আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনীহা, আম্পানের প্রভাবে উত্তাল নদী (ভিডিও)

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:৩০, মে ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৫, মে ২০, ২০২০

 

উত্তাল নদীনানা ধরনের সমস্যার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি হচ্ছেন না উপকূলীয় এলাকার লোকজন। অনেক জায়গায় প্রশাসন তাদের বুঝিয়ে নিয়ে গেলেও কিছু সময় পর তারা বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। আম্পানের প্রভাবে এরইমধ্যে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেগুলো উত্তাল রয়েছে। এছাড়া ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি করা হলো।

বরিশাল

ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করলেও বরিশালের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মঙ্গলবার রাতে অবস্থানকারী বেশিরভাগ মানুষ তাদের বাড়ি ফিরে গেছেন। পায়রা ও মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে বাজানো হচ্ছে সাইরেন। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্রগুলোতে টানানো হয়েছে সাংকেতিক ৩ (তিন) পতাকা। তারপরও লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বা থাকতে রাজি নন। 

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আসা মানুষের অভিযোগ, অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে বিদ্যুৎ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। বেশিরভাগের বাথরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। রয়েছে খাদ্য সংকটও। সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন বিভাগীয় কমিশনার ইয়ামিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় মানবিক সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে। বাড়ি ফিরে যাওয়া লোকজনকে আবারও আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বেড়েছে নদীর পানি

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার নদীর পানি বেড়েছে। নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫-২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।   

আগে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করা হলেও বুধবার সকাল থেকে মাইকিংয়ের পাশাপাশি বিপদ সংকেত ‘সাইরেন’ বাজানো হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) প্রতিটি কেন্দ্রে ২ পতাকার স্থলে ৩ পতাকা টানিয়ে বিপদ সংকেতের বার্তা দেওয়া হচ্ছে জনগণকে।

 ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জানমাল রক্ষায় মঙ্গলবার রাতে বিভাগের প্রায় ৬ হাজার আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিলেও বুধবার সকালের দিকে আবহাওয়া মোটামুটি ভালো থাকায় তারা অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছেন। আশ্রয়কেন্দ্র ফেরত মানুষদের ফের আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন সিপিপি’র বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক আব্দুর রশীদ। সাইরেন বাজিয়ে ও পতাকা টানিয়ে মহাবিপদ সংকেত জনগণের মাঝে প্রচার করে তাদের সচেতন করছে সিপিপি কর্মীরা।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে বরগুনায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭০ বছর বয়সের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রবুধবার সকল ৯টা পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের প্রায় ৬ হাজার আশ্রয় কেন্দ্রে ১০ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। আরও কিছু মানুষকে তাদের গবাদি পশুসহ আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি বিভাগীয় কমিশনারের।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে,  সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি হলেও মাঝে মধ্যেই সূর্য উঁকি দিচ্ছে। 

ভোলা 

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ভোলা সংলগ্ন মেঘনা, তেঁতুলিয়া নদী উত্তাল রয়েছে। পানির উচ্চতা বেড়েছে কয়েক ফুট। অতিরিক্ত জোয়ারে জেলার নিম্নাঞ্চল কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পুরো জেলায় দমকা বাতাসসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জেলার ২১ চরের লোকজনকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তাছাড়া মূল ভূখণ্ডের মানুষও আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছে।  প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনকে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক আশ্রয়কেন্দ্রসমূহ পরিদর্শন করেছেন।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ভোলা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১০৪ চারটি সাইক্লোন সেল্টার খোলা রয়েছে। এছাড়া ৯২টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উঁচু স্থানে রাখা হয়েছে গবাদি পশু

উপকূলীয় এলাকায় সকর্তামূলক প্রচার চালাচ্ছেন সিপিপি সদস্যরা। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নৌ বাহিনী, নৌ পুলিশ, জেলা পুলিশ ও কোস্টগার্ড লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে সহায়তা করছে। একইসঙ্গে সাইক্লোন সেল্টারে আসা লোকজনকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বলা হচ্ছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ঘূর্ণিঝড়ে সবাইকে সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপদে আসতে সিপিপি ও রেডক্রিসেন্টের ১০ হাজার ২০০ স্বেচ্ছাসেবী কাজ করেছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা ছাড়াও নগদ টাকা, শুকনো খাবার ও শিশু খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এলাকা

পিরোজপুর

পিরোজপুরের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৬৫ হাজার ২২০ জন আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, বুধবার সকাল থেকে পিরোজপুরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মাঝের চরে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে।

ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাঝের চরের বেড়িবাঁধের দক্ষিণ পশ্চিম অংশের ১০০ ফুট ভেঙে পানি ঢুকেছে। এতে ৬০-৬৫ একর জমিতে থাকা মিষ্টি আলু, চালকুমড়া, মরিচ, মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক সবজি ভেসে গেছে। মাঝের চরে থাকা লোকজনের মধ্যে বেশিরভাগ লোক আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।

আম্পানের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছেমঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উর্মি ভৌমিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গেছেন। তিনি বলেন, এ চরে থাকা বৃদ্ধ ও শিশুদের সরিয়ে মঠবাড়িয়া প্রান্তে এনে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার লোককে বিভিন্ন উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে এনে রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজনকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বাগেরহাট

আম্পানের প্রভাবে বুধবার সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে বাগেরহাটে। থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। ক্রমেই বেড়ে চলেছে বাতাসের তীব্রতা। জোয়ারের পানি বাড়ার সঙ্গে নদ-নদীতে উত্তাল রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগি একাকার দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। জোয়ারে বলেশ্বর নদীর পানি বেড়ে ইতোমধ্যে এই এলাকায় পানি ঢুকেছে। এতে কমপক্ষে ১০টি গ্রামের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় মোজাম্মেল হক জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় বিগত দিনে সিডর ও আইলায় এই অঞ্চলের মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের গ্রাম অন্তত ১০টি গ্রাম ভেসে যাবে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ধেয়ে আসার খবরে এলাকার মানুষের মাঝে ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, সাউথখালী ইউনিয়নের বগি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের স্থানে কাজ চলছে। পরিস্থিতি আগের থেকে অনুকূলে রয়েছে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন, বাগেরহাটের ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। এরমধ্যে শরণখোলার বগি এবং মোরেলগঞ্জের পঞ্চকরণ ইউনিয়নের কিছু এলাকা রয়েছে।

কোথাও কোথাও বেরিবাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপছে পড়েছে। ওইসব এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোথাও বেরিবাঁধ ভাঙারর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নদী উত্তাল

বাগেরহাটের প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৫ হাজার গবাদি পশু নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুল ইসলাম এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলায় রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, সিপিপির মোট ১১ হাজার ৭০৮ জন স্বেচ্ছাসেক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮৫টি মেডিক্যাল টিম। এ জেলার জন্য ২০০ মেট্রিকটন চাল, নগত ৩ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লাখ, গো খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দিয়েছেন।

মোংলা

১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতেও মোংলায় জনমনে আতঙ্ক নেই। ভোর থেকে থেমে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও বাতাসের তীব্রতা নেই তেমন। নদীতে স্বাভাবিকের চাইতে তিন থেকে চার ফুট পানি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান। তার মধ্যেই বুধবার সকাল থেকেই দোকানিরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বৃষ্টির মধ্যেও দোকান খোলা

এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে লোকজনকে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। পৌর শহরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে খুব বেশি লোকজন দেখা না গেলেও লোকজন উঠেছে গ্রামের সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে। বুধবার বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার ১০৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩০ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত মান্নান।

তিনি বলেন, এখনও যারা আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি তাদেরকে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় আনা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান জানান, মোংলায় আটটি মেডিক্যাল টিমসহ এক হাজার ৮৩৫ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বন্দরে ১০ নম্বর সংকেত জারির পর বুধবার জরুরি বৈঠকে বসে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বৈঠক থেকে বন্দর চ্যানেলে যেসব বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছিল সেসব জাহাজ নিরাপদে নোঙর করার ব্যবস্থাসহ বন্দরের পাইলটদের ছুটি বাতিল করে তাদেরকে প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন।

তিনি বলেন, ঝড় পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতায় বন্দরে ছোট বড় ১০টি উদ্ধারকারী জাহাজও প্রস্তুত রেখেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সাংকেতিক তিন পতাকা

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ৫৩ হাজার উপকূলবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। জেলার প্রায় ৪ হাজার ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এসব মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন। উপকূলের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে এখনও মাইকিং অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান। 
তিনি বলেন, ‘আম্পান মোকাবিলায় আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকার ৫৩ হাজার ৮১৪ জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। অন্যদেরও আনার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। সব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন।


এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে সেজন্য আমরা একজন থেকে অন্যজনকে ৩ ফুট দূরত্ব রেখে অবস্থান করার পরামর্শ দিচ্ছি। আর আশ্রয়কেন্দ্রে তারা যতক্ষণ থাকবেন, ততক্ষণ মাস্ক পড়ে থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। যাদের মাস্ক নেই আমরা তাদের মাস্ক সরবরাহ করার চেষ্টা করছি।’
আম্পান মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি নগরীতে নগর পুলিশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও কাজ করছে। নগর পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে উপকূলীয় ও পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা কবলিতদের সেবায় তারা একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে। যেকোনও সহযোগিতার জন্য পুলিশের এই কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য মাইকিং চলছে
অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে আছে। এছাড়া ভারী বর্ষণ হলে কিছু ওয়ার্ডে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটতে পারে।
এ সম্পর্কে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘যেসব ওয়ার্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে আছে সেইসব উপকূলীয় এলাকার লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করবেন তারা যেন কোনও ধরনের বিড়ম্বনায় না পড়েন সেজন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আলো ও টয়লেটের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।

নাটোর

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে নাটোরে শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার কিছু আগে থেকেই মেঘলা আকাশ আর মাঝে মাঝে সামান্য বৃষ্টি হলেও বুধবার তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন জানান, বর্তমানে এই অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮ কিলোমিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৮ মিলিমিটার।  

 

/এসটি/

লাইভ

টপ