অন্য কোম্পানির কেনা জমি দেখিয়ে সাহেদ লিখেছিল ‘ফিল্ড ভিজিট’

Send
আবদুল আজিজ, কক্সবাজার ও আসাদুজ্জামান, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত : ২০:১৭, জুলাই ১১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৩, জুলাই ১২, ২০২০

কক্সবাজারে পুরনো রিজেন্ট কোম্পানির জমির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে সাহেদের নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট

রিজেন্ট গ্রুপ নামে একটা প্রতিষ্ঠান দেশের আইন কানুন মেনে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮১ সালে। সে প্রতিষ্ঠানের আর সব ব্যবসায়ের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ের জন্য কেনা হয় কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি উল্টো পাশে কিছু জমিও। ২০১৫ সাল সেই একই নামে আরেকটি কোম্পানি খোলেন মো. সাহেদ নামে আরেক ব্যক্তি। সম্প্রতি  ‘প্রতারণার’ জন্য আলোচিত এই সাহেদের প্রতারণার আরেকটি নজির হয়ে এসেছে পুরনো রিজেন্ট কোম্পানির জমির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে নিজের ফেসবুক পেজে আপলোড করা একটি পোস্ট। সেই পোস্টে সাহেদ ওই ছবির ক্যাপশন দিয়েছেন ‘ফিল্ড ভিজিট’। সমালোচকরা বলছেন, আরেক কোম্পানির জমি অনুমতি ছাড়া ‘ফিল্ড ভিজিট’ লিখে ভিন্ন কোনও প্রতারণার ছক কষতে চেয়েছিলেন সাহেদ। তবে এর তীব্র আপত্তি জানিয়েছে জমির প্রকৃত মালিক রিজেন্ট গ্রুপ। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন আগে রিজেন্ট গ্রুপ নামে জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্জে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার পরেও একই নামে অন্য কোনও ব্যক্তি কী করে তার কোম্পানির নামকরণ করতে পারে সে প্রশ্নও তুলেছে তারা।

এদিকে, জানা গেছে, সাতক্ষীরাতেও বিয়ে করেছিলেন সাহেদ, তবে তার ‘প্রতারক’ পরিচয় বুঝতে পারায় তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন তার সাবেক স্ত্রী। বখে যাওয়ার কারণে বাবার সঙ্গে সম্পর্কেও ছিল টানাপড়েন।

কক্সবাজারে সাইনবোর্ডের সামনে ছবি তুলে প্রতারণা

কক্সবাজারের স্থানীয়রা বলছেন, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোডের পূর্ব পাশে উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইমামের ডেইল এলাকায় রিজেন্ট গ্রুপের সাইনবোর্ড লাগানো কিছু জমি রয়েছে। সেই সাইনবোর্ডের সামনে একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন  আলোচিত সাহেদ। রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারির পর তার সেই ছবিটি এখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজারেও সাহেদের জমির খোঁজ পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে অনেকে ওই ছবিটি দেখিয়ে দাবি করলেও বাস্তবতা হচ্ছে এই  ‘রিজেন্ট’ সেই ‘রিজেন্ট’ নয়। ওই জমিতে যাদের সাইনবোর্ড সেই ‘রিজেন্ট গ্রুপ’-এর মালিক সাবেক রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামের গোলাম আকবর খন্দকার। তিনিই জমিগুলোর প্রকৃত মালিক ‘প্রতারক’ মো.সাহেদ নন।  আর এতেই প্রকাশ পেয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যে রিজেন্ট গ্রুপ দুইটি। প্রথমটির রেজিস্ট্রেশন অনেক আগের হলেও সাহেদ সেই নামে রেজিস্ট্রেশন করেছেন অনেক পরে।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী নিজের ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘‘মেরিন ড্রাইভ রোডের ইমামের ডেইল এলাকায় ‘বাটপার’ শাহেদের তোলা ছবিটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এটাও একটা বড় বাটপারি। এই জমিগুলোর প্রকৃত মালিক আসল ‘রিজেন্ট গ্রুপ ’ যার অফিস ঠিকানা- ডেল্টা ডালিয়া, কামাল আতাতুর্ক রোড, বনানী, ঢাকা। অথচ আলোচিত সাহেদের ‘রিজেন্ট ২ নম্বর রিজেন্ট। তার অফিসের ঠিকানা -উত্তরা, ঢাকা। আসল ‘রিজেন্ট গ্রুপ- এর মালিক সাবেক রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামের গোলাম আকবর খন্দকার। আমার জানামতে, গোলাম আকবর খোন্দকার সাহেবের ‘রিজেন্ট গ্রুপ ’ কোম্পানিটি ১৯৮৮ইং সালে রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে নিবন্ধনকৃত। দীর্ঘদিন এই কোম্পানি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ২০১৪/২০১৫ইং দিকে হঠাৎ জনৈক শাহেদ ‘রিজেন্ট গ্রুপ’ নামে আর একটি কোম্পানির জন্মদান (প্রতিষ্ঠা)- করে যা বেআইনি ও ফৌজদারি আপরাধ। এই প্রক্ষাপটে ২০১৫ইং সালের অক্টোবর মাসে গোলাম আকবর খোন্দকার আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে শাহেদের দুই নম্বর ‘রিজেন্ট গ্রুপ’ বরাবরে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। কিন্তু সাহেদ ক্ষমতাশালীদের কাছের মানুষ হওয়ায় আইনের তোয়াক্কা না করে ‘রিজেন্ট গ্রুপ ’ নাম দিয়েই  তার কুকর্মগুলো চালিয়ে আসছিল।  সাহেদ যে কত বড় বাটপার ও দুই নম্বর আদম, তা ইমামের ডেইলে গোলাম আকবর খোন্দকারের আসল ‘রিজেন্ট গ্রুপের’ জমির সাইন বোর্ড ব্যাগগ্রাউন্ড রেখে তোলা ছবিখানায় তার প্রমাণ। পাঠকের কাছে প্রশ্ন রইল, আপনার বাড়িকে ব্যাকগ্রাউন্ড রেখে ছবি তুলে আমি কি বাড়ির মালিক হতে পারি?’’

