কবর থেকে রায়হানের লাশ তুলেছে পিবিআই

Send
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:৩৮, অক্টোবর ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৯, অক্টোবর ১৫, ২০২০

কবর থেকে রায়হানের লাশ তুলেছে পিবিআইসিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে পিবিআই এর একটি দল আখালিয়া এলাকার নবাবী মসজিদের পঞ্চায়েতের গোরস্থান থেকে তার লাশ তোলার কাজ শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজিব আহমেদ ও মেজবাহ উদ্দিনের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলনের পর পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পুলিশের পাহারায় নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন পিবিআই তদন্ত কর্মকর্তা মাহিদুল হাসান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান।কবর থেকে রায়হানের লাশ তুলেছে পিবিআই

জানা গেছে, পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বাতেন। তার আবেদন আমলে নিয়েই রায়হান আহমদের মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দেন জেলা প্রশাসক। পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে বর্তমানে এই মামলাটির তদন্ত করেছে পিবিআই। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাতেই এই মামলার নথি পিবিআই'র কাছে হস্তান্তর করে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেট জেলা পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রায়হানের লাশ তোলা হয়েছে। লাশ তোলার পর সুরতহাল করা হয়। এরপর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠানো হয়। সেখানে মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের পর তার ময়নাতদন্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ এই হত্যা মামলায় অজ্ঞাতদের গ্রেফতার করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া তদন্তকালিন সময়ে যাদের সংশ্লিষ্টতা পিবিআই পাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।রায়হান উদ্দিন

উল্লেখ্য,রায়হানের স্বজনদের অভিযোগ, গত ১০ অক্টোবর বিকালে বন্দরবাজার থানা পুলিশ রায়হানকে আটক করে। ওইদিন রাতে ফাঁড়িতে তার ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ। তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করে। ভোরে অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে ছেলের ফোন পান রায়হানের বাবা। তাতে ওই ফাঁড়িতে তাকে আটকে রেখে ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানান রায়হান। বাবাকে টাকা নিয়ে এসে তাকে উদ্ধারের অনুরোধও করেন তিনি।

ছেলেকে বাঁচাতে ভোরে তার বাবা টাকা নিয়ে ওই ফাঁড়িতে গেলে তাকে জানানো হয়, রায়হান এখন ঘুমাচ্ছে, সকাল ১০টার দিকে আসতে হবে। পরে সকালে এলে তাকে বলা হয় সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে যেতে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তার ছেলে মারা গেছে। এরপর মৃত ছেলের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পান তিনি।

রায়হানের হাতের নখগুলোও উপড়ানো ছিল। পুলিশ দাবি করে, রায়হানকে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে জনতা গণপিটুনি দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের ফুটেজে এর কোনও প্রমাণ মেলেনি।এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া

১১ অক্টোবর সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ওই দিনই তার লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।

রায়হানকে পুলিশ হেফাজতে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনাটি রবিবার থেকেই গণমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। সোমবার এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

এই ঘটনার পর থেকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন-

এসআই আকবরের টর্চার সেলের নাম ‘ভিআইপি রুম’!

মোবাইল নম্বরটি কার?

রায়হানের লাশ তুলে ফের ময়নাতদন্ত করবে পিবিআই

পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু: ৪ পুলিশ বরখাস্ত, ৩ জনকে প্রত্যাহার

পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

গণপিটুনির প্রমাণ মেলেনি সিসিটিভি ফুটেজে, দাবি কাউন্সিলরের

পুলিশ হেফাজতে যুবককে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ

 

 

/এফএস/

লাইভ

টপ