নির্দেশ অমান্য করে স্কুল ও মাদ্রাসায় চলছে নিয়মিত পাঠদান

Send
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশিত : ২৩:২৮, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫২, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

চলছে ক্লাস করোনা মহামারির কারণে গত ১৭ই মার্চ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে যা আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে। কিন্তু সরকারের নির্দেশনাকে অমান্য করে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় বেশ কিছু কিন্ডারগার্টেন ও একটি ক্যাডেট মাদরাসায় সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে  নিয়মিত পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীদের কারোই মুখে মাস্ক নেই একই বেঞ্চে ৩ জন করে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের চৌধুরানী বাজারের জিনিয়াস কোচিং সেন্টার, তছিরুন্নেছা কিন্ডারগার্টেন, অন্নদানগর ইউনিয়নের মোমিন বাজারে অবস্থিত আল হেলাল ক্যাডেট মাদ্রসায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ইচ্ছামতো তাদের স্কুল ও মাদ্রাসা পরিচালনা করছেন। সেখানে গিয়ে দেখা গেল এক বেঞ্চে পাশাপাশি তিনজন করে শিক্ষার্থীকে পাশাপাশি গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখারও প্রয়োজন মনে করছেননা তারা। শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানায় তাদের বাবা মাকে জোর করে স্কুলে আসতে বাধ্য করেছে কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে আল হেলাল ক্যাডেট মাদরাসার পরিচালক মাওলানা ইসরাফিল আলম হেলালী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। কারণ আমার মাদ্রাসায় হেফ্জ বিভাগ চালু থাকায় মাদরাসা খোলা রেখেছি। অথচ আল হেলাল ক্যাডেট মাদরাসার প্রতিটি ক্লাস পরিদর্শনে দেখা যায়, হেফ্জ পাঠদানের পরিবর্তে সরকারি সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান চলছে। ওই মাদ্রসায় পিএসসি পরীক্ষার জন্য ১৫ জন ও জেডিসি পরীক্ষার জন্য ৮ জন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।

একইভাবে জিনিয়াস কোচিং সেন্টারের পরিচালক সাব্বির আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, আমার কোচিং সেন্টার ৩ দিন পূর্বে বন্ধ করে দিয়েছি। অথচ সরেজমিনে গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২ ঘটিকায় সেখানে দেখা যায় প্রতিষ্ঠাটিতে নিয়মিত পাঠদান চলছে। তছিরুন্নেছা কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক পিনু বলেন, আমরা শুধু প্রাইভেট পড়াচ্ছি। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও নিয়মিত ক্লাস চলছে। কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, মুখে মাস্ক পরা এসব কিছুই মানছেনা।

এ  বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ সুজা মিয়া বলেন, যদি কেউ সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরেও প্রতিষ্ঠান চালায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অন্যদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুর রহমান কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ব্যাপারে বলেন, আগামী ৪ অক্টোবর ২০ ইং পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরেও যদি কেউ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাইলেও কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীদের স্বজন ও এলাকাবাসী।

/এফএএন/

লাইভ

টপ
X