জানতে চাইলে সরওয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি সরকারের আমলে এ ধরনের একটি প্রতারক চক্র থাকে। তাদের কাজ হচ্ছে যে দল সরকার গঠন করে ক্ষমতায় যায়, নানা কৌশলে সে দলের আস্থাভাজন হয়ে প্রতারণা করা। যার উদাহরণ সাহেদ নিজেই। এই রকম সাহেদ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। না হলে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।’

উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইমামের ডেইল গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিউল আলম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সাহেদ নামের কেউ জমি ক্রয় করেছে বলে মনে হয় না। আমি যতটুক জানি চট্টগ্রামের গোলাম আকবর খন্দকার তার নিজস্ব কোম্পানি রিজেন্টের নামে বেশ কিছু জমি গুলো ক্রয় করেছেন। এখানে আমরা গোলাম আকবর খন্দকারের জমি আছে বলে জানি, সাহেদের নয়।’

একই এলাকার ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলম বলেন, ‘রিজেন্ট যে জমিগুলো ক্রয় করেছে সেটি আমার একদম বাড়ির পাশে। রিজেন্ট গ্রুপের লোকজন জমিগুলো ক্রয় করেছেন কোম্পানির কর্ণধার গোলাম আকবর খোন্দকারের নামে। এখানে সাহেদ নামে কাউকে কোনোদিন দেখা যায়নি। শুধুমাত্র সাহেদের ছবিটি দেখেছি আমরা।’

এদিকে, ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রথম রিজেন্ট গ্রুপ এর ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যরিস্টার আকবর খন্দকার অনলাইনে একটি ভিডিওর মাধ্যমে সাহেদকে প্রতারক দাবি করে তার শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একই নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান করে সাহেদ তাদের প্রতিষ্ঠানের নানা উদ্যোগকে নিজের বলে চালানোর ব্যবস্থা করছিলো। সে কারণে পুরোনো এই রিজেন্ট গ্রুপ তাকে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছিল। ভিডিওবার্তায় আকবর বলেন, ফেক রিজেন্ট গ্রেুপের ওয়েবসাইটে গেলে দেখা যাবে সাহেদ আমাদের অঙ্গ প্র্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ব্যবহার করছে। ২০১৫ সালে সাহেদ কক্সবাজারের ইনানিতে আমাদের জায়গার সামনে দাড়িয়ে ছবি তোলেন এবংছবি আপলোড দেওয়ার সময় ক্যাপশনে লেখেন ‘প্রজেক্ট ভিজিট’ । তার উদ্দেশ্য ভাল না সেটা স্পষ্ট । তা নাহলে অন্যের জমিতে গিয়ে কেউ প্রজেক্ট ভিজিট কেন লিখবে।  তিনি আরও বলেন, ২০১৫ তেগুলশান ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে দুজন ব্যক্তি নিজেকে রিজেন্ট গ্রুপের পরিচালক পরিচয় দেয়। যাদের আমি চিনি না। পরে জানতে পারি ২ কোটি টাকা করে উত্তরার রিজেন্ট গ্রুপের সাহেদকে দিয়েছেন, তাদের কাগজ দেওয়া হয়নি।। পরে বুঝলাম  সাহেদ বাটপারি করে ব্যবসা চালায়। 

বখে যাওয়ায় স্কুল পাসের আগেই সাহেদকে ঢাকায় পাঠানো হয়

সাহেদের মা শাফিয়া করিম রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বাবা সিরাজুল করিম পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। সাতক্ষীরা শহরে একটা মার্কেটা আর মাছের ঘের ছিল তাদের। তবে একমাত্র ছেলের আচার ব্যবহার নিয়ে সিরাজুল করিম কখনোই সন্তুষ্ট ছিলেন না। স্কুল পাসের আগেই সাহেদ বখে যাওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ তথ্য জানিয়েছেন সাতক্ষীরায় সাহেদের প্রতিবেশী সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিবেশী ডা. আফতাবুজ্জামান।

তবে এসএসসি পরীক্ষা সাতক্ষীরা থেকেই দিয়েছিল সাহেদ। তাতে ফার্স্ট ডিভিশনও পেয়েছিল। তার বন্ধুরা এ তথ্য জানালেও  এরপর আর সে লেখাপড়া করেছিল কিনা তা কেউ জানে না।

তবে ওই বয়স থেকেই প্রতারণা ছিল তার স্বভাবগত বিষয়। প্রতারণা করে দুই বছর হাজতবাস করেছে এমন তথ্যও জানান প্রতিবেশী ডা. আফতাবুজ্জামান। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এমন ভুয়া পরিচয় দিয়ে নিজের ভিজিটিং কার্ড বানানোর অভিযোগ তোলেন সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী। 

সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিবেশী ডা. আফতাবুজ্জামান বলেন, সাহেদের পূর্বপুরুষরা ভারত থেকে জমি বিনিময় করে এসেছিল। আমাদের বাড়ির পাশের বিশাল এলাকা জুড়ে ছিল ওদের বসত বাড়ি এবং করিম সুপার মার্কেট নামে একটি মার্কেটও ছিল। সেই নামে মার্কেট এখনও আছে তবে অন্য ব্যক্তির মালিকানায়। ওর দাদা আব্দুল করিম তথ্য অফিসার ছিলেন। তবে সাহেদের বাবা কোনও চাকরি করতো না। দোকানের ভাড়া এবং উপকূলীয় এলাকায় মৎস্য ঘেরের আয়ের ওপর সংসার চালাতেন। বর্তমানে তাদের কোনও সম্পত্তি সাতক্ষীরাতে নেই।

বাবার সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েন

তিনি আরও বলেন, সাহেদ ছোটবেলা থেকেই দুষ্টু প্রকৃতির ছিল। বাবা-মায়ের কথা শুনতো না। ওর কারণে ওদের সংসারে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। সে কারণে এসএসসির আগেই ওকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয় তারা। এক আত্মীয়র বাসায় থেকে লেখাপড়া করতো। ছোটবেলা থেকেই ধূর্ত ছিল। ওর (সাহেদ) কথা খুব একটা বিশ্বাস করতাম না। অনেক আগে আমার কাছে মাঝে মাঝে ফোন করতো।

তিনি আরও বলেন, ওর বাবা সিরাজুল করিম ওকে খুব ভালো নজরে দেখতো না। তবে মা শাফিয়া করিম ওকে (সাহেদ) কিছু টাকা পয়সা দিয়ে সার্পোট করতো। সে কারণে সাহেদের বাবা এবং মায়ের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকতো।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী জানান,  সাহেদের মা মারা যাওয়ার কিছুদিন পর ওর বাবা সিরাজুল করিম (২০১৪/২০১৫ সাল) সাতক্ষীরায় যা সম্পত্তি ছিল সব বিক্রি করে ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনেন এবং সেখানে আবার বিয়ে করেন। সাহেদের সঙ্গে ওর বাবার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল না। সে বাবার সঙ্গে থাকতো না, আলাদা থাকতো। বাড়িসহ শহরের সম্পত্তি বিক্রি করা টাকা হয়তো সাহেদ পায়নি। তবে উপকূলীয় এলাকার মৎস্যঘের ও জমা জমি বিক্রির টাকা কিছু হয়তো পেয়েছিল। তখন ওর মা বেঁচে ছিলেন, তিনি কিছু টাকা হয়তো দিয়েছেন। সাহেদ ঢাকায় যা করেছে প্রতারণা বা বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে করেছে। মাঝে মধ্যে সিরাজুল করিম আমাকে ফোন করতো। তখন নানা আক্ষেপ করতো ছেলেকে নিয়ে।

