X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাবির যত আয়োজন

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:৪৯

দেশের প্রথম ও প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। হাঁটি-হাঁটি, পা-পা করে শতবর্ষ পার করেছে দেশসেরা এই বিদ্যাপীঠ। পা রেখেছে প্রতিষ্ঠার ১০১তম বর্ষে।

১ জুলাই, ২০২১ শতবর্ষ পূর্ণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে করোনার ভয়াল থাবায় শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। মহামারি প্রকোপ কমার পর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ১ ডিসেম্বর উদযাপন শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শতবর্ষ উদযাপন। ওই দিন কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ এবং ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি এ কে আজাদ।

ঢাবির শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ যত আয়োজন

শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বেশ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রয়েছে চার দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের।

পাঁচ দিনব্যাপী আলোচনা সভা

শতবর্ষ উপলক্ষে রয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী আলোচনা সভা। প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা সভায় ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ এফ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, দি ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার। আলোচনা সভায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। 

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঢাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক এবং বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু।

ঢাবির শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান তৃতীয় দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার ও অনারারি অধ্যাপক ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ বক্তব্য রাখবেন।

চতুর্থ দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহাদত আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদাকে চৌধুরী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার অংশগ্রহণ করবেন।

পঞ্চম দিন ১২ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এক বিজয়র‍্যালি অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে বের হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হবে। ওই দিন বিকালের আলোচনা পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদের সভাপতিত্বে রেল মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক এ আর এম মনজুরুল আহসান বুলবুল অংশগ্রহণ করবেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। উদ্বোধনী দিনসহ ২, ৩, ৪ ও ১২ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। প্রথিতযশা শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ এবং নৃত্যকলা বিভাগের শিল্পীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করবেন।

উদ্বোধনী দিন ১ ডিসেম্বর একক আবৃত্তি পরিবেশনা করেন ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, সংগীত পরিবেশনা করেন ঢাবির সংগীত বিভাগ, নৃত্য পরিবেশনা করেন ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগ, বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিলেন ভারতীয় শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য। শিল্পী হিসেবে এ দিন আরও অংশগ্রহণ করেন সামিনা চৌধুরী, সৈয়দ আব্দুল হাদী, ফরিদা পারভীন, ফাতেমা তুজ জোহরা।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় একক আবৃত্তি করেন ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ও অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা, নৃত্য পরিবেশন করেন শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়, সংগীত পরিবেশন করে ঢাবির সংগীত বিভাগ। শিল্পী হিসেবে এ দিন আরও অংশগ্রহণ করেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, ইয়াসমীন মোস্তারী, ফাহমিদা নবী, কুমার বিশ্বজিৎ।

ঢাবির শতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নাটক পরিবেশন করবে ঢাবির থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ, নৃত্য পরিবেশন করবেন ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগ। শিল্পী হিসেবে এ দিন অংশগ্রহণ করবেন অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানা চৌধুরী, সুজিত মোস্তফা, রফিকুল আলম, শুভ্র দেব, বাপ্পা মজুমদার।

অনুষ্ঠানের চতুর্থ দিনে ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশন করবে ঢাবির সংগীত বিভাগ এবং ঢাবি অফিসার্স ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। নৃত্যনাট্য চণ্ডালিকা পরিবেশনা করবে ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগ। শিল্পী হিসেবে এ দিন অংশগ্রহণ করবেন নাদিরা বেগম, কিরণ রায় ও শারমিন সুলতানা সুমি। থাকবে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল চিরকুট।

শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন

শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে প্রতিযোগিতার। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে আলোকচিত্রী প্রতিযোগিতা। বাচাইকৃত একশ’ শিক্ষার্থীর ছবি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনী। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও দেশপ্রেম নিয়ে কবি ও রচনা

প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। এগুলোও গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সমাপ্তি ঘোষণা

আগামী ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৭টায় মহান বিজয় দিবসে উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করবেন। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘লেজার শো’ আয়োজন করা হবে। এরই মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে ঢাবির শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানের।

 

 

/আইএ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সহ-অধিনায়ক হয়ে পাকিস্তান দলে শাদাব
সহ-অধিনায়ক হয়ে পাকিস্তান দলে শাদাব
চলাচলের রাস্তায় দেয়াল, ২০ দিন ধরে অবরুদ্ধ এক পরিবার
চলাচলের রাস্তায় দেয়াল, ২০ দিন ধরে অবরুদ্ধ এক পরিবার
জালিয়াতির মামলায় আমান গ্রুপের ৩ ভাই কারাগারে
জালিয়াতির মামলায় আমান গ্রুপের ৩ ভাই কারাগারে
একই কারাগারে থাকলেও দেখা হবে না প্রদীপ-চুমকির
একই কারাগারে থাকলেও দেখা হবে না প্রদীপ-চুমকির
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত