ভারতের সংসদে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই নতুন রাজ্যসভা সদস্যদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনযাপন থেকে শুরু করে রাজনীতি; বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় তিনি জানান, বিছানায় যাওয়ার মাত্র আট সেকেন্ডের মধ্যেই তার ঘুম চলে আসে। আর দিনে তিনি ঘুমান মাত্র তিন ঘণ্টা।
বুধবার সকালে নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের নতুন রাজ্যসভা সদস্যদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত আচরণ, রাজনৈতিক কাজের ধরন এবং বিরোধী দলের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে নানা পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি নতুন সংসদ সদস্যদের নিজস্ব লেটারহেডের অপব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি টেলিফোনে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভদ্র আচরণ করতে বলেন। বিরোধী দলসহ সব সহকর্মীর কাছ থেকেই শেখার মানসিকতা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রুটিন সম্পর্কে জানতে চাইলে মোদি বলেন, তিনি বিছানায় যাওয়ার আট সেকেন্ডের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন। দিনে তিন ঘণ্টা ঘুমালেও কাজে তার কোনও সমস্যা হয় না।
কাজে সফল হতে বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগী থাকার গুরুত্বও তুলে ধরেন মোদি। সম্প্রতি আম আদমি পার্টি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া অশোক মিত্তালকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এখন আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। তাই অন্য কিছু ভাবছি না। আমি যে মুহূর্তে যেখানে থাকি, সেই মুহূর্ত নিয়েই ভাবি।’
বিদেশ সফরে জেট ল্যাগ কীভাবে সামলান, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানে ওঠার পরই তিনি হাতঘড়ির সময় গন্তব্য দেশের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে নেন। এতে সময়ের পার্থক্যজনিত সমস্যায় পড়তে হয় না। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নতুন সংসদ সদস্যদের সতর্কও করেন মোদি। তার ভাষায়, ‘দিল্লি একটি বিপজ্জনক জায়গা।’
৩০ জনের বেশি নতুন সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘লুটিয়েন্স জোনে সাবধানে থাকবেন। ষড়যন্ত্রের জাল থেকে সতর্ক থাকুন। কার সঙ্গে দেখা করছেন, কোথায় দেখা করছেন এসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন।’
গত জুনের নির্বাচনের পর রাজ্যসভায় আসা নতুন সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ওই বৈঠকে বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীনসহ ক্ষমতাসীন জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আগের অধিবেশন ও বর্তমান অধিবেশনের মধ্যবর্তী সময়ে আম আদমি পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেডির কয়েকজন সদস্য দল ছেড়ে এনডিএ জোটে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে আম আদমি পার্টির রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে সাতজন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনীত সদস্য সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রকাশ চিক বারাইক রয়েছেন।

হিজবুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, প্রত্যাখ্যান করে লেবানন
নবজাতককে স্বর্ণের আংটি, কনেকে রেশমি শাড়ি: বিজয়ের প্রথম বাজেটে আছে আরও চমক
ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও খুলবে না হরমুজ প্রণালি: ইরান







