মাস্তানি, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না: ওবায়দুল কাদের

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১৯:১১, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৩, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

চট্টগ্রাম উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতার উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দল ভারী করার জন্য খারাপ লোক টানবেন না। আমাদের বহু কর্মী আছে। খারাপ লোকের আমাদের দরকার নেই। বুয়েটে আবরারকে যারা হত্যা করে, সেই কর্মীর আমাদের দরকার নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা কথায় কথায় কলহ করে, মারামারি করে, সেই কর্মীর আমাদের দরকার নেই। যারা রাজশাহীতে অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে, এ ধরনের কর্মীও আমাদের দরকার নেই। মাস্তানি করে, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না। এসময় দলের কর্মীদের নেতা হওয়ার আগে কর্মী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। আক্ষেপ করে বলেন, ‘পোস্টার লাগানোর জন্য এখন কর্মী পাওয়া যায় না। পোস্টার লাগাতে হয় টোকাই দিয়ে। স্পষ্ট করে জানান, বিলবোর্ড, পোস্টারে ছবি ছাপিয়ে, মাস্তানি করে, টেন্ডারবাজি করে নেতা হওয়া যাবে না। দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিলেন, তাদেরই কর্মীরা নেতা বানাবেন।  


শনিবার (০৭ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি মাঠে আয়োজিত উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।  

বিএনপির ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নল মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমাদের ক্ষমতার উৎস এদেশের মাটি আর মানুষ। আওয়ামী লীগ এমন একটা পার্টি, এত অত্যাচার, এত নির্যাতন, এত রক্তপাত, এত অশ্রুপাত, তারপরও আওয়ামী লীগ টিকে আছে। আমরা মৃত্যুর মিছিলে দাঁড়িয়ে জীবনের জয়গান গাই। আমরাই আওয়ামী লীগ, আমরা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে সৃষ্টির পতাকা ওড়াই। ঝড়ের বিরুদ্ধে, দুর্যোগের বিরুদ্ধে, অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা এগিয়ে যাই। আমরাই আওয়ামী লীগ। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। শেখ হাসিনার কর্মী।’ 

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনই পারে ক্ষমতার পালাবদল করতে। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা চক্রান্ত করে, টেমস নদীর ওপার থেকে নাশকতার নির্দেশ নিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে আদালত প্রাঙ্গণকে রণাঙ্গন বানিয়ে ক্ষমতায় যাবেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন। আর ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখবেন। এ স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে রূপান্তিত হবে। কথায় কথায় পতন ঘণ্টা ঘনিয়ে এসেছে বলেন। কার পতন? পদত্যাগ আপনারাই করুন। দশ বছর ধরে ১০ মিনিটও একটা আন্দোলন করতে পারেননি। খালেদা জিয়া দুই বছর ধরে কারাগারে, দুই মিনিটও রাস্তায় দাঁড়াতে পারেননি। আপনারা করবেন গণঅভ্যুত্থান! আর আমরা ঘরে বসে বসে আঙুল চুষবো? এটা যদি ভাবেন, তো বড় বোকামি করছেন।’

বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ফখরুল সাহেব, আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে পারবেন না। আপনাদেরই ধ্বংস আপনারাই নিয়ে আসছেন। আওয়ামী লীগ আপনাদের ধ্বংস চায় না। গণতন্ত্রে আমরা শক্তিশালী বিরোধী দল চাই। তবে বিরোধিতার নামে নাশকতা করবেন, সেটা সহ্য করা হবে না। কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’

চট্টগ্রাম উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘স্লোগান দিয়ে নেতা বানানো যাবে না, বিলবোর্ডে সুন্দর সুন্দর ছবি দিয়ে নেতা হওয়া যায় না। চক চকে পোস্টারের ছবি কাউকে নেতা বানাতে পারে না। মাস্তানি করে নেতা হওয়ার সময় শেষ। নেতা হবে দলের নিয়মশৃঙ্খলার জন্য। নেতা হবেন তারা, যারা দলের দুঃসময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুঃসময়ে দলের সঙ্গে যারা ছিলেন, তারাই হবেন নেতা। গত কয়েকদিনে অনেক সম্মেলন করেছি। নেতা নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে। পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, খারাপ লোকদের আওয়ামী লীগে দল ভারী করার জন্য টানবেন না। আমাদের বহু কর্মী আছে। খারাপ লোকের আমাদের দরকার নেই।’

তিনি আরও বলেন, বুয়েটে আবরারকে যারা হত্যা করে, সেই কর্মীর আমাদের দরকার নেই। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা কথায় কথায় কলহ করে, মারামারি করে, সেই কর্মীর আমাদের দরকার নেই। যারা রাজশাহীতে অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলে, এ ধরনের কর্মীও আমাদের দরকার নেই। মাস্তানি করে, গডফাদারগিরি করে নেতা হওয়া যাবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পোস্টার লাগানোর জন্য এখন কর্মী পাওয়া যায় না। টোকাইদের দিয়ে পোস্টার লাগানো হয়। কর্মীরই ভাবসাব এমন যেন নেতা হয়ে গেছি। মুই কী হনুরে! কর্মী হতে নয়, সবাই নেতা হতে চায়।

এদের উদ্দেশে তার সবক, নেতা যদি হতে চাও কর্মী হতে হবে। কর্মীরাই নেতা হতে পারে। যারা ত্যাগ করবে, সৎ জীবন যাপন করবে। আমাদের নেত্রী বলেন, সিম্পল লিভিং, হাই থিংকিং। স্বপ্ন দেখবে বড়, কিন্তু জীবন ধারণ করবে সাদাসিধে। জীবনযাপনের জন্য কত টাকার দরকার যে চাঁদাবাজি করতে হবে? চাঁদাবাজরা আওয়ামী লীগের নেতা হতে পারে না। টেন্ডারবাজকে না বলুন। মাদক ব্যবসায়ীদের না বলুন, জমি দখলকারীদের না বলুন। সন্ত্রাসীদের না বলুন। ক্ষমতা চিরদিন থাকে না। ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না। ক্ষমতা আজ আছে কাল নেই। এই জনগণের মাঝে আমাদের থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলে করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম।

বিকালে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে সাংগঠনিক অধিবেশনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কমিটির সভাপতি হলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম। সাধারণ সম্পাদক হলেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান। 

/টিএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