ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন বলেছেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই। একজন ছোট ভাই হিসেবে আজ আমার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ভাষা সত্যিই জানা নেই। তবে গর্বে বুকটা ভরে যায়।’
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
ফয়সল আমীন বলেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘার কোল ঘেঁষে এই ঠাকুরগাঁওয়ের শিকড় থেকে শেখড়ে উঠে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজকের দিনটি শুধু একটি সংবর্ধনার দিন নয়, এটি আমাদের জন্য ইতিহাসের একটি বিশেষ দিন। কারণ আজ ঠাকুরগাঁও তার একজন সন্তানকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বরণ করে নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘একজন ছোট ভাই হিসেবে আজ আমার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ভাষা সত্যিই জানা নেই। ছোটবেলার কত স্মৃতি, কত পথচলা, কত গল্প সবকিছু আজ যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছে। যে মানুষটিকে আমরা ঘরের বড় ভাই হিসেবে দেখেছি, আজ তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন। একজন ভাই হিসেবে এর চেয়ে বড় গর্ব আর কী হতে পারে।’
মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘এই শহরের অলিগলি, এই মাটির গন্ধ, এই আকাশের আলো, এই মানুষগুলোর মুখ সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের শৈশব। জড়িয়ে আছে আমাদের স্মৃতি, আমাদের ভালোবাসা। মানুষ যত বড় পদেই অধিষ্ঠিত হোক, যত দূরেই চলে যাক, জন্মভূমির টান কখনও শেষ হয় না। হৃদয়ের গভীরে নিজের মাটির জন্য একটি জায়গা চিরকাল থেকে যায়।’
রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি, এই মাটিতেই আপনার শিকড়। এই মানুষের ভালোবাসাই আপনার পথচলার শক্তি। এই জন্মভূমি আপনাকে পরিচয় দিয়েছে, মানুষের জন্য কাজ করার প্রেরণা দিয়েছে। আজ আপনি রাষ্ট্রপতি কিন্তু আমাদের কাছে আপনি সেই আগের মানুষটিই। আমাদের পরিবারের বড় ভাই, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রিয় স্যার।’
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘একজন নেতা হিসেবে আপনাকে নিয়ে আমাদের গর্ব হয়। আর একজন ছোট ভাই হিসেবে সেই গর্বের সঙ্গে মিশে থাকে অন্যরকম এক আবেগ। কখনও কখনও চোখের কোনে জলও চলে আসে। কারণ বড় ভাইকে দেশের সর্বোচ্চ আসনে দেখে গর্বিত হওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষক থেকে আজ বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনার এই দীর্ঘ পথচলার প্রতিটি ধাপে ঠাকুরগাঁওবাসী আপনাকে ভালোবেসেছে। আমাদের পরিবারের প্রতিটি মানুষ আপনাকে নিয়ে গর্ব করে। আমরা গর্ব করি, এই মাটিও গর্ব করে।’
সবশেষে বড় ভাইয়ের কাছে দোয়া চেয়ে ফয়সল আমীন বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আপনি আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আপনার দেখানো পথে, আপনার আদর্শ ও মানুষের জন্য কাজ করার যে শিক্ষা আপনি দিয়েছেন, সেই পথে যেন আমরা এগিয়ে যেতে পারি। আপনার এই অর্জন শুধু আমাদের পরিবারের নয়, এটি পুরো ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের গর্ব।’