করিম সুপার মার্কেট 

ধূর্ততা ও হাজতবাস

 তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালের দিকে ৬০টি এসি কিনে ভুয়া চেক প্রদান করে সেই কোম্পানিকে কিন্তু তার অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা ছিল না। পরে তাদের টাকা না দিয়ে পালিয়ে যায়। কোম্পানির নাম সঠিক মনে নেই, হতে পারে ট্রান্সকম। এ ঘটনায় সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং ধরা পড়ে সে দুই বছর হাজত বাস করে।

তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর আগে সাতক্ষীরায় এসে আমাকে একটি কার্ড দিয়ে বলে চাচা ঢাকায় আসলে দেখা করবেন। কার্ডে লেখা ছিল প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তখন ওকে (সাহেদকে) জিজ্ঞাসা করি তুমি আবার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলে কবে? …তখনই বাটপার ছিল।

ডা. আফতাবুজ্জামান আরও বলেন, মাঝে মধ্যে ওকে টকশোতে দেখে অবাক হতাম। এই ধূর্ত ছেলেটি টকশোতে সততার কথা বলছে! এর আগে বেশ কয়েকবার জেল খেটেছে সে। আমার জানা মতে সাহেদের বিরুদ্ধে ৩০টার অধিক মামলা আছে।

সাহেদ স্কুলে ফেল করেছে একাধিকবার

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাহেদের এক সহপাঠী বলেন, আমাদের কয়েক বছর সিনিয়র ছিল। বেশ কয়েকবার ফেল করে । আমি ওর সঙ্গে ক্লাস সেভেন থেকে পড়াশুনা করেছি। ছোটবেলা থেকেই একটু দুষ্টু প্রকৃতির ছিল। ওর কারণে ওদের পরিবারে অশান্তি লেগে থাকতো। এসএসসির আগেই ওকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। তবে স্কুল ছিল সাতক্ষীরায়। পরীক্ষার সময় এখানে এসে পরীক্ষা দিয়ে যায়। এসএসসি পর ঢাকায় আবারও লেখাপড়া করতে গেলেও কী করেছে তা জানি না।

সাতক্ষীরায় বিয়ে

সাতক্ষীরায় সাহেদ বিয়ে করেছিল। তবে তা টেকেনি। বিষয়টা জানেন তাদের প্রতিবেশী সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ডা. আফতাবুজ্জামান এবং তার ওই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্ধু।

এ বিষয়ে তার বন্ধু বলেন, কয়েক বছর আগে সাতক্ষীরার একটি মেয়েকে বিয়ে করেছিল শাহেদ। কিন্তু মেয়ে এবং তার পরিবার বুঝতে পেরেছিল সে (সাহেদ) একটা প্রতারক। সে কারণে মেয়েটি বাধ্য হয়ে ওকে তালাক দেয়।

আর প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাতক্ষীরার শহরে সে একটি বিয়ে করেছিল। কিন্তু সেটা বেশিদিন টেকেনি। ওই মেয়ে এখন আবারও বিয়ে করে সুখে আছে। তাই ও বিষয়ে কোনও কথা বলবো না।

রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও প্রতারণা

সাহেদ তার ফেসবুক পেজে নিজেকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এটাও একটি বড় প্রতারণা। কারণ দলে তার এমন কোনও পদ নেই। এছাড়াও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ডা. আফতাবুজ্জামানের বর্ণনা অনুযায়ী নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে ভিজিটিং কার্ড তৈরি করেছিলেন তিনি যা বিস্ময়কর প্রতারণার শামিল। তবে প্রতারণার অভিযোগে এক সময় জেলে যাওয়া সাহেদ প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্যের’ জোরে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটিতেও পদ পেয়ে গিয়েছিলেন ঠিকই। সাহেদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের ছবি যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে, তেমনি বিএনপি আমলের কয়েকজন হোমড়া চোমড়ার সঙ্গে তার ছবি আর পেপার ক্লিপিং বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

বলা হচ্ছে, যুদ্ধাপরাধে ফাঁসিতে ঝোলা জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলী এবং দুর্নীতির দায়ে জেলে থাকা গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা ছিল সাহেদের। তাকে হরহামেশাই অতিথি করে আনা হতো টেলিভিশনের টক শোতে। অনেক সাংবাদিক তার প্রশংসায় ফেসবুকে পোস্ট দিতেন। তার পৃষ্ঠপোষকতার জন্য কয়েকজন সাংবাদিককে এখন সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে নমুনা টেস্ট না করেই রোগীদের করোনার রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ পায় তারা। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ, এমডি মাসুদ পারভেজসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ ঘটনায় ৯ জন গ্রেফতার হয়। তবে সাহেদ এখনও পলাতক। হাসপাতাল দুটি ও রিজেন্ট গ্রুপের অফিস সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যাব।

/টিএন/

লাইভ

টপ