X
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪
৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ঈদে জামদানিপল্লিতে ১০০ কোটি টাকার শাড়ি বিক্রির আশা

আরিফ হোসাইন কনক, নারায়ণগঞ্জ
১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০১আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০১

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জামদানিপল্লিতে কারিগরদের ব্যস্ততার শেষ নেই। শেষ সময়ে এসে দিন-রাত চলছে জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কারিগররা তৈরি করছেন বাহারি নকশার জামদানি। ইতোমধ্যে জমেছে বেচাকেনা। ফলে তাঁতমালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই খুশি। এবারের ঈদ ও বাংলা নববর্ষ উৎসবে শত কোটি টাকার শাড়ি বিক্রির আশা তাদের।

জামদানিপল্লির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিহি জমিনে সূক্ষ্ম নকশার কারণে জামদানির চাহিদা বিশ্বব্যাপী। চাহিদাকে মাথায় রেখে ঈদে বাড়তি আকর্ষণের জন্য কারিগররা শাড়ির নকশায় এনেছেন নতুনত্ব। কারণ ঈদ ও বাংলা নববর্ষ উৎসবে নানা ডিজাইনের শাড়ি পছন্দ করেন নারীরা। ফলে কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়েছে। এবারের ঈদে অর্ধকোটি টাকার বেশি শাড়ি বেচাকেনা হয়েছে, সামনে বিক্রি আরও বাড়বে।

চাহিদাকে মাথায় রেখে ঈদে বাড়তি আকর্ষণের জন্য কারিগররা শাড়ির নকশায় এনেছেন নতুনত্ব

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল)। এর দুদিন পরই ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ। দুই উৎসব ঘিরে বেশি পরিমাণ শাড়ি বিক্রির প্রত্যাশা তাদের। ইতোমধ্যে ঈদে প্রত্যাশা অনুযায়ী শাড়ি বিক্রি করতে পেরেছেন তারা। নববর্ষ ঘিরে বিক্রি আরও বাড়বে বলে জানালেন তারা।

রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রাম জামদানির উৎপত্তিস্থল হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে জামদানিপল্লি। ঈদ ঘিরে নতুন কাপড় বুনে যাচ্ছেন পল্লির বাসিন্দারা। পার্শ্ববর্তী কাজীপাড়া, দক্ষিণ রূপসী, বরাব, খালপাড়, পবনকূল, মোগরাকূল, সাদিপুর, বেহাকুর, মৈকুলী, নাওরা ভিটা, খাদুন, রূপসী, গন্ধর্বপুর, মুড়াপাড়া, ব্রাহ্মণগাঁও, গঙ্গানগর, হাটাবসহ আশপাশের গ্রামগুলোতেও চলছে তাঁতিদের কর্মব্যস্ততা।

ঈদ ও বাংলা নববর্ষ উৎসবে নানা ডিজাইনের শাড়ি পছন্দ করেন নারীরা

বিসিক জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, জামদানিপল্লিতে ৪০৭ প্লট রয়েছে। প্রতি প্লটে অন্তত চারটি করে তাঁত রয়েছে। ৩২০০-৩৫০০ তাঁতশিল্পী কাজ করছেন। তারা জামদানি শাড়ির পাশাপাশি পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস ও টু-পিস তৈরি করছেন। উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে এগুলোর চাহিদা বেশি। ঈদে বাড়তি আকর্ষণের জন্য কারিগররা নকশায় এনেছেন নতুনত্ব। তৈরি হচ্ছে চোখজুড়ানো ফুল তেরছি, ছিটার তেরছি, ছিটার জাল, সুই জাল, হাঁটু ভাঙা তেরছি, ডালিম তেরছি, পার্টির জাল, পান তেরছি, গোলাপ, জুঁই, শাপলা, মদন পাইরসহ শতাধিক নকশার জামদানি। এগুলোর মধ্যে ছিটার জাল, সুই জাল জামদানির দাম সবচেয়ে বেশি। এসব জামদানির দাম পড়ে ৩০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। এবার ঈদে দেশের বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে জামদানি রফতানি হয়েছে। নোয়াপাড়া প্রজেক্টের ভেতরে এবং ডেমরা বাজারের সাপ্তাহিক দুটি হাটেও ক্রেতাদের ভিড় হচ্ছে। এসব হাটে আরও ১৫-২০ কোটি টাকার শাড়ি বিক্রি হবে। 

শেষ সময়ে এসে দিন-রাত চলছে জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ

কারিগর ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতিটি জামদানি শাড়ি দুই হাজার থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। নজরকাড়া ডিজাইন ও সুতার ওপর ভিত্তি করে দাম কম-বেশি হয়ে থাকে। যে কাপড়ের সুতার কাউন্ট যত বেশি, তার দাম তত বেশি। সুতার এই কাউন্টের ওপর শাড়ি বুনার সময় নির্ভর করে। বিভিন্ন ধরনের জামদানি শাড়ির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ময়ূরপ্যাঁচপাড়, বাঘনলি, কলমিলতা, চন্দপাড়, ঝুমকান্ড, তেরছি, জলপাড়, পান্নাহাজার, করোলা, দুবলা জাল, সাবুরগা, বলিহার, শাপলা ফুল ও আঙ্গুরলতা ইত্যাদি।

চিকন সুতা দিয়ে জামদানি শাড়ি বুনছেন পল্লির কারিগর সুমন মিয়া। তিনি বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের দুদিন পরই বাংলা নববর্ষ। দুটি উৎসব ঘিরে আমাদের ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। এখন কথা বলার সময় নেই।’

পল্লির আরেক কারিগর নাঈম হোসেন বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও আমাদের মজুরি বাড়েনি। ফলে কম মজুরিতেই কাজ করি। দায়িত্বশীলরা যদি জামদানি শিল্পের কারিগরদের দিকে বিশেষ নজর দেন, তাহলে আমাদের কষ্টে দিন কাটাতে হয় না। আমরা এই শিল্পকে আকঁড়ে ধরে জীবনযাপন করছি।’

তামিম জামদানি উইভিং কারখানার মালিক আল আমিন বলেন, ‘দুই উৎসবে ৫০ লাখ টাকার জামদানি শাড়ি বিক্রির আশা করছি। এবার ঈদে দেশের বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে জামদানি শাড়ি রফতানি হয়েছে। বিশেষ করে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় বেশি রফতানি হচ্ছে। আমার প্রতিষ্ঠানে পাঁচ হাজার থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দামের শাড়ি আছে। এছাড়া জামদানি পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, টু-পিস ও ওড়না এবার ঈদ কালেকশনে রয়েছে। তবে গত ঈদের তুলনায় এবার বিক্রি কিছুটা কম। আশা করছি, আগামী কয়েকদিনে বাড়বে।’

ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কারিগররা তৈরি করছেন বাহারি নকশার জামদানি

রাজধানীর বাড্ডা থেকে জামদানিপল্লিতে শাড়ি কিনতে এসেছেন নয়ন মিয়া। তিনি বলেন, ‘ভালো মানের শাড়ি কিনতে এখানে এসেছি। মেয়ের জন্য একটি কিনেছি। তবে দাম আগের তুলনায় একটু বেশি। স্ত্রীর জন্য আরও একটা শাড়ি কিনবো। সেজন্য কারখানার দোকানগুলো ঘুরে দেখছি। পছন্দ হলেও দাম বেশি।’ 

একই পল্লিতে শাড়ি কিনতে এসেছেন রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষিকা আফসানা বেগম। পল্লির দোকানগুলো ঘুরে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদ উৎসবে এই পল্লি থেকে শাড়ি কিনি। এবার আমার ও স্বজনদের জন্য শাড়ি কিনতে এসেছি। নকশায় নতুনত্ব আছে। দুটি শাড়ি কিনেছি, আরও দুটি কিনবো।’

রূপগঞ্জের বিসিক জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জামদানিপল্লিতে এবারের ঈদ ও বাংলা নববর্ষ উৎসবে শত কোটি টাকার শাড়ি বিক্রির আশা করছি আমরা। ইতোমধ্যে ঈদে প্রত্যাশা অনুযায়ী, শাড়ি বিক্রি হয়েছে, নববর্ষ উৎসবে আরও বিক্রি হবে।’

/এএম/
সম্পর্কিত
ফিতরা-জাকাতের নামেও প্রতারণা
এমপিপুত্র প্রার্থী হওয়ায় ‘আগুন জ্বলছে’ সেলিম প্রধানের গায়ে
ঈদের ছুটি শেষে ভারত থেকে ফিরছেন যাত্রীরা, ইমিগ্রেশনে ভোগান্তি
সর্বশেষ খবর
ভারতীয় পেঁয়াজে রফতানি মূল্য নির্ধারণ, বিপাকে আমদানিকারকরা
ভারতীয় পেঁয়াজে রফতানি মূল্য নির্ধারণ, বিপাকে আমদানিকারকরা
টিভিতে আজকের খেলা (১৯ মে, ২০২৪)
টিভিতে আজকের খেলা (১৯ মে, ২০২৪)
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রামে লরি চাপায় মৃত্যু বেড়ে তিন
চট্টগ্রামে লরি চাপায় মৃত্যু বেড়ে তিন
সর্বাধিক পঠিত
মামুনুল হক ডিবিতে
মামুনুল হক ডিবিতে
৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের
৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি তৃতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের
আমেরিকা যাচ্ছেন ৩০ ব্যাংকের এমডি
আমেরিকা যাচ্ছেন ৩০ ব্যাংকের এমডি
মোবাইল আনতে ডিবি কার্যালয়ে মামুনুল হক
মোবাইল আনতে ডিবি কার্যালয়ে মামুনুল হক
গরমে সুস্থ থাকতে কোন কোন পানীয় খাবেন? ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় কখন জরুরি?
গরমে সুস্থ থাকতে কোন কোন পানীয় খাবেন? ইলেক্ট্রোলাইট পানীয় কখন জরুরি?