ফের পানিতে তলিয়েছে সুনামগঞ্জ

Send
হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত : ০১:৩৯, জুলাই ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৫, জুলাই ১২, ২০২০

ফের উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। জেলার সবকটি উপজেলার গ্রামীণ হাটবাজার ও বাড়িঘর নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ধর্মপাশাসহ জেলার ১১ উপজেলা ও চারটি পৌরসভার বয়স্ক নারী, পুরুষ ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। প্রতিটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো কয়েক ফুট পানির নিচে। উপজেলা ও জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে চলছে নৌকা।

প্লাবিত এলাকার গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন সমস্যায়। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে গোখাদ্য, খড়ের বড় বড় পিরামিড পানির নিচে। নদীর পানি বাড়ায় জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক ও জামালগঞ্জ উপজেলার। সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মধ্যবাজার, পশ্চিমবাজার, সাববাড়িরঘাট এলাকার প্রধান সড়কগুলোতে এখন নৌকা চলছে। শহরের কাজীর পয়েন্ট, উকিল পাড়া, ষোলঘর, নবীনগর, ধোপাখালী, মল্লিকপুর, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, ওয়েজখালী, কালীপুর হাছনবসত, শান্তিবাগ, মরাটিলা, টিলাপাড়া, নুতনপাড়াসহ ৯টি ওয়ার্ডের সবকটি আবাসিক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার সড়কগুলো ৫ থেকে ৮ ফুট পানির নিচে রয়েছে। সুরমা নদীর ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রবল বেগে শহরে পানি ঢুকেছে। সকাল থেকে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হতে হতে ঘণ্টার মধ্যে পুরো শহর পানিতে তলিয়ে যায়।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে শুরুতে প্লাবিত হয় উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন। পানিবন্দি হয়ে পড়েন হাজার হাজার মানুষ। প্রথম দফার বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতেই শুরু হয়ে গেছে দ্বিতীয় দফা। এতে হাওর এলাকায় মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল বলেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর, রঙ্গারচর লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন। এসব এলাকার পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি। আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে ত্রাণের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সুরমা নদীর পানি আজ সন্ধ্যা ৬টায় ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে পানি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এতে হাওর ও নদনদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে।

জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, বন্যার কারণে ২৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এক হাজার ৩৪৪টি পারিবারের পাঁচ হাজার ২৭৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ৮৫০ জন পুরুষ, এক হাজার ৮২১ জন নারী ও এক হাজার ৬০৫ জন বিভিন্ন বয়সী শিশু-কিশোর।

জেলার ৮১টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভার ২০ ওয়ার্ডে ৭০ হাজার ৩২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৩৩৭ মেট্রিক টন চাল, ২০ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা ও ৩৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, আশ্রয়কেন্দ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও প্রয়োজনীয় ওষধপত্রসহ মেডিক্যাল টিম কাজ করছে বলে জানান তিনি। /

/আরআইজে/টিটি/

লাইভ

টপ