ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার দলীয় প্রতীক অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের চাপে। একেবারে সরকার প্রধান থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত এটি নিয়ে নানান মতামত চলছে।
যদিও ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ বলতে কাউকে সেভাবে শোনা যাচ্ছে না। এমনকি প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সর্বোচ্চ ব্যক্তটিও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন। তারও আগে প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রযন্ত্র, জামায়েতে ইসলামও প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে চলেছেন। বিপরীতে ‘না’ নিয়ে অনেকের আগ্রহ থাকলেও সেটি নিয়ে খুব বেশি প্রকাশ্যে কথা বলতে শোনা যায় না।
এমন যখন পরিস্থিতি, তখন রীতিমতো চমকে দিলেন কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান জানালেন। দাঁড়ালেন ‘না’ ভোটের পাশে।
নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডলে একটি ছবি প্রকাশ করে ন্যানসি সাফ জানিয়ে দিলেন ‘না’ ভোটের সঙ্গে আছেন তিনি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে সবুজ কালিতে লেখা ‘হ্যাঁ’ কাটা আর লাল কালিতে ‘না’ জ্বল জ্বল করছে। সঙ্গে একটা বিস্ময়কর চিহ্ন। ক্যাপশনে অবশ্য কিছুই লেখেননি গায়িকা।
তার এমন প্রকাশ্য সিদ্ধান্তে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা; নেটিজেনদের একাংশ তাকে তীব্র সমালোচনার মুখেও ফেলেছেন। মন্তব্যের ঘরে অনেকে প্রশ্ন করেছেন, যেখানে আপনার লিডার (তারেক রহমান) ‘হ্যাঁ’ বলেছেন, সেখানে আপনি কেন ‘না’?
এসবের অবশ্য জবাব দেননি ন্যানসি। এই ফাঁকে বলা দরকার, ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ন্যানসি বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিএনপি মনোভাবের কথা প্রকাশ্যে জানানোর কারণে গত ১৫ বছরে ন্যানসির ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সময় প্রতিকূলতা এসেছে, বাতিল হয়েছে একাধিক কনসার্টও। তবু তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াননি।
এমনকি শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকা যখন রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া আর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন অতীতে, তখন ন্যানসি প্রশ্ন তুলেছিলেন—‘শিল্পীদের এত এমপি-মন্ত্রী হওয়ার আগ্রহ কেন? এমপিদের বেতন কত? গান বা অভিনয় করে কি সম্মানি পাওয়া যায় না?’
ন্যানসি মনে করেন, আদর্শ বাদ দিয়ে শুধু লোভের বশে রাজনীতিতে নাম লেখানো উচিত নয়।








