‘ভাষা আন্দোলনে জয়ী না হলে বাঙালির অস্তিত্ব বিপন্ন হতো’

যশোর প্রতিনিধি
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২:৫৭আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২:৫৭

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের লড়াইয়ে যদি আমরা জয়ী না হতাম, তাহলে বাঙালির অস্তিত্ব বিপন্ন হতো। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ মাড়িয়ে ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের যে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, সেটিও সম্ভব হতো না। কেননা বাঙালি সবসময়ই রাজনীতিবিমুখ। পাকিস্তানি শাসক দ্বারা নিষ্পেষণ, নির্যাতন ও অত্যাচারসহ নানা কারণে এমন একটা অবস্থায় ছিল যে, তাদের আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর যোগ্যতা হলো তিনি এই বাঙালিকে গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে তাদের আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। আমাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে পেরেছিলেন; এই বাঙালিকে রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলেন। সে কারণে ১৯৫২ সাল থেকে ধাপে ধাপে আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন। তাঁর কারণেই আজ বাঙালি সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে মান-মর্যাদা নিয়ে নিজেদের প্রকাশ করতে পারছে।’

আলোচনা সভায় বক্তব্য রেখেছেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য

মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে যশোরের মুন্সি মেহেরুল্লাহ ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ও বর্তমান বাস্তবতা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে যশোর জেলা প্রশাসন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘আমাদের জাতিসত্তা আবর্তিত হয়েছে ভাষাকেন্দ্রিক।ফরাসি, জার্মানি থেকে শুরু করে একের পর এক বিভিন্ন রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছে ভাষাভিত্তিক। সেখানে আমরা দেখতে পাই, উপমহাদেশে ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরি হয়েছিল।’

আমাদের উন্মেষ বা জাতির ভিত্তি হয় বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে জানিয়ে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ৫৮ সালের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯-র গণ-অভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে নিরঙ্কুশ জয়লাভ; সবমিলিয়ে ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।’

আলোচনা সভায় বক্তব্য রেখেছেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ

২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বর্তমান সরকারের শাসনামলের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে তিন বছর আগে কোভিড মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। মানুষের জীবন-জীবিকা অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হয়েছে। সারা বিশ্ব যখন টালমাটাল অবস্থায়, ঠিক সেই মুহূর্তে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা অগ্রগামী আছি। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান যখন অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর অবস্থায়, সেই সময় জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে অনেক নিরাপদ রেখেছেন।’

বিএনপি-জামায়াতের মিষ্টি কথায় পথ না ভোলার আহ্বান জানিয়ে এমপি কাজী নাবিল বলেন, ‘২০০১-২০০৬ পর্যন্ত তাদের শাসনকাল আমরা যেন ভুলে না যাই। তাদের সময় সারাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল, সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা, বাংলা ভাইয়ের উদ্ভব হয়েছিল, ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে বোমা মেরে হত্যা, আহসানউল্লাহ মাস্টারকে হত্যা, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, তাদের সম্পদ লুটপাটের কথা আমরা যেন ভুলে না যাই।’

তিনি বলেন, ‘তারা যদি কোনও কায়দায় অঘটন ঘটিয়ে ফেলে, তবে তাদের স্বরূপ ফের উন্মোচিত হবে। সে কারণে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তাই নৌকা মার্কার সব প্রার্থীকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ

জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন মনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

আলোচনা শুরুর আগে বিকালে স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গান, কবিতা, নাচ ও নাটিকা মঞ্চায়ন হয়। এরপর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

/এএম/   
সম্পর্কিত
বইমেলায় গত বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে ৮০ শতাংশ: প্রকাশক ঐক্য 
শেষ শুক্রবারে প্রাণবন্ত বইমেলা: সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ভোগান্তি 
বিদায়ের সুর বইমেলায়: শেষ সময়ে বেচাকেনা বাড়ার আশা
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী