বিদ্রোহীদের ঐক্য মিয়ানমার জান্তার পতনের চাবিকাঠি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:৪০আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:১৭

মিয়ানমারের বিভিন্ন জায়গায় জান্তা বিরোধী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে। সেই সঙ্গে শক্তি বাড়াচ্ছে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন। এসব গোষ্ঠী জান্তা সরকারের সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই পরিস্থিতিতে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর ঐক্য মিয়ানমারের জান্তা সরকার পতনের মূল চাবিকাঠি হতে পারে বলে মনে করছেন বিদ্রোহীরা। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

তিন বছরের মাথায় মিয়ানমারের শান ও রাখাইন প্রদেশে তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়েছে জান্তা সরকার। সেখানে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স নামে পরিচিত তিনটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। গ্রামাঞ্চল থেকে মায়ানমারের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্বে শহরের দিকে যাচ্ছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। তাই পালিয়ে বাঁচার পথ খুঁজছে সামরিক বাহিনী।

আল-জাজিরার প্রতিদেবন অনুযায়ী, কারেন রাজ্যে সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলার কারণে এলাকাটি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। যার ফলে সেখানে চাকরি ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের জান্তা সরকার বিভিন্ন জায়গায় নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

এসব হামলা প্রতিরোধে এবার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধেই অক্টোবর থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে দুটি শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীসহ মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ)। এরা থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স নামে পরিচিত। 

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চি সরকারের পতনের পর থেকেই এক হওয়ার চেষ্টা করছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এরা ইতোমধ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব বিজয় অর্জন করেছে।

কোকাং মিয়ানমার ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ), তায়াং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) ও আরাকান আর্মির (এএ) সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এই থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স। তারা এক সঙ্গে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে।

এই জোটের পক্ষে লড়াই করেছে বামা পিপলস লিবারেশন আর্মি (বিপিএলএ), কমিউনিস্ট সংগঠন পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ও মান্দালায় পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (এমএনডিএফ)।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ বেসামরিক সরকারের আইনপ্রণেতা ও রাজনীতিকদের নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্য সরকারের (এনইউজে) প্রতি এই অ্যালায়েন্সের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ কিংবা শত্রুতার’ সম্পর্ক নেই। এই অ্যালায়েন্সভুক্ত সংগঠনগুলো অভ্যুত্থানের পর থেকে জান্তার বিরুদ্ধে লড়লেও তারা নিজেদের ‘আঞ্চলিক স্বার্থের’ বাইরে অন্য কোনও কিছু করে না।

এছাড়া দেশটির সামরিক অভ্যুত্থান নেতা মিন অং হ্লাইং-এর পক্ষে আর লড়াই করতে ইচ্ছুক নয় মিয়ানমারবাসী। কারণ ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশজুড়ে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অবিরাম নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু তারা মিয়ানমারকে সামরিক শাসন থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝে।

/এসএইচএম/
সম্পর্কিত
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী