চাষ করে বছরে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন চাষিরা। এসব চাষিরা বদলে দিয়েছেন গ্রামের অর্থনৈতিক চাকা। মাছের বর্তমান পাইকারি বিক্রয় মূল্য প্রতি মণ চার থেকে চার হাজার ২০০ টাকা।

তবে চাষিদের অভিযোগ, খাবারের দাম দফায়-দফায় বেড়ে দ্বিগুণ হলেও মাছের পাইকারি দাম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকার মধ্যেই থাকছে। সম্প্রতি চাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। খাবারের দাম না কমলে অনেকেই পাঙাশ চাষ ছেড়ে দেবেন।

এদিকে, স্বামী মারা যাওয়ার পর বিধবা ঝর্ণাও শুরু করেন পাঙাশ চাষ। বেঁচে থাকা অবস্থায় স্বামীর কাছ থেকে পাঙাশের চাষ রপ্ত করেছিলেন তিনি। মাছ চাষ করেই দুই মেয়ের বিয়ের খরচ জুগিয়েছেন তিনি। বাকি দুজনের ভরণ-পোষণের জন্য মাছ চাষ ছাড়েননি এখনও। ঝর্ণার মতো গ্রামের অনেকেই পাঙাশ চাষে ঝুঁকছেন। ফলে এ গ্রামে বেকারত্ব নেই বললেই চলে। প্রায় সবাই এখন স্বাবলম্বী। এ জন্য গ্রামটি এখন পাঙাশের গ্রাম হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।

গ্রামের প্রথম পাঙাশ চাষি আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গ্রামটিতে আমি প্রথমে একটি পুকুরে পাঙাশ চাষ শুরু করি। এখন আমার চারটি পুকুর রয়েছে। দুটিতে ৩০ হাজার পাঙাশ চাষ করছি। বাকি দুইটি পুকুরে পাঙাশের পোনা মজুত রেখেছি। গ্রামে এখন দেড় শতাধিক পুকুরে পাঙাশ চাষ হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে খাবারের দাম দ্বিগুণ। ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মূল্যের খাবারের বস্তা হয়েছে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা। মাছের দাম আগের মতোই রয়েছে। পাঙাশ চাষে দুবার সেরা চাষির পুরস্কার পেলেও বর্তমানে হতাশায় আছি। খাবারের দাম কমানোর দাবি জানাচ্ছি।’

বায়েজিদ হোসেন নামে আরেক চাষি বলেন, ‘আমি ১৯৯৯ সালে পাঙাশ চাষ শুরু করি। এখন আমার চারটি পুকুর রয়েছে। চারটি পুকুরে ১৫ থেকে ২০ হাজার পাঙাশ পালন করছি। এখন আমি বেশ স্বাবলম্বী হয়েছি।’

দেলদুয়ার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আটিয়া গ্রামে পাঙাশ চাষে বেশ সফলতা এসেছে। অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। আমরা মাছ চাষিদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।’

/এফআর/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
আদালতে হাজির ছিলেন কৃষক, পুলিশের প্রতিবেদনে অংশ নিয়েছেন সংঘর্ষে 
আদালতে হাজির ছিলেন কৃষক, পুলিশের প্রতিবেদনে অংশ নিয়েছেন সংঘর্ষে 
চট্টগ্রামের ৩ থানায় নতুন ওসি
চট্টগ্রামের ৩ থানায় নতুন ওসি
ম্যাথুজ নিজেও বোঝেননি তার ব্যাটে বল লেগেছে
ম্যাথুজ নিজেও বোঝেননি তার ব্যাটে বল লেগেছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বাবার নামে আসে বিদ্যুৎ বিল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাড়িতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর বাবার নামে আসে বিদ্যুৎ বিল
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
ডিআইজি হয়ে আইভীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন হারুন
ডিআইজি হয়ে আইভীর সঙ্গে দেখা করতে গেলেন হারুন
একদিনে আটার দাম বেড়েছে ১০ টাকা 
একদিনে আটার দাম বেড়েছে ১০ টাকা 
দুপুরে আ.লীগ থেকে পদত্যাগ করে সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী
দুপুরে আ.লীগ থেকে পদত্যাগ করে সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থী
ধান কাটা নিয়ে বাগবিতণ্ডা, কাস্তে দিয়ে কৃষককে হত্যা
ধান কাটা নিয়ে বাগবিতণ্ডা, কাস্তে দিয়ে কৃষককে হত্যা
কৃষ্ণচূড়ার রঙে সেজেছে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন
কৃষ্ণচূড়ার রঙে সেজেছে গোয়ালন্দ রেলস্টেশন