ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন

‘জীবনে অনেককে ভোট দিলাম, কেউ বস্তিবাসীর দিকে তাকায়নি’

আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০১আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০১

‘স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। কোনও ছেলেও নেই আমার। নিজের জায়গাজমি না থাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের বস্তির একটি ঘরে তিন মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ ১২ জন মিলে থাকছি। এই ঘরের টিনের চাল ছিদ্র। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি পড়ে। গাদাগাদি করে থাকতে হয়। নিরাপদ পানির কোনও ব্যবস্থা নেই এখানে। খুব কষ্টে বস্তিতে আছি আমরা। আগামী সিটি নির্বাচনে যিনি মেয়র হবেন তার কাছে আমাদের দাবি, যেন আধুনিক আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। সেইসঙ্গে বস্তিবাসীর জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়।’ 

এই দাবিগুলো ময়মনসিংহ নগরীর জুবলি ঘাট-সংলগ্ন বস্তিতে বসবাস করা লাল বানু বেওয়ার (৭০)। তিনি বলেন, ‘এক জীবনে অনেক প্রার্থীকে ভোট দিলাম। কত মেয়র, এমপি ও জনপ্রতিনিধি এলো-গেলো। আফসোস এত বছরেও কেউ বস্তিবাসীর দিকে তাকালো না। আমাদের কোনও উন্নয়ন করলো না।’

একই আক্ষেপ বস্তির বাসিন্দা সেলিনা বেগমের (৩৫)। তিনি বলেন, ‘বস্তির ভাঙাচোরা ঘরে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করা খুবই কষ্টের। স্বামী দিনমজুরের কাজ করে যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার চলে। অর্থের অভাবে ভাঙা বাসা মেরামত করতে পারি না। অন্যত্র যেতেও পারি না। সামনে নির্বাচন। যিনি মেয়র হবেন, তার কাছে আমাদের দাবি; যেন বস্তিবাসীর আবাসন এবং পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচনে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। কিন্তু ভোট শেষ হয়ে গেলে কেউ আমাদের আর খোঁজ নেন না।’ 

নগরীর জুবলি ঘাট-সংলগ্ন বস্তিতে প্রার্থীদের প্রচার পোস্টার

স্থানীয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন পাঁচ জন। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩ ওয়ার্ডে ১৪৯ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৭০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের দিচ্ছেন নানা আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি। তবে বরাবরই নগরীর জুবলি ঘাট-সংলগ্ন বস্তির বাসিন্দাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। সরকার নানা ধরনের উন্নয়ন বাস্তবায়ন করলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিকল্পনার অভাবে পিছিয়ে পড়েছেন তারা। 

আগামী ৯ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচনে যিনি মেয়র ও যারা কাউন্সিলর হবেন তাদের কাছে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতের পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন বস্তির বাসিন্দারা।

একই বস্তির বাসিন্দা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘নানা সমস্যা নিয়ে এখানে আমাদের বসবাস করতে হয়। নেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। শৌচাগার সংকট। থাকার কোনও পরিবেশ নেই। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।’

এ ব্যাপারে মেয়র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, ‘গত পাঁচ বছর মেয়র থাকাকালে নগরীর বস্তির বাসিন্দাদের উন্নয়নমূলক কাজ করার চেষ্টা করেছি। তবে তাদের আরও কিছু উন্নয়নকাজ বাকি আছে। বিশেষ করে আবাসন সুবিধা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এবার নির্বাচিত হলে আবাসন সুবিধা ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি বস্তির বাসিন্দাদের জীবনমানের উন্নয়নে স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করবো।’

আরেক মেয়র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম বলেন, ‘বস্তির বাসিন্দারা বছরের পর বছর দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন। তাদের কষ্ট আমি বুঝতে পারছি। দিন দিন বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের জীবনমানের পরিবর্তন হয়নি। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে তাদের জন্য আধুনিক মানের ভবন নির্মাণ করে দেবো। সেইসঙ্গে তাদের সবগুলো সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবো।’

সরকার নানা ধরনের উন্নয়ন বাস্তবায়ন করলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিকল্পনার অভাবে পিছিয়ে পড়েছেন বস্তির বাসিন্দারা

আরেক মেয়র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা সাদেকুল হক খান টজু বলেন, ‘বস্তিবাসীর জীবনমানের আমূল পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকার গৃহহীনদের জন্য একটি করে বাড়ি নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছে। দেশের অনেক জায়গায় গুচ্ছগ্রামও গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক গৃহহীন ঘরও পেয়েছেন। যার মধ্যে বস্তিবাসীও রয়েছেন। তবে দুঃখের বিষয় এখানের বস্তির বাসিন্দারা তেমন কোনও সুযোগ-সুবিধা পাননি। আমি নির্বাচিত হলে তাদের উন্নয়ন করবো।’

নগরীর জুবলি ঘাট-সংলগ্ন বস্তিটি ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গেলো পাঁচ বছরে বস্তিবাসীকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি, একটি ছোট ঘরে গাদাগাদি করে অনেক সদস্য বসবাস করেন। তাদের রয়েছে নানা সমস্যা। আগামী নির্বাচিত হলে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।’

/এএম/
সম্পর্কিত
খসে পড়ছে পলেস্তারা, তার ভেতরে নাগরিক সেবা
মির্জাপুর থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত তীব্র যানজট, আটকা হাজারো যানবাহন
লোডশেডিংয়ে মরে যাচ্ছে মুরগি, কী করবেন খামারিরা
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী