নীলফামারীতে অবাধে পাখি শিকার

নীলফামারী প্রতিনিধি
১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৪আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৪৫

 

নীলফামারীতে ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ও পরিযায়ী পাখি শেষ কার্তিক আর অগ্রহায়ণের শুরুতে ধানক্ষেতে জমে থাকা পানিতে মাছ শিকার ও পোকা খেতে ভিড় জমায় বিভিন্ন ধরনের পরিযায়ী ও দেশি পাখি। তবে পেশাদার শিকারিদের পাতা ফাঁদে এবং শখের শিকারিদের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে প্রকৃতির প্রাণ এসব পাখি। পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় পাখি শিকার নিষিদ্ধ হলেও নীলফামারী সদরসহ ছয় উপজেলার খাল-বিল, নদীতে অবাধে চলছে পাখি শিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিক নজরদারি ও সচেতনতার অভাবে বেড়েছে পাখি শিকার।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার পর নীলফামারীর নদী-নালা ও বিভিন্ন জলাশয়ের পানি কমতে শুরু করে। এ সময় জলাশয় ও আমন ধানের জমিতে মাছ ও পোকা খেতে ভিড় জমায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। তখন শিকারিদের হাতে মারা পড়ে এসব পাখি। স্থানীয় হাটবাজারে ফাঁদে ধরা পড়া পাখি ফেরি করে বিক্রি করতে দেখা যায়।

ভোরের দিকে ধানের জমিতে পাতা হয় পাখি ধরার ফাঁদ জেলা শহরের মিলন পল্লি এলাকার ধানের জমিতে বক ধরার ফাঁদ পাতার সময় কথা হয় শিকারি হানিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, শীতের সময় মাঝে মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ফাঁদ পেতে পাখি ধরে স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, শিকার না করার বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও প্রচারণা নেই। এটা যে দণ্ডনীয় অপরাধ, তাও তিনি জানেন না।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, পাখি শিকার ও নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও আইনের সঠিক বাস্তবায়ন ও সচেতনতার অভাবে খাল-বিলে ছুটে আসা নানা প্রজাতির পাখি মারা পড়ছে। এসব পাখি ফেরি করে বিক্রি করা হচ্ছে স্থানীয় হাট-বাজারেও। এতে নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

প্রায়ই শখের শিকারিদের বন্দুক হাতে পাখি শিকার করতে দেখা যায় তিনি আরও বলেন, একশ্রেণির লোভী মানুষ এলাকার বিভিন্ন খাল-বিলে নানাভাবে পাখি শিকার করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করছে। ভোররাত থেকে তারা পাখি শিকার করে। আমাদের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার জন্য পাখি বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।

পাখি শিকার রোধের বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী বন কর্মকর্তা মাহবুবর রহমান জানান, লোকবল সংকটের কারণে সবদিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয় না। তাছাড়া সরকারিভাবে পরিবহন সুবিধাও নেই। তারপরও পাখি শিকার বন্ধে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, পাখি শিকার জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চলছে। কোনও শিকারি হাট-বাজারে যাতে পাখি বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি চলছে।

/টিটি/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
দায়িত্ব ছাড়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়া প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেফতার ২
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেফতার ২
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী