যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলের পাশে ‘এ এফ মৎস্য খামারে’ প্রচুর মাছের মৃত্যুর ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অমিল পেয়েছে তদন্ত কমিটি। লোডশেডিংয়ের কারণে মাছের মৃত্যু হয়েছে বলে খামার মালিক যে দাবি করেছিলেন, জেলা প্রশাসনের তদন্তে তার কোনও তথ্যগত সমর্থন পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানায় জেলা প্রশাসন। এতে বলা হয়, ঘটনার সঠিক তথ্য অনুসন্ধানে যশোর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তদন্তে বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড যাচাই, ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট রাত ১:৪২ থেকে ২:২৬ পর্যন্ত মাত্র ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে ও পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। অথচ খামারে লোডশেডিংয়ের আগেই মাছ মারা যেতে থাকে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মাছের মৃত্যুর পেছনে মূল কারণসমূহ হলো: অত্যাধিক মাছের মজুতে ঘনত্ব এবং অতিরিক্ত উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ। জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ এবং ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্য। পানির pH, অ্যামোনিয়া ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায় তীব্র অসামঞ্জস্য। সেইসঙ্গে চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত এয়ারেশন ব্যবস্থা থাকা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিসহ সামগ্রিক কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি থাকায় মাছের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, খামার মালিকপক্ষ বিশাল বিনিয়োগ ও ক্ষতির কথা দাবি করলেও জরুরি সময়ে পর্যাপ্ত এয়ারেশন সচল রাখার মতো বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে তাদের অনাগ্রহ ও উদাসীনতা দেখা গেছে। সার্বিক তথ্যাদিতে এটি স্পষ্ট যে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নয় বরং অতিরিক্ত মাছের ঘনত্বের বিপরীতে অপর্যাপ্ত কারিগরি সক্ষমতা ও খামারের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনাই এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ।
জনস্বার্থে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে তথ্যের সঠিক যাচাই-বাছাই ও ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যতীত কোনও ধরনের বিভ্রান্তিকর বা অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রচার না করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে।
এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলে এ এফ মৎস্য খামারে মাছের মৃত্যু শুরু হয়। শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে ঘেরের পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।
তখন ঘের মালিকরা বলেছিলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে প্যাডেল হুইল অ্যারেটর মেশিন বা অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র চালানো সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া যোগ হওয়ায় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যায়।
সোনামুখো বিলের ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরটির মালিক এ এফ মৎস্য খামার। আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। ঘের মালিক গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, এতে প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।









