বিরক্তিকর মনে হওয়ায় মাস্ক পরি না

হিলি প্রতিনিধি
১২ জুন ২০২১, ১৭:৩৩আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ১৭:৩৬

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে দিন দিন করোনা সংক্রমণের হার বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না মানুষ। হাটবাজার ও রাস্তাঘাটে অধিকাংশ মানুষ মাস্ক না পরেই চলাচল করছে। এতে সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছে সবাই। মাস্ক পরে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়, অতিরিক্ত গরম লাগে এমন নানা অজুহাতে মাস্ক পরছে না হিলিতে বাজার করতে আসা মানুষজন।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিলিতে আগে কম থাকলেও এখন করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে প্রতিদিন। গত ১০ দিনে ২১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে হিলিতে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৭ জন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। ৯৬ জন সুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে রোগী আছেন ২১ জন। হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরা ছয়জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ছাড়াই বাজার করতে এসেছেন। মাস্ক না পরার নানা অজুহাত দেখান তারা। দোকানগুলোতে গাদাগাদি করে পণ্য কিনছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই, দেশে করোনা মহামারি চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি নেই। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

হিলি বাজারে পণ্য কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা খুব বেশি। মাস্ক পরে থাকলে অতিরিক্ত গরম লাগে। মাস্ক পরে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। বিরক্তিকর মনে হওয়ায় মাস্ক পরি না।

বাজারে আসা তার মতো অধিকাংশ মানুষ মাস্ক না পরেই ঘোরাফেরা করছেন। দু-একজন মাস্ক পরলেও থুতনিতে নামিয়ে রেখেছেন। কেউ কেউ পকেটে রেখেছেন।

হিলিতে দিন দিন করোনা সংক্রমণের হার বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানছে না মানুষ

মাস্ক পরেননি কেন জানতে চাইলে হিলি বাজারের ভ্যানচালক খালেদ হোসেন বলেন, আমি নিয়মিত মাস্ক পরি। পান খাচ্ছি, এজন্য খুলে ভ্যানে ঝুলিয়ে রেখেছি।

হিলি বাজারের ব্যবসায়ী আজম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সবসময় মাস্ক পরি। কিন্তু বাজারে আসা মানুষজন মাস্ক পরে না। মাস্ক না পরেই কেনাকাটা ও ঘোরাফেরা করছেন তারা।

তিনি বলেন, মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় কয়েকদিন ধরে হিলিতে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। ভারত থেকে প্রতিদিন দেড়-দুইশ ট্রাক ঢুকছে। ট্রাকের সঙ্গে তিনশ-চারশ লোকও ঢুকছেন। তারা বন্দরের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন, ঘোরাফেরা করছেন। এতে সংক্রমণের হার বাড়ছে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নূর-এ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বন্দর দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলছে। প্রত্যেক ট্রাকচালকের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ, মাস্ক পরা নিশ্চিত, জীবাণুমুক্ত করে ভারত থেকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভারত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষাসহ ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। যাদের করোনা ধরা পড়ে তাদের আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন, নিয়মিত মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মানুষ যাতে মেনে চলে; তা আমরা নিশ্চিত করছি। একই সঙ্গে করোনার লক্ষণ থাকলে যেন পরীক্ষা করে সেজন্য পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছি।

/এএম/
সম্পর্কিত
আগে স্বাবলম্বী ছিলাম, মন্ত্রী হওয়ার পরে অর্থকষ্টে আছি: ডা. জাহিদ
সরকারের লক্ষ্য জনগণকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করা: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
হিলি স্থলবন্দরে ৭ দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রফতানি
সর্বশেষ খবর
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম