যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি শিশুদের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এই বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের (এএপি) একটি সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার প্রধান লেখক ড. রোহিত শেনই বলেন, পানিতে ডোবার সময় প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত উদ্ধার এবং কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়ার ওপরই নির্ভর করে জীবন, মৃত্যু কিংবা আজীবন পঙ্গুত্বের পার্থক্য।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান, যার বেশিরভাগই প্রাপ্তবয়স্ক। তবে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ পানিতে ডোবা এবং ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম শীর্ষ কারণ।
একটি বেদনাদায়ক পারিবারিক ট্র্যাজেডির ঘটনা এই ঝুঁকিকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। মার্কিন সুপারমার্কেট চেইন স্টু লিওনার্ডস-এর প্রধান নির্বাহী স্টু লিওনার্ডের ২১ মাস বয়সী ছেলে স্টুই ১৯৮৯ সালে একটি দ্বীপে পারিবারিক ছুটির দিনে সুইমিং পুলে ডুবে মারা যায়। শিশুটির মা কিম লিওনার্ড বলেন, সেখানে একদল মানুষ ছিল, অথচ সবাই ভেবেছিল অন্য কেউ বুঝি তাকে দেখছে। সবাই যখন পাহারা দেয়, তখন আসলে কেউই দেখে না।
এই ঘটনার পর থেকে দম্পতিটি একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন, যা শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং পানিতে ডোবা প্রতিরোধে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০০৪ সালের দিকে শিশুমৃত্যুর এই হার কমে গেলেও পরবর্তীতে তা আবার বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে ২০১৯ সালে ৭৫৬ জন শিশুর মৃত্যু থেকে সংখ্যাটি বেড়ে ২০২৪ সালে ৮৬৫ জনে দাঁড়ায়, যার বেশিরভাগেরই বয়স ছিল ৫ বছরের নিচে। করোনা মহামারির কারণে সাঁতারের প্রশিক্ষণ বন্ধ হওয়া এবং লাইফগার্ডের ঘাটতিকে এর বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
পানিতে ডোবা প্রতিরোধে চিকিৎসকেরা কিছু বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
সাঁতার শেখানো: অন্যান্য খেলার চেয়ে শিশুদের আগে সাঁতার শেখানো অত্যন্ত জরুরি।
সরাসরি নজরদারি: পানির কাছে শিশু থাকলে মোবাইল ফোন ব্যবহার, বই পড়া বা আড্ডায় মশগুল থাকা যাবে না।
নিরাপত্তা বেষ্টনী: সুইমিং পুলের চারপাশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়, এমন গেটসহ শক্ত বেড়া দেওয়া প্রয়োজন।
স্টু লিওনার্ড মনে করিয়ে দেন, চোখের পলকেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অবহেলা না করে প্রতিটি অভিভাবককে পানির কাছাকাছি শিশুদের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: এপি

বেবি বুমারদের ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ, শেষ পর্যন্ত যাচ্ছে কার হাতে
ভারতের ‘ডিমের রাজধানী’ কোন শহর







